Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:০৬ অনলাইন ভার্সন
সম্পত্তির ভাগ না দেয়ায় ছেলের হাতে পিতা খুন
নরসিংদী প্রতিনিধি
সম্পত্তির ভাগ না দেয়ায় ছেলের হাতে পিতা খুন

নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা ফজলুল করিম (৫৫) খুন হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে শহরের চৌয়ালা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মাসুম মিয়াকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ফজলুল করীম চৌয়ালা মার্কেটে মুদি মালের ব্যবসা করতো। তা দিয়েই  তিন ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে ফজলুল করীমের সংসার চলতো। ৬ বছর আগে ফজলুল করীমের স্ত্রী মারা গেলে তিনি আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী নিয়ে ভালোভাবেই চলছিলো তার সংসার। কিন্তু তাতে বাধা দেয়  ছেলে মাসুম মিয়া। মাসুম চাইতো  বাবা ফজলুর করীম যেন সম্পদের বাটোয়ারা করে দেয়। কিন্তু ফজলুর করীম তা করতে চাননি। এই নিয়ে মাসুম প্রায়ই তার সৎ মায়ের উপর নির্যাতন করতো। এ জন্য ফজলুল করীম তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে প্রায় ৭ মাস তার বাবার বাড়িতে রাখেন। পরবর্তীতে মাসুম কিছুটা শান্ত হলে তিনি তার স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিছুদিন যেতে না যেতেই মাসুম আবার তার সৎ মায়ের উপর অত্যাচার শুরু করেন। এই নিয়ে তার পিতার সাথে গত প্রায় দেড় বছর আগে বাগবিতণ্ডা হয়। ওই সময় মাসুম তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় ফজলুল করীমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ফজলুল করীম মামলা করে ছেলেকে জেলে পাঠান। জেলে বেশ কিছুদিন থাকার পরে পরিবারের অনুরোধে তিনি ছেলেকে জেল থেকে বের করে আনেন। কিছু দিন যেতে না যেতেই মাসুম আবার তার আগের রূপ ধারণ করে। প্রায়ই সৎ মায়ের সাথে ঝগড়া করতো। ঝগড়ার সময় বাবাকে খুন করার হুমকিও দিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

১৫ দিন আগে ফজলুল করীমের শ্বশুর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে যায়। তখন থেকে তিনি সেখানেই থাকতেন। কিন্তু ফোনে সব সময়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ ছিলো। ফজলুল করীমের স্ত্রী স্বপ্না তার সৎ ছেলে মাসুমের ভয়ে তাকে প্রায়ই বলতো আমি যখন বাড়িতে নেই আপনি বাড়িতে থাকবেন না। আপনি দোকানে বা অন্য কোথাও থাকেন। ফজলুর করীমও প্রাণ ভয়ে স্ত্রীর কথা মতো চলতেন। তার মেয়ের জামাই বিদেশ থেকে আসার কথা ছিলো আজ শুক্রবার দুপুরে। তাই তিনি সকালে বাড়িতে যান নিজে তৈরি হয়ে মেয়ের জামাইকে আনতে। কিন্তু তার আর যাওয়া হয়নি। বাড়ি থেকে বের হয়ে অটোতে উঠবেন ঠিক তখন তার ছেলে মাসুম পেছন থেকে শাবল দিয়ে তার ঘাড়ে কোপ দেয়। আর ঘটনাস্থলেই ফজলুল করীমের মৃত্যু হয়। 

নিহতের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকে মাসুমের জন্য শান্তিতে সংসার করতে পারিনি। সে সব সময়ই সম্পদের জন্য আমার স্বামীকে চাপে রাখতো। সে এখন নেশাগ্রস্ত। তাকে সম্পদ বাটোয়ারা করে দিলে সে তা নষ্ট করে ফেলবে। তাই আমার স্বামী তাকে সম্পদ বাটোয়ারা করে দিতে চাইতো না। সম্পদের লোভে পড়েই মাসুম আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, আমরা নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow