Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৯ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৫
শান্তকুমার
হেলাল আরিফীন
শান্তকুমার

সে অনেক দিন আগের কথা। মঙ্গলরাজ্যে শান্তকুমার নামে এক রাজা ছিলেন। নামে শান্ত হলেও আসলে তিনি মোটেই শান্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন ছটফটে আর বেজায় অলস। সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে জানতেন না। কিন্তু তার সেনাপতি ছিলেন বেশ বিজ্ঞ এবং কর্মঠ। মঙ্গল রাজ্যের প্রজারা খুব যে সুখে-শান্তিতে ছিল তাও নয়। সারা বছর তাদের অভাব-অনটন রোগব্যাধি লেগেই থাকত। প্রজারা যেটুকু শান্তিতে থাকত তা রাজার কারণে নয়। রাজার উজির-নাজিররাই প্রজাদের ভালোমন্দের খোঁজখবর রাখতেন।

একদিন মঙ্গলরাজ্যে অমঙ্গলের ছায়া পড়ল। পাশের রাজ্যের সেনাপতি বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে মঙ্গল রাজ্য আক্রমণ করতে এলো। দূত মারফত তাদের আগমন বার্তা পেয়েই সেনাপতি বিদ্যুৎ বেগে রাজ মহলে হাজির হলো। কিন্তু মহলে রাজা নেই। কোথায় গেছে কেউ বলতে পারে না।

সেনাপতি পড়ে গেলেন মহাফাঁপড়ে। এখন কী করবেন?

রাজার অনুমতি ছাড়াই শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন? নাকি রাজার জন্য অপেক্ষা করবেন? ভাবতে ভাবতেই রাজা ফিরে এলেন। মহলে সেনাপতিকে দেখে বললেন, কী খবর সেনাপতি? এখানে কার জন্য অপেক্ষা করছ?

সেনাপতি ব্যস্ত হয়ে বললেন, মহারাজ, আপনার জন্য। রাজা কৌতুকোচ্ছ্বাস গলায় বললেন, কেন, আমার জন্য তোমার অপেক্ষা করতে হবে কেন? কী হয়েছে? মঙ্গলরাজ্যে কি কোনো অমঙ্গলের ছায়া পড়েছে সেনাপতি? সেনাপতি বললেন, স্বর্ণ রাজ্যের সেনাপতি বিপুল সৈন্যবাহিনী নিয়ে আমাদের রাজ্য আক্রমণ করতে আসছে মহারাজ।

রাজা হেসে বললেন, এই জন্যই কি তুমি এখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছ?

জি, মহারাজ। আপনি আমাকে হুকুম দিন। সৈন্যদলসহ আমি এই সেনাপতিকে ধুলোয় মিশিয়ে দেব।

রাজা হাসলেন।

সেনাপতি বিরক্তির গলায় বললেন, আপনি হাসছেন মহারাজ?

রাজা হাসতে হাসতেই বললেন, ওদের সসম্মানে আসতে দাও। রাজ্যের প্রবেশদার এখনই খুলে দাও। রাজার কথায় সেনাপতি এমন বিস্মিত হলেন বোধকরি বজ পাত হলেও এতটা বিস্মিত হতেন না। তিনি বিস্মিত গলায় বললেন, মহারাজ!

রাজা এবার দরাজ গলায় বললেন, এখানে দাঁড়িয়ে থেক না। এখনই যাও। ওদের রাজ্যে ঢোকার ব্যবস্থা কর।

কিন্তু মহল থেকে বের হয়েই তিনি ভাবলেন রাজা নিশ্চয় কাণ্ডজ্ঞান হারিয়েছেন। তা না হলে জেনেশুনে শত্রুদের কেউ সাদরে রাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়ার কথা বলে? তিনি সেনা ছাউনি থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা এবং অশ্ব-গোলাবারুদ নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য রাজ্যের প্রবেশদারের সম্মুখে অপেক্ষায় রইলেন।

কিন্তু সেনাপতিকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। অপর রাজ্যের সেনাপতিকে সুসজ্জিত হাতির পিঠে চড়ে আসতে দেখা গেল। পেছনে আট-দশটি হাতি। হাতিগুলোর পিঠে বসে রয়েছে স্বর্ণরাজ্যের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তাদের সবার হাতেই উপঢৌকন।

মঙ্গল রাজ্যের জয় হোক... মঙ্গল রাজ্যের জয় হোক... প্রবেশদারের কাছাকাছি আসতেই মঙ্গল রাজ্যের নামে জয়ধ্বনি তুলে বাতাস ভারি করে তুললেন। মঙ্গল রাজ্যের সেনাপতি তাদের অভ্যর্থনা জানাবেন কী! দুশ্চিন্তায় একদম কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। রাজা আজ তাকে কী শাস্তি দেন কে জানে!




up-arrow