Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:১৯ অনলাইন ভার্সন
বগুড়ায় সোনালী রঙের ধানে মাঠ প্রান্তর ভরে উঠেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক , বগুড়া
বগুড়ায় সোনালী রঙের ধানে মাঠ প্রান্তর ভরে উঠেছে

রোদে রোদে রঙ ধরেছে। সেই রঙ হয়ে উঠেছে সোনালী। আর সোনালী রঙের ধানে বগুড়ার মাঠ প্রান্তর ভরে উঠেছে। বাম্পার ফলনের আশায় নিয়ে বগুড়ার চাষিরা আমন ধান কাটতে মাঠে নেমেছে। নতুন ধান ঘরে তুলতে পেরে কৃষকের ঘরে আনন্দের বাতাস লেগেছে। জেলায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। ভাল ফলন পেয়ে আমন চাষিদের ঘরে আনন্দ লেগেছে। জেলায় এবার চাল আকারে ফলন ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। 

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বগুড়া জেলাতে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। গত বছর বন্যার কারণে চাষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ কম হয়। এবছর বন্যা না থাকায় ২০ হাজার হেক্টর বেশী জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এ কারণে জেলায় গত বছরের চেয়ে ফলন বেশি পাচ্ছে বগুড়া। কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের মতে, চাল আকারে ফলন ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। 

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চাষিরা সময়মত চাষ করে এখন ফলন ঘরে তুলতে শুরু করেছে। চলতি বছর চাষিরা ভাল ফলন পেতে যাচ্ছে। অনুকুল আবহাওয়া ও সময়মত সার, বীজ ও পরিচর্যার কারনে ফলন ভালো হয়েছে। জৈব সার এর পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল জাতের আমন চাষ বেশি হয়েছে। এ কারণে জেলায় চাষিরা এবার বাম্পার ফলন পেতে যাচ্ছে। ভাল ফলনের সাথে ভাল দাম পাবে বলে চাষিরা আশাবাদি। আগামজাতের রোপন করা আমন ধান আগামভাবেই কাটা শুরু হয়েছে। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার নিচু এলাকায় ধান কাটছেন কৃষকরা। বর্তমানে কৃষকেরা এ ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছে। ধান বিক্রয় করে কৃষকরা ওই জমিতে আলু ও সরিষা চাষের প্রস্তুতি নেবে। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে বলেও কৃষকরাও জানান। হাটে বাজারে নতুন ধান তেমনভাবে বেচাকেনা শুরু না হলেও কিছু কিছু ধান হাটে উঠতে শুরু করেছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার রনবাঘা, বিজয়ঘাট, ইসুবপুর, হাটলাল, গুছইন, ডেরাহার, শিমলা, ভাটরা, হাটকড়ই, মাটিহাস, বাঁশো, দমদমা, কালা সিংড়া, ভাটগ্রাম, চাকলমা, বীজরুল, পুনাইল, রিধইল, কৈগাড়ী, দোহার, দাশগ্রাম, ধুন্দার, সিংজানি, নুন্দহ, সিধইল, পেংহাজারকি, তুলাশন, কাথম, পৌর শহরের ওমরপুর, নামুইট, ঢাকুইর, বেলঘরিয়া, দামগাড়া, সারিয়াকান্দি, শেরপুর, ধুনট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠগুলোতে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। 

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেজলার চন্দবাইশা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আমন চাষিরা জমির ধান কেটে নিয়ে এসে বাড়ির উঠানে ধান ঝড়িয়ে নিচ্ছে। আর সে কাজে বাড়ির সকলেই সহযোগিতা করছে। আবার দেরিতে চাষের কারণে কিছু কিছু জমির ধানে সোনা রঙ আবার সবুজ হয়ে আছে। তবে সিংহভাগ জমির ধান সোনারঙ ধারণ করে আছে।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমন চাষি আব্দুল হাকিম জানান, এখন হাটে ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা মন। ধানের দাম কম। আরো দাম না বাড়লে ধান বিক্রি করে তেমন একটা লাভ হবে না বলে জানান। 

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এবার বগুড়া জেলাতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়মত বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে জেলায় এবার ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বগুড়ার শেরপুর, নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, ধুনট ও শিবগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ভাল ফলন পাওয়া যাবে। চাষিরা মাঠে মাঠে দান কাটার কাজ করছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পুরো মৌসুম শুরু হয়ে যাবে। জেলার কিছু কিছু হাটে ধান হাটে উঠতে শুরু করেছে। 

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত

আপনার মন্তব্য

up-arrow