Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:১০ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৭
হামলার পর বেদে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে, এলাকা ছাড়ছে অনেকে
আকবর হোসেন সোহাগ, নোয়াখালী
হামলার পর বেদে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে, এলাকা ছাড়ছে অনেকে
bd-pratidin

এক কিশোরের মৃত্যুর গুজবে নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে বেদে পল্লীতে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। ভয়ে অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধায় ঘটনার স্থলে গেলে অনেক বেদে পরিবারকে বাড়ি ঘর ছেড়ে আসবাবপত্র নিয়ে আত্মীয় স্বজনসহ অন্যত্র চলে যেতে দেখা গেছে।

গত শুক্রবার বেদে পল্লীর এক কিশোরী স্থানীয় একটি দোকানে আইসক্রিম কিনতে গেলে দোকানী তাকে অশালীন মন্তব্য করে। এনিয়ে বেদেদের সাথে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় তারেক আজিজ (১৭) নামে এক কিশোর চা দোকানে গরম তেলের কড়াইয়ে পড়ে ঝলসে যায়। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। 

সোমবার তারেকের মৃত্যুর গুজবে বেদে পল্লীতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় লোকজন। বেদেরা অভিযোগ করেন, তাদের ৩২টি টিনের ঘর, ১০টি তাবু ও ২৫টি খুপরি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এছাড়া ১১টি ঘর ও ১১০টি সাপ পুড়ে যায়। হামলায় আহত হয়েছেন ৬ বেদে। 

খবর পেয়ে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের শান্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। 

ঘটনার পর থেকে বেদে পরিবারগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে অনেক পরিবারকে মালামাল নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। ঘটনার সুষ্ঠ বিচার ও এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত বেদে পরিবারগুলো ও এলাকাবাসী। 

জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে গৃহ নির্মাণের জন্য ৩৬ বান্ডেল ঢেউ টিন এবং নগদ তিন হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৬টি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানান, ঘটনার পর বেদে সম্প্রদায় ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

বিডি-প্রতিদিন/১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow