Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:১৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ২২:১৪
রাজবাড়ীতে 'গলাকেটে হত্যা' আতঙ্ক
কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর:
রাজবাড়ীতে 'গলাকেটে হত্যা' আতঙ্ক
প্রতীকী ছবি
bd-pratidin

গলাকেটে হত্যায় রাজবাড়ী জেলাজুড়ে বর্তমানে আতঙ্কজনক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত পনের দিনের ব্যবধানে এক শিশুসহ চার নারীকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সন্দেহজনক ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের কাছ থেকে তেমন কোন তথ্য উদঘাটন করা যায়নি। যে চারজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে সবগুলো হত্যাকাণ্ড একই ধরনের বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এসব খুনের পেছনে একই চক্র জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

এদিকে পনের দিনের ব্যবধানে চারজনকে গলাকেটে হত্যার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশ প্রশাসনকে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামে গলাকেটে হত্যা করা হয় হাজেরা বেগম (৫২) নামের এক নারীকে। নিহত হাজেরা বেগমের পুত্রবধূ স্বপ্না জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে সে তার ছেলেসহ শাশুড়ি একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান ঘরের আলো নেভানো এবং তার শাশুড়ির শরীরে রক্ত। এসময় তিনি চিৎকার দিলে পাশের ঘরে থাকা শ্বশুড়সহ অন্যান্যরা ছুটে এসে দেখেন হাজেরা বেগমের গলাকাটা লাশটি খাটের উপর পড়ে আছে। লাশের শরীরের বেশকিছু স্থানে জখমের চিহৃ রয়েছে। 

স্বপ্না আরো জানান, তার শরীরেও জখমের চিহ্ন রয়েছে। তবে কি কারণে হাজেরা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে তা তার পরিবারের সদস্যরা জানাতে পারেনি। এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। এর আগে ৩ আগষ্ট সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মুলঘর গ্রামে দাদি ও নাতনীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন- দাদি শাহিদা বেগম ও নাতনী লামিয়া আক্তার। শাহিদা বেগমের ছেলে শহিদুল ইসলাম জানান, হত্যার আগে শাহিদাকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শহিদুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হিসাবে দুইজনকে আটক করে। দাদী ও নাতনীকে গলাকেটে হত্যার পর একই কায়দায় গত ৮ আগষ্ট বানিবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামে আদুরী বেগম নামের এক নারীকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আদুরীর স্বামী মিজানুর রহমান অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করে। 

রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি খান মোহাম্মদ জহুরুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজবাড়ী জেলায় গলাকেটে যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে তাতে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের গলাকেটে হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এসব খুনের ঘটনার সাথে যারাই জড়িত রয়েছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা দরকার। 

রাজবাড়ী জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী লাইলী নাহার বলেন, মহিলাদের গলাকেটে একের পর এক হত্যার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। অতি দ্রুত ঘাতকদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিতে হবে। নইলে মহিলাদের মধ্যে যে আতংক বিরাজ করছে তাতে করে আমরা কেউই নিরাপদ বোধ করছি না।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক কামাল বলেন, হাজেরা বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। তবে এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, আগের তিনটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ রহস্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে। ঔ তিনটি খুনের ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতাদের আটকের চেষ্টা চলছে। যারা এসব খুনের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের দ্রুতই  গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। 


বিডি প্রতিদিন/১৭ আগষ্ট ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow