Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:২৬ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৪৬
শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের দায়ে গৃহকর্ত্রী গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের দায়ে গৃহকর্ত্রী গ্রেফতার
শিশু গৃহকর্মী ও গৃহকর্ত্রী শারমিন

গৃহকর্তা আর গৃহকর্ত্রীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী লামিয়াকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। ওই শিশুর সারা শরীর, মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ গৃহকর্তী শারমিন আক্তারকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর পালিয়েছে গৃহকর্তা আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী।

পুলিশ জানায়, বরিশালে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর নোয়াপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র রিক্সাচালক মো. ইকবাল সরদারের ৯ বছর বয়সের শিশু লামিয়া আক্তার পেটের ক্ষুধায় ৬ মাস আগে বরিশাল নগরীতে আসে। মাতৃহীন লামিয়া কাজ পায় নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর মদিনা সড়কের আকাশ মঞ্জিলের ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া শারমিন-আশরাফ দম্পতির বাসায়। প্রথম প্রথম বেশ যত্ন পায় লামিয়া। এরপরই কাজে সামান্য ত্রুটি পেলেই তার ওপর শুরু হয় নির্যাতন। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, বেলন দিয়ে পিটানি, দেয়ালে আছড়ানো, হাত ভেঙে ফেলা, চোখ ওপরে ফেলার চেষ্টাসহ নির্মম নির্যাতন চলে ওই শিশুটির ওপর।

প্রতিরাতে শিশু লামিয়ার কান্না ও চিৎকার শুনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি উড়ো চিঠিতে বিষয়টি নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পৌঁছায়। এরপর গত সোমবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশু গৃহকর্মী লামিয়াকে উদ্ধার করে। 

পুলিশ দেখেই লামিয়ার আর্তনাদ ছিলো, ‘আমাকে বাঁচান’। 

শিশুটির নির্যাতনের বিভীষিকা দেখে অভিযুক্তর বিচার দাবি করেন অভিযানে অংশ নেওয়া গোয়েন্দা পুলিশের নারী সদস্য ফারজানা আক্তারও। তাছাড়া এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন শিশু লামিয়ার স্বজনরা। 

এদিকে ওই শিশুর কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে নির্যাতন করার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত গৃহকর্তী শারমিন আক্তার। এ জন্য অনুতপ্ত তিনি। 

এদিকে ওই শিশুটিকে উদ্ধারের সময় নির্যাতনকারী গৃহকর্তী নাসরিনকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক এবং পরে গ্রেফতার করে। অপর নির্যাতনকারী গৃহকর্তা আশরাফুল ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

এ ঘটনায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই ইউনুস আলী ফরাজী বাদী হয়ে নগরীর বিমান বন্দর থানায় মানব পাঁচার ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের সহকারি কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক। 

উদ্ধারের পরই পুলিশ গুরুতর অসুস্থ্য লামিয়াকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে লামিয়াকে সুস্থ করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

শের-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডা. মো. বাকীর হোসেন জানান, লামিয়ার শরীরে বহু আঘাতের ক্ষত রয়েছে। সে শারীরিক এবং মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার
 

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow