Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট, ২০১৮ ২০:৪৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০১৮ ২০:৪৯
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বিঘ্ন
চাপ বেড়েছে লঞ্চ ও স্পীডবোটে
মাদারীপুর প্রতিনিধি
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বিঘ্ন

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে  শুধুমাত্র এ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি হালকা যানবাহন নিয়ে ৪-৫টি কে-টাইপ ফেরি ও ছোট ফেরি চলাচল করছে। আপতত রো রো ও ডাম্ব ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।  এ রুটের ৩টি রো রো ফেরিসহ ৪টি ফেরি পাটুরিয়া রুটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে এ রুটে সপ্তাহ খানেক ধরে আটকে পড়া পন্যবাহী যানবাহনগুলোকে অন্য রুটে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বেশকিছু ট্রাক অন্যত্র চলে গেলেও অসংখ্য ট্রাক এখনো পুরাতন কাওড়াকান্দি ঘাটের সড়কে অবস্থান নিয়েছে।  অন্যদিকে ফেরিতে অচলাবস্থার কারণে যাত্রীর চাপ বেড়েছে লঞ্চ ও স্পীডবোটে।

বিআইডব্লিউটিসি'র কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানায়, পদ্মায় তীব্র স্রোতের সাথে প্রচুর পরিমানে পলি আসায় নৌ রুটজুড়ে ডুবোচর সৃষ্টি হয়ে প্রায় ১ মাস ধরে ফেরি পারাপার বিঘ্নিত হচ্ছিল। বিকল্প চ্যানেল চালু করে ওয়ান ওয়ে পদ্ধতিতে ধারনক্ষমতার কম যানবাহন নিয়ে ফেরি চললেও নাব্যতা সংকট দ্রুত প্রকট রুপ নেয়। ফলে 
লৌহজং টার্নিং ও বিকল্প চ্যানেলের কয়েকটি পয়েন্টে পানির গভীরতা এতই কমে গেছে যে ফেরিগুলো সেখানে আটকে যাচ্ছে। তাই শনিবার সন্ধ্যা থেকে এ রুটের সকল ফেরি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।  গত রাতে ৩টি ফেরি শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে এসেও পার হতে ব্যর্থ হয়। নাব্যতা সংকট নিরসনে নদীতে ৭ টি ড্রেজার দিয়ে খনন কার্যক্রম চললেও তীব্র স্রোতে খনন কাজ ব্যহত হচ্ছে। সোমবার বেলা ৩ টা থেকে হালকা যানবাহন নিয়ে ৪-৫টি কেটাইপ ফেরি চলাচল শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো রো রো ও ডাম্ব ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ রুটের ৩টি রো রো ফেরিসহ ৪টি ফেরি পাটুরিয়া রুটে স্থানান্তর করা হয়েছে। 

বিআইডব্লিউটিসির কাঠালবাড়ি ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ঘাটের সহকারী ম্যানেজার মো. মমিন উদ্দিন বলেন, ৩ টি কে-টাইপ ও ৩ টি ছোট ফেরি জরুরি ও হালকা যানবাহন নিয়ে চলছে। আটকে থাকা ট্রাকগুলোকে অন্য রুটে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। 

বিআইডব্লিউটিএর উপ পরিচালক আজগর আলী বলেন, নাব্যতা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই আমরা বিকল্প চ্যানেল প্রস্তুত করেছিলাম। কিন্তু সেই চ্যানেলটিও দ্রুত ভরে যাচ্ছে। খননের চাইতে পলি পড়ার গতি বেশি। এছাড়া তীব্র স্রোতও রয়েছে। তারপরও আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 

বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ১০ আগষ্ট  ফারাক্কা বাধ খুলে দেয়ায় নদীতে অস্বাভাবিক হারে স্রোত বেড়ে গেছে। পদ্মা সেতুর পাইলিং এর কারণেও পলি দ্রুত আসছে। এছাড়া উজানে ব্যাপক নদী ভাঙ্গণে পলি একসাথে চ্যানেলগুলোতে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা ৩টি শক্তিশালী ড্রেজার যোগ করছি। আশাকরি শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে ।  


বিডি প্রতিদিন/১৪ আগষ্ট ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow