Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২১:২৯ অনলাইন ভার্সন
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আত্মসমর্পণে শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আত্মসমর্পণে শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ইয়াবা কারবারী ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। রীতিমতো মাইকে প্রচার করে লোক জমায়েত করে আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন ইয়াবা কারবারীরা। 

তবে তারা কোথায় কখন কার কাছে আত্মসমর্পণ করবেন তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অথবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণার কথা শোনা যায়নি। 

একদিকে শীর্ষ ইয়াবা কারবারীদের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া চলছে অপরদিকে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। কারা আত্মসমর্পণের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং এই আত্মসমর্পণের শর্তই বা কি তা নিয়েও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল কেউ মুখ না খোলায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া এলাকা হতে স্থানীয় ইউপি মেম্বার এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ ইয়াবা কারবারী আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।

এসময় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির নিজস্ব জীপ গাড়িটিকে দেখা গেলেও বদি সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিনা জানা যায়নি। একটি টিভি চ্যানেলের লোগো লাগানো নোহাতে করে এক পুলিশ সদস্যের সাথে এনামসহ কয়েকজন আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে অজানা গন্তব্যে রওয়ানা হন। 

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া এলাকার মৃত মোজাহের মিয়ার পুত্র বর্তমান ইউপি সদস্য এনামুল হক, তার ভাগিনা নুরুল ইসলাম নুরু, টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল্লাহ, সদর ইউনিয়নের আলি আহমদ (সাবেক চেয়ারম্যান) এর ছেলে জিয়াউর রহমানের নাম জানা গেছে। তাছাড়া টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা হতে আরো শতাধিক ইয়াবা কারবারী এ আত্মসমর্পন প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে।

এনামুল হক আত্মসমর্পণে রওয়ানা হওয়ার বিষয়টি ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। তাতে একটি টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধি ও টেকনাফ থানার এক পুলিশ সদস্যের সাথে সে রওয়ানা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। 

জানা গেছে, এনামুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া মাদক মামলাসহ ১৭ টি মামলা রয়েছে। অপরদিকে শাহ আলমের বিরুদ্ধেও ৪/৫টি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার মাদক ব্যবসায়ীর তৈরি করা তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। 

এদিকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গোপনীয়তায় পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মনে করছেন অনেকে। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

আপনার মন্তব্য

up-arrow