Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৫৪

রাঙামাটিতে নামছে পর্যটকের ঢল

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

রাঙামাটিতে নামছে পর্যটকের ঢল

শীত শেষ, কিন্তু কাটেনি উষ্ণতা। যোগ হয়েছে হঠাৎ বৃষ্টি। মেঘ শূন্য আকাশ, আছে কুয়াশার হাত ছানি। পাহাড় এখন আপন রূপে। শুকনো পাতার আড়মোড়া ভেঙেছে বসন্ত, যৌবনে ডুব দিয়েছে বন-জঙ্গল। গাছে গাছে ফুটেছে হাজারো পাহাড়ি ফুল। হ্রদ-পাহাড়ের মিতালি, প্রকৃতির টানে দূর-দুরান্ত থেকে আসছে দেশি-বিদেশী হাজার হাজার পর্যটক।

প্রতিদিন নামছে রাঙামাটিতে হাজারো পর্যটকের ঢল। সবুজ অরণ্যে রাজ্য রাঙামাটি মেতেছে পর্যটক উৎসবের আমেজে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো। অগণিত পর্যটকের কারণে কোথাও তিল পরিমাণ জায়গা খালি নেই। তাদের সরব উপস্থিতিতে এ শহর এখন যেন উৎসবের নগরী। টানা তিনদিনের ছুটিতে দ্বিতীয় দিনেও ছিল পর্যটকের ভির চোখে পড়ার মতো।

শুক্রবার রাঙামাটি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো ছিল লোকে লোকারণ্যে ভরপুর। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আগত পর্যটকরা রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝর্ণা, পালওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো পার্ক ও কাপ্তাই-আসামবস্তী সড়কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ কাপ্তাই হ্রদ নৌ-ভ্রমণের আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতেছে। আবার কেউ প্রকৃতিকে উজাড় করে দিচ্ছে নিজেকে। বিকালের গোধুলীর রং যখন লাল বর্ণ ধারণ করে, ঠিক তখনি মানুষের ভিড় জমে পর্যটন ঝুলন্ত সেতুতে। শহরের সবকটি আবসিক হোটেল, মোটেল, সরকারি রেস্ট হাউসে লেগে আছে মানুষের ভিড়। কোথাও কক্ষ খালি নেই।

রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সর ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, ২১ফেব্রুয়ারি ও সাপ্তাহিক ছুটি ঘিরে টানা তিন দিন অর্ধলাখেরও বেশি পর্যটক অবস্থান করছে রাঙামাটিতে। রাঙামাটি কমপ্লেক্সের পর্যটন মোটেলের সবগুলো কক্ষ ১০০ ভাগ বুকিং রয়েছে। শুধু ঝুলন্ত সেতু দেখতে আসেছে প্রতিদিন ৭ হাজারের অধিক মানুষ। তাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পর্যটন কর্তৃপক্ষকে।

তিনি আরও বলেন, মোটেলগুলোতে অগ্রিম বুকিং তো রয়েছে। বিভিন্ন দিবসগুলো সামনে রেখে বুকিং লেগে আছে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। বলতে গেলে মাস জুড়ে পুরো মোটেল বুকিং। এতে যেমন রাজস্ব আয় বাড়বে, তেমনি এ সুবিধা ভোগ করবে পর্যটক সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।

অন্যদিকে, এখানে এসেছে দেশী-বিদেশী পর্যটক। পিকনিকের দল এসেছে অসংখ্য। অবকাশ কাটাতে আসা হাজারো পর্যটকদের বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের বহর ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পিকনিক যাত্রীবাহী বাসগুলো ভিড়ে জমেছে পুরো শহর জুড়ে। আর এসব পর্যটকদের সাহায্য-সহায়তায় সর্বাধিক পাশে আছে বেশ কিছু পর্যটন পুলিশ।

রাঙামাটি পর্যটন পুলিশ এস আই মো. কামাল উদ্দীন জানান, রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পর্যটন পুলিশ সব সময় প্রস্তুত। বছরের শুরু থেকে রাঙামাটিতে প্রায় প্রতিদিন পর্যটক আসছে। তাই তাদের নিরাপত্তা দিতে আমাদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে।

রাঙামাটি পর্যটক কমপ্লেক্সের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সূর্য্য সেন ত্রিপুরা জানান, রাঙামাটি ডিসি বাংলো এলাকায়, পালওয়ে পার্ক, লাভ পয়েন্ট, সুবলং ঝর্ণা, পর্যটন কমপ্লেক্স, আসামবস্তি সড়ক, প্যাদা টিং টিং, বরগ্যাং ও ফুরামন পাহাড়ের মতো অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে রাঙামাটিতে। এসব স্থানে পর্যটকদের জন্য গড়ে তুলে হয়েছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট। আর কাপ্তাই হ্রদে নৌ ভ্রমণের জন্য আছে পর্যাপ্ত ইঞ্জিন চালিত বোট। তাতেই পর্যটকরা আনন্দিত।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য