Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:১৯ অনলাইন ভার্সন
৪০ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা, ২ জন গ্রেফতার
স্কুলছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টাকারীর বাড়ি-ঘর ভাংচুর, এলাকায় আতংক
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
স্কুলছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টাকারীর বাড়ি-ঘর ভাংচুর, এলাকায় আতংক

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে পাইস্কা উচ্চ বিদ্যলয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রী (১৪) কে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টাকারী পাইস্কা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম ও তার বড় ভাই সুরুজ্জামান ওরফে বুটকালাই সুরুজের বাড়ী-ঘর ভাংচুরের ঘটনায় ধনবাড়ী থানায় ৪০ জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত শফিকুলের ভাতিজা ও সুরুজ্জামানের ছেলে মো. রুবেল মিয়া বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার বাড়ি-ঘর ভাংচুরের অভিযোগে ৪০ গ্রামবাসীর নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করে ধনবাড়ী থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পরই শনিবার ভোরে পুলিশ উপজেলার কয়ড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মজনু ফকির ও সেজনু মিয়া নামে দুই জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় এলাকাবসীর মাঝে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে। 

ধনবাড়ী থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের মৃত আজগর আলী ফকিরের ছেলে পাইস্কা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম (৪২) পাশের বাড়ীর পাইস্কা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া সেই ছাত্রীকে গত ১২ নভেম্বর সোমবার রাতে বাড়ীতে একা পেয়ে পশ্চিম পাশের জঙ্গলে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই স্কুল ছাত্রীর ধস্তাধস্তি ও ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শফিকুল দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। 

ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দফায়-দফায় মিছিল-সমাবেশ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং অভিযুক্ত শফিকুল ও তার ভড় ভাই সুরুজের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করে।  এদিকে ধর্ষণ চেষ্টার এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে ১৪ নভেম্বর বুধবার শফিকুলের বিরুদ্ধে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে পুলিশ রাতেই শফিকুলকে গ্রেফতার করে পরদিন বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল আদালতে চালান করে দেয়। 

অপরদিকে, এ ঘটনায় শফিকুল ও তার বড় ভাই সুরুজের বাড়ী-ঘর ভাংচুরের অভিযোগে ৪০ জন গ্রামবাসী এবং আরও অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) শফিকুলের ভাতিজা মো. রুবেল মিয়া বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় মামলা করেন। পুলিশ এ মামলায় শনিবার ভোরে মজনু ফকির ও সেজনু মিয়া নামে দুই জনকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দিয়েছে। এ ঘটানায় এলাকাবাসীর মধ্যে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে ধনবাড়ী থানার ওসি মজিবর রহমান জানান, স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ভিকটিম ওই স্কুলছাত্রী নিজে বাদী হয়ে এবং ধর্ষণ চেষ্টাকারীর বাড়ী-ঘর ভাংচুরের ঘটনায় তার ভাজিতা মো. রুবেল মিয়া বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছে। ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত শফিকুল এবং বাড়ি-ঘর ভাংচুরের মামলায় মজনু ফকির ও সেজনু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপরে অপরাধী ব্যাতিত নিরীহ কাউকে গ্রেফতার করা হবে না বলেও তিনি জানান।

 


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow