Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৫৫
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:৫১

স্কুলছাত্রকে বালু চাপা দিয়ে টাকা নিতে আসে অপহরণকারী!

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

স্কুলছাত্রকে বালু চাপা দিয়ে টাকা নিতে আসে অপহরণকারী!

কুমিল্লায় অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর আলী আব্বাস তৌহিদ (১৪) নামে এক ছাত্রের মরদেহ বালুর নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী গন্ধমতি বালুর মাঠে চাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তৌহিদ কুমিল্লা কোটবাড়ি সালমানপুর মাস্টার বাড়ির আবু মুসার ছেলে। সে কুমিল্লা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। গন্ধমতি বোনের জামাই ইসমাইলের বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করতো তৌহিদ। 

এদিকে হত্যার পর তৌহিদকে বালু চাপা দিয়ে মুক্তিপণের জন্য এসে ধরা পড়ে অপহরণকারী অপু। 

পুলিশ সূত্র জানা যায়, রবিবার রাত থেকে আলী আব্বাস তৌহিদ নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির পর রাত ১০টায় তৌহিদের দুলাভাই ইসমাইল কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে একটি জিডি করেন। পরবর্তীতে রাত ১২টার সময় একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে ইসমাইলের মোবাইল ফোনে। 

অপহরণকারীরা জানায়, তৌহিদকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণের জন্য ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে তারা। টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে অপহরণকারীদের বিকাশ নম্বর চায় দুলাভাই ইসমাইল ও তার পরিবার। অপহরণকারীরা বিকাশ নম্বর না দিয়ে সরাসরি টাকা লেনদেনের কথা বলে। কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় সাত্তার খাঁন শপিং কমপ্লেক্সের গাড়ি পার্কিংয়ে টাকা নিয়ে আসতে তৌহিদের পরিবারকে বলে অপহরণকারীরা। 

সোমবার দুপুরে অপু নামের এক অপহরণকারী মুক্তিপণের ৫ লক্ষ টাকা নিতে আসলে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপু নামের ওই অপহরণকারী জানায়, কুমিল্লার রেলওয়ে স্টেশন মার্কেটের হোটেল আজমিরের ম্যানেজার মাজহারুল তৌহিদকে অপহরণ করতে বলে। অপহরণের প্রয়োজনে তাকে একটি মোবাইল ফোনও দেয় ম্যানেজার মাজহারুল। 

পরবর্তীতে তৌহিদের সন্ধান চাইলে অপহরণকারী অপু জানায়, অপহরণের পর তৌহিদকে হত্যার পর গন্ধমতি বালুর মাঠে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ দুপুর ২টায় ওই বালুর মাঠ থেকে তৌহিদের মরদেহ উদ্ধার করে।

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এস আই আনোয়ার হোসেন জানান, অপহরণের পর মরদেহ বালুর নিচে চাপা দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ নিতে আসে অপহরণকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে অপু নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অপহরণের সাথে হোটেল আজমিরের ম্যানেজারসহ জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। অপহরণ ও হত্যার কারণসহ বিস্তারিত পরে জানতে পারবেন বলেও তিনি জানান। 

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য