Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট, ২০১৮ ১০:০১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:০৭
খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ৭, আহত ৩
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ৭, আহত ৩
bd-pratidin

খাগড়াছড়িতে  প্রতিপক্ষের গুলিতে (ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ সমর্থিত) পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) খাগড়াছড়ি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাক মা ও এক পথচারীসহ ৭ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া প্রতিপক্ষের গুলিতে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত তিন জনকে চট্টগ্রাম প্রেরন করা হয়েছে। শনিবার খাগড়াছড়ি সদরের স্বণির্ভর বাজারে এঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপি খাগড়াছড়ি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা, সহ-সাধারণ সম্পাদক এলটন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুবফোরামের সহ-সভাপতি পলাশ চাকমা, মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী জীতায়ন চাকমা, রূপন চাকমা, খাগড়াছড়ি সদরের পেরাছড়া এলাকার বাসিন্দা শন কুমার চাকমা ও বিএসসি প্রকৌশলী পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি গ্রামের ধীরাজ চাকমা। আহতরা হলো পিসিপি কর্মী সোহেল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কর্মী সমর চাকমা ও সখীধন চাকমা।

খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বণির্ভর বাজারে ইউপিডিএফ’র খাগড়াছড়ি জেলা অফিস ও সিএনজি স্টেশন এলাকা থেকে হঠাৎ করে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ইউপিডিএফ কার্যালয় ও আশপাশে অবস্থান কর্মীদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়তে থাকে। এসময় আত্মরক্ষার্থে ইউপিডিএফর লোকজনও গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ জনের মরদেহ এবং ৬ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে।

আহতদের খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি ৩জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্বণির্ভর বাজারের হামলার সময় দৌড়াতে গিয়ে পথে রাস্তার উপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান শন কুমার  চাকমা (৫৫)। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩টা ২৫ মিনিটে শন কুমার চাকমা মৃত্যু হয়। ডা : নয়ন ময় ত্রিপুরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খাগড়াছড়ি সদর ওসি শাহাদাত হোসেন টিটু জানান, শন কুমার পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যান। স্বণির্ভর বাজার এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। ঘটনার পরপর পানছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করায় স্বণির্ভর বাজার বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন গুরত্বর্পূণ এলাকায় যানবাহন চেক করা হচ্ছে।

ঘটনার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করেছেন ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সংগঠক মাইকেল চাকমা।

ইউপিডিএফ মুখপাত্র নিরন চাকমা বলেন, সকালে সাংগঠনিক কাজে স্বণির্ভর বাজারের অফিসে অবস্থান করছিল নেতাকর্মীরা। এসময় জেএসএস এমএন লারমা  (ইউপিডিএফ) গণতান্ত্রিকের ১৫-২০ জনের সশস্ত্র দুইটি গ্রুপ অফিসের সামনে ও আশপাশে ব্রাশফায়ার করে। এতে সংগঠনের ৩ নেতাসহ ৭ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: নয়নময় ত্রিপুরা বলেন, গুলিবিদ্ধ ৯ জনকে হাসপাতালে আনার পর ৬ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে। হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসতা ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ হত্যাকাণ্ড। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।

এর আগে, গত ৪ মে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বেতছড়ি এলাকায় প্রতিপক্ষের ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৫ জন নিহত হয়। ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপকে দায়ী করেছিল।

২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর ইউপিডিএফর ভেঙ্গে কিছু নেতা জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের সাথে মিলে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করে। এর পর থেকে পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ভ্রাতৃঘাতী হত্যাকাণ্ড শুরু হয়।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ। এরপর থেকে পাহাড়ে  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুরো জেলায়।

বিডি প্রতিদিন/১৮ আগষ্ট ২০১৮/হিমেল/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow