Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৪:৫১ অনলাইন ভার্সন
লক্ষ্মীপুরে ঐতিহ্যবাহী তিরোধান উৎসব মেলা শুরু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে ঐতিহ্যবাহী তিরোধান উৎসব মেলা শুরু

লক্ষ্মীপুরে আজ মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ৯০ বছরের ঐতিহ্যবাহী তিরোধান উৎসব মেলা। রামগতি উপজেলার চর সেকান্দার এলাকার বুড়া কর্তার আশ্রমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শ্রী শ্রী বুড়াকর্তার তিরোধান উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়।

মেলাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা ধরনের পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ মেলা পরিণত হয় মিলন মেলায়। এ মেলা আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানান আয়োজকরা।

জানা যায়, আজ থেকে ৯০ বছর পূর্বে ১৩৩৫ বাংলা সনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরমটুয়া এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে রাধা কান্ত স্বহং নামের  হিন্দু সম্প্রদায়ের এক আধ্যাত্মিক  মহা পুরুষের লাশ মেলে। ওই সময়ে ক্ষেত্র মোহন চক্রবর্তী নামে তার এক সেবায়েতকে লাশটির সমাধি করতে স্বপ্নের মাধ্যমে দেখানো হয়।

পরে ওই সেবায়েত ও তার ছেলে মালতী মোহন চক্রবর্তী স্থানীয় চর ডাক্তার এলাকায় তার দেহ বিশেষ সমাধিস্থ করে। সমাধিস্থলের নাম দেওয়া হয় রাধা কান্ত স্বহং শামিজীর আশ্রম। তিনি বুড়া হওয়ার কারণে যেটি বুড়া কর্তার আশ্রম হিসেবে পরিচিতি পায়। এরপর সর্বপ্রথমে তার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ১৩৩৬ বাংলা সনে কয়েকজন ভক্ত ওই আশ্রমে লীলা র্কীতন ও প্রসাদ বিতরণ শুরু করে। ধীরে  ধীরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য জেলায়। এখন ওই স্থানে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও লীলা কীর্তন শুনতে আসেন বলে জানান আশ্রম কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উৎপল কুমার দাস।

এ কীর্তন উপলক্ষে তখন আশ্রম প্রাঙ্গণে ফেরিওয়ালারা ভিড় করতো বিভিন্ন পণ্য নিয়ে। সময়ের পরিবর্তনে ধীরে ধীরে এসে এখন বড় ধরনের মেলা বসে আশ্রম প্রাঙ্গণে। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ১৫ দিন চলে এ মেলা। এতে আশ্রম প্রাঙ্গণ হাজার হাজার হিন্দু-মুসলিমের মিলন মেলায় পরিণত হয় বলে জানান উৎসব আয়োজন কমিটির সভাপতি অরবিন্দ দাস।

আর মেলাকে ঘিরে বগুড়া, রাজশাহী, কুমিল্লা, ভোলা, বরিশাল, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য নিয়ে এখানে আসেন বিক্রেতারা। ইতোমধ্যে শতাধিক স্টোর বসেছে মেলায়। এতে শিশুদের খেলনা, মাটির তৈরি হাড়ি পাতিল, প্লাস্টিক সামগ্রী, গৃহস্থালী জিনিসপত্র, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী এবং রকমারি খাবার পাওয়া যায়। ভালো বিক্রি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত আশাবাদী এবারো।

বিডি প্রতিদিন/কালাম

আপনার মন্তব্য

up-arrow