Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:৫৩ অনলাইন ভার্সন
'রায়পুরায় ২ পক্ষের সংঘর্ষের দায় আওয়ামী লীগ নেবে না'
নরসিংদী প্রতিনিধি
'রায়পুরায় ২ পক্ষের সংঘর্ষের দায় আওয়ামী লীগ নেবে না'

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ি ও নিলক্ষায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। ব্যক্তিগত দন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম হিরু (বীর প্রতিক) এই দাবি করেন।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় আটককৃত ১৩ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে রায়পুরা থানা পুলিশ। তবে নিহতের ঘটনায় থানায় এখনো কোন হত্যা মামলা দায়ের করা হয়নি। এদিকে, হত্যা ও সংঘর্ষের ঘটনায় চরাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। থম থমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বলেন,বর্বরতম সংঘর্ষ ও হতাহতের দায় আওয়ামী লীগের নয়। এই দায় আওয়ামীলীগ নেবেন না। শুধু মাত্র স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বার বার এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। তবে আর কোন ছাড় দেয়া হবে না। যারা আওয়ামী লীগের নাম ব্যাবহার করে বাড়ি-ঘরে হামালা পাল্টা হামলা ও টেঁটা যুদ্ধের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে দল থেকে বহিস্কারসহ দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূইয়া,রায়পুরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাদেকুর রহমান,রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান,শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাচ্চু সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে চরাঞ্চলে আলোচিত হচ্ছে, সংঘর্ষের পূর্বে সাহেদ সরকারের সর্মথকরা পুলিশের সাথে সমঝোতা করে মাঠ দখলের লড়াইয়ে নামে। আর এতে পুলিশের সঙ্গে মোটা অংকের টাকার লেনদেন হয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছে। এ কারণেই ভোরে বাঁশগাড়িতে সংঘর্ষের পর তাৎক্ষনিক কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়নি রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন উল কাদির। ফলে সংঘর্ষ দুপুরে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পাশ্ববর্তী নিলক্ষা ইউনিয়নে। কিন্তু পুলিশ সংঘর্ষ না থামিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এতে প্রাণ ঝড়ে ৪ জনের। তবে স্থানীয়দের দাবি, হতাহতের সংখ্যা আরও বেশী। আর এ কারণ পুলিশের অদায়িত্বশীল আচরণকে দায়ী করছে স্থানীয়রা।

শনিবার সকালে রায়পুরা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাফিউল করিম রাফি বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক দুইটি মামলা করেন। সংঘর্ষ শেষে পালানোর সনময় মেঘনা নদীর চরমধুয়া শিকদার বাড়ি ঘাট ও বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের সোবাহানপুর ঘাট থেকে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের পর রাতে নৌকা দিয়ে পালানোর সময় মেঘনা নদীর চরমধুয়া শিকদার বাড়ি ঘাট থেকে বাঁশগাড়ি বালুয়াকান্দি গ্রামের ডা.আমিনুল ইসলাম, লিটন, মঙ্গল মিয়া, মাইনুদ্দিন, রাসেল, মামুন মিয়া, রুবেল মিয়া, সালাউদ্দিন, সবুর উদ্দিন ও জিয়াউদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় তাদের কাছ থেকে একটা দুইনালা বন্দুক, ৬টা একনালা বন্দুক, একটা পাইপগান ও একটা কার্টুজ উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, মেঘনা নদীর বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের সোবাহানপুর ঘাট থেকে গয়েছ আলী, কামাল মিয়া, রানা মিয়া, মোহাম্মদ গজ আলীকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটা এক নলা বন্দুক ও ৬টা কার্টুজ উদ্ধার করা হয়। তারা প্রত্যেকেই চরমধুয়া গ্রামের বাসিন্দা।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন উল কাদির বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে দুটি অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে। হত্যার ঘটনায় এখনো থানায় কেউ মামলা দায়ের করেনি। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, হত্যা ও সংঘর্ষের ঘটনায় চরাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। থম থমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরু এলাকায় জুড়ে। চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকা বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত

আপনার মন্তব্য

up-arrow