Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:১৬ অনলাইন ভার্সন
বগুড়ার মাছের মেলায় ২০ গ্রামের স্বজনদের মিলনমেলা
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
বগুড়ার মাছের মেলায় ২০ গ্রামের স্বজনদের মিলনমেলা

বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলীতে নবান্ন উৎসবে বসেছিলো মাছেরমেলা। মেলায় বিক্রি হয়েছে ২০ কেজি ওজনের বাঘাইড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের হরেক রকম মাছ। বড়বড় বাঘাইড়, রুই-কাতলা ও চিতল মাছগুলো এক হাজার থেকে ছয়শ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও মাঝারি আকারের মাছ তিনশ টাকা থেকে সাড়ে ছয়শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। 

এছাড়া ২০০-৪৫০ টাকা দরে ব্রিগেড ও সিলভার কাপ মাছ বেচাকেনা হয়। প্রায় দুইশ বছরের প্রাচীন উথলী মাছেরমেলাকে কেন্দ্র করে আজ আশেপাশের ২০ গ্রামের স্বজনদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
পঞ্জিকানুসারে আজ ছিল পহেলা অগ্রহায়ণ। এদিন সনাতন ধর্মাম্ববলীরা নবান্ন উৎসব পালন করেন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর মাছের মেলা বসে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলীতে। সনাতন ধর্মাম্বলীদের নবান্ন উৎসব হলেও উথলী, রথবাড়ি, ছোট ও বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদুল্লাপুর, বেড়াবালা, আকনপাড়া, গরীবপুর, দেবীপুর, গুজিয়া, মেদেনীপাড়া, বাকশন, গনেশপুর, রহবল শিবগঞ্জসহ প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে ছিলো উৎসবের আয়োজন। প্রতিটি বাড়িতেই মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের আগে থেকেই নিমন্ত্রণ করা হয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে তারা নতুন ধানে নবান্ন নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠেন।
নবান্ন উপলক্ষে সেখানে মাছের মেলা বসলেও জমি থেকে নতুন তোলা অন্যান্য শাক-সবজির পসরাও সাজানো হয় মেলা চত্বরে। এই মেলায় নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়াও মিষ্টি আলু ও কেশর (ফল) প্রতি কেজি দেড়শ' টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
মাছ বিক্রেতা কালাই উপজেলার হারেজ আলী জানান, মেলায় ছোট-বড় মিলে দেড় শতাধিক মাছের দোকান বসেছে। প্রত্যেক বিক্রেতা অন্ততঃ ৬ থেকে ১০ মণ করে মাছ বিক্রি করেছেন। মেলায় মাছ সরবরাহের জন্য ২০টি আড়ত খোলা হয়। সেসব আড়ত থেকে স্থানীয় বিক্রেতারা পাইকারি দরে মাছ কিনে মেলায় খুচরা বিক্রি করেন। মেলায় ১২ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছের দাম চাওয়া হয় ছয়শ টাকা হিসেবে ৭ হাজার দুই হাজার টাকা।
মেলায় মাছ কিনতে এসে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের তসলিম উদ্দিন জানান, উথলীর নবান্ন মেলায় বিক্রির জন্য আশপাশের এলাকার পুকুরগুলোতে সৌখিন মাছ চাষীরা মাছ মজুদ করে রাখেন। এলাকার কে কতো বড় মাছ মেলায় তুলতে পারে যেন তারই প্রতিযোগিতা চলে চাষীদের মধ্যে। এছাড়া আড়তদাররা তো আছেই। এলাকার লোকজনও প্রায় প্রতিযোগিতা করে তুলনামূলক বড় মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে যায়। হিন্দুদের নবান্ন হলেও আশপাশের গ্রামের সকল সম্প্রদায়ের মানুষই কেনাকাটা করে।
উথলী বহুমুখি মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারি ফজলুল বারী জানান, আগে মেলাটি ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ব্যাপকতা লাভ করেছে। শুধু আশেপাশেরই নয় পুরো শিবগঞ্জ উপজেলার মানুষ এখানে নবান্নের বাজার করতে আসেন। মাছের মেলার খবর পেয়ে শহর থেকেও অনেকে সেখানে ছুটে যান মাছ কিনতে। তবে তুলনামুলকভাবে এবার মাছের আমদানি অনেকটা কম হলেও বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, সিলভার কাপ, ব্রিগেডসহ হরেক রকমের মাছ বিক্রি হয়েছে মেলায়। এবার মেলায় বিক্রি হয়েছে ২০ কেজি ওজনের বাঘাইড়। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

up-arrow