Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৫৪ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:০৫
বঙ্গোপসাগরে জেলেসহ ৬ ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ৩৫
শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট :
বঙ্গোপসাগরে জেলেসহ ৬ ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ৩৫
ফাইল ছবি

বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলে ঝড়ের কবলে পড়ে ৬টি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেছে। এর মধ্যে ৩টি ট্রলারসহ ৩৫ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এই ৩টি ট্রলার মধ্যে বাগেরহাটের শরণখোলার এফবি মারিয়া- ১ নামের ট্রলারের ১৭ জেলের মধ্যে ১৫ জেলেকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় জেলেরা।

বৃহস্পতিবার রাতে উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ঝড়ো বাতাসের টানে ভারতীয় জলসীমার রায়দিঘী এলাকায় চলে যায় এই ট্রলারটি। এখনো এই ট্রলারের ২ জেলে নিখোঁজ রয়েছে। বরগুনার দুটি ট্রলারের মধ্যে এফবি দেলোয়ার মোল্লা ও এফবি হাবিব খলিফা ট্রলারের ৩৩ জেলের এখনো কোন খোঁজ মেলেনি।
মৎস্যজীবী নেতারা জানিয়েছেন বৃহপতিবার রাতে সুন্দরবন উপকূলে ঝড়ের কবলে পড়ে জেলেসহ ৬টি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সুন্দরবন উপকূলের কচিকালীর বাদামতলী এলাকা থেকে এফবি নূর আলম নামের একটি ফিশিং ট্রলারসহ ৮ জেলেকে উদ্ধার করেছে মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জেনের সদস্যরা। মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লে. জাহিদ আল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডুবে যাওয়া এফবি মারিয়া - ১  ট্রলারের জেলেরা হলেন, ট্রলার মালিক শহিদুল ফরাজী (৩৭), আনোয়ার ফরাজী (৪৫), কামরুল ফরাজী (৩৫), কবির হাওলাদার (২৫), আশরাফুল (২২), আলম মিস্ত্রি (৪২), কবির ঘরামী (৩৫), এনামুল (২৩), ইয়াছিন (৪০), শদিুল হাওলাদার (৪০), রাব্বি তালুকদার (১৯), ডাবলু হাওলাদার (২৩), মোদাচ্ছের (৩৫), ইউসুফ (৪০), বাবুল হাওলাদার (৩৮), আলমগীর (৩২) ও রিয়ার (২০)। এসব জেলের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। এদের মধ্যে ১৫ জনকে ভারতীয় একটি ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই জেলে।
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, নিম্নচাপের সংকেত পেয়ে সাগরে মাঝ ধরারত সকল ট্রলার বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই সুন্দরবনসহ উপকূলে ফিরতে শুরু করে। এসময় শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের শহিদুল ফরাজী এফবি মারিয়া-১ ট্রলারটি ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি রায়দিঘী এলাকায় ডুবে যায়। এসময় কাছাকাছি অবস্থানরত ভারতীয় একটি ট্রলার ১৫ জেলেকে উদ্ধার করে। ভারতীয় ওই ট্রলার থেকে রবীন বাবু নামের এক ব্যক্তি শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে মোবাইল ফোনে পিরোজপুরের পাড়েরহাটের মৎস্য আড়ৎদার কমল বাবুকে এ তথ্য জানালে তিনি শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ীদেরকে জানান।
শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী এম সাইফুল ইসলাম খোকন, কবির আড়ৎদার ও জামাল হাওলাদার জানান, বৃহস্পতিবার সাগর থেকে ফেরার পথে মৎস্য ব্যবসায়ী তহিদুল তালুকদারের এফবি আজমীর শরীফ-১, বিলাশ রায় কালুর এফবি সাগর-১, মালেক মোল্লার এফবি শাওন এবং ইউনুচ শিকদারের (নাম জানা যায়নি) ট্রলারসহ ৪টি ট্রলারের কোনো সন্ধান পাওয়ো যাচ্ছেনা।
দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, দুবলার চরের কাছাকাছি মান্দারবাড়িয়া ও ১নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় ৬টি ট্রলার ডুবির খবর পাওয়া গেছে। ট্রলারগুলো কোন এলাকার এবং জলেদের পরিনতি কি হয়েছে তা জানাতে পারেননি।

বাগেরহাটে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, দুর্যোগে সাগর ছেড়ে সহস্রাধিক ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রিত এসব ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেশন ও ক্যাম্পের দায়িত্বরত বনরক্ষীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow