Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ২০:১৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৩১
ভারতীয় গরু নিয়ে খামারিদের দুশ্চিন্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
ভারতীয় গরু নিয়ে খামারিদের    দুশ্চিন্তা
ফাইল ছবি

বরিশাল জেলায় বড়-ছোট সাড়ে ৪ হাজার খামারে মোটাতাঁজা করা ৩০ হাজার কোরবানির ষাড় গরু নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন খামারিরা। গত প্রায় ৯ মাস ধরে লালন-পালন করা এসব ষাড় গরু এখন কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলের আরো অন্তত অর্ধ লক্ষধিক ষাড় গরু এখন কোরবানির হাটে যাওয়ার অপেক্ষায়। 

বছরব্যাপী ষাড় লালন-পালন করে এখন লাভের আশায় উদ্যোক্তারা। তবে ভারতীয় গরু কোরবানির বাজারে প্রবেশ করলে দেশীয় এসব গরুর দাম মার খাবে বলে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন খামারিরা। 

বরিশাল সদর উপজেলার তালুকদারহাট এলাকার বেকার যুবক আল-আমিন ২ বছর আগে গরুর খামার করেছেন। গত বছর প্রথমবারের মতো তার ফার্মে পরিচর্যা করা ২৬টি ষাড় গরু নিয়ে ভালো লাভের আশায় গিয়েছিলেন কোরবানীর হাটে। কিন্তু ভারতীয় গরুর দাপটে স্বল্প লাভ নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছিলো তাকে। ওই বছরই তিনি বিভিন্ন বাজার থেকে ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ২৯টি দেশীয় ষাড় গরু কেনেন পরবর্তী কোরবানীর হাটের জন্য। দির্ঘ ৯ মাসে এসব গরুর পরিচর্যায় তার আরও ব্যয় হয়েছে অন্তত ১০ লাখ টাকা।  দু'জন কর্মচারী সহ নিজে দিন-রাত পরিশ্রম করে ভালো ভালো খাবার খাইয়ে মোটা-তাঁজাকরন করা ২৯টি ষাড় গরু নিয়ে এখন কোরবানির হাটের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। ভারতীয় গরুর দাপট না থাকলে এবার দেশীয় ষাড় দিয়ে মোট অংক লাভের আশা ফার্মের মালিক আল-আমিনের। 

আল-আমিনের খামারে মোটা-তাঁজা করা এসব গরু লালন-পালন করা হয়েছে সম্পূর্ন দেশীয় পদ্ধতিতে। এসব গরুকে খাওয়ানো হয়নি কোন কীটনাশক কিংবা কোন রাসায়নিক ঔষধ। তাই এই গরুর মাংশ একেবারে দেশীয় গরুর স্বাদ পাওয়া যাবে বলছে খামারের কর্মচারীরা।  আবার এই খামারে কেউ গরু কিনতে আসলে তাদের জন্য নানা সুবিধার কথা জানিয়েছেন ওই ফার্মের এক কর্মচারী। 

স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক রিয়াজ হোসেন জানান, সরকার যদি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষন এবং সহজ শর্তে ঋন দেয় তাহলে অনেকেই গরুর খামার করতে আগ্রহী। ব্যাপকভাবে খামার হলে অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে আর গরু আনতে হবে না, বরং বাংলাদেশের গরু বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা যাবে বলে মনে করেন সাংবাদিক রিয়াজ। 

তালুকদারহাটের আল-আমিনের খামার দেখে স্থানীয় আরও অনেকেই গরুর খামার করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন ওই গ্রামের প্রবীণ বাশার হাওলাদার। 

বরিশাল জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল আলম জানান, জেলার ৪ হাজার ৫শ’ ২৬টি খামারে অন্তত ৩০ হাজার গরু এবারের কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত। এছাড়া চরাঞ্চলে রয়েছে আরও অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক গরু। স্থানীয় গরু দিয়েই বরিশালের কোরবানির হাটের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার। তাই দেশের বাইরে থেকে যাতে কোন গরু আসতে না পারে সে জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করার কথা জানান তিনি। 

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow