Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুন, ২০১৬ ০১:৪৩
ঘোড়ার ডিম
মাইদুর রহমান রুবেল
ঘোড়ার ডিম

সকালে মাকে এক দফা বিরক্ত করা রকির রুটিন ওয়ার্ক বলা চলে। প্রতিদিন কোনো না কোনো আবদার করে বসবে। বিরক্ত হয়ে মা দাঁত কামড়াবে। অবশ্য এর আগের রুটিন ওয়ার্কটা মাকে এতটা পীড়া দেয় না। মায়ের সঙ্গে ঘুম ভাঙার পর দাঁত ব্রাশ করার সময় প্রতিদিনই টুথপেস্ট খেয়ে ফেলে। পরোক্ষণেই বলবে মা পেস্ট দাও পেস্ট বেসিনে পড়ে গেছে। দু’বার তিনবার খাওয়ার পর বাধ্য হয়ে মা নিজে ব্রাশ করিয়ে দিবেন। তারপর মার সঙ্গে কিচেনে বসে রুটি বানানো দেখবে। কি দিয়ে রুটি খাবে তার  মেন্যু ঠিক করবে। আজ রকি গো ধরেছে প্রতিদিন রুটি খেতে ভালো লাগে না আজ পরোটা খাব। মা বাধ্য হয়ে তার জন্য আলাদা করে তেলে ভেজে দেয় পরোটা। অর্ধেক পরোটা না খেতেই বলে আমার কি দিয়ে যেন পরোটা খেতে মন চায়।

মা : কি দিয়ে খেতে মন চায়?

রকি : তাইতো ভাবছি। কিন্তু মনে করতে পারছি না।

মা : ডিম, ভাজি, হালুয়া, জেলি, মাখন, মাংস।

রকি : না, মনে করতে পারছি না।

মা মনে পড়েছে, ইয়ে দিয়ে খেতে মন চায়।

মা : ইয়ে দিয়ে মানে কি?

রকি : ইয়ে দিয়ে মানে ইয়ে দিয়ে।

কিছুক্ষণ ভেবে আর বের করতে পারছে না সে আসলে কি বলতে চায় বা কি বুঝাতে চায়।

মা : দেখ রকি এখন বিরক্ত করিস না। কি খেতে মন চায় বল না হয় চুপ করে বস। আমাকে আমার কাজ করতে দে। নাস্তা বানানোর পর আমার অনেক কাজ আছে। তোর বাবা ঘুম থেকে ওঠে অফিসে যাবে। আমাকে বিরক্ত করিস না। ছোট হলেও তার অপমান বোধ বেশ প্রবল। সে বুঝে কে তাকে ভালো বলল কে মন্দ বলল। মুখ ফুলিয়ে চলে গেল শোবার ঘরে। বাবার গা ঘেঁষে সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে রকি। বাবাকে ডাকার সাহস পাচ্ছে না। বাবা জাগলে মায়ের নামে কমপ্লিন করবে। সাপের মতো আওয়াজে ঘুম ভাঙে বাবার। চোখ কচলাতে কচলাতে দেখে ছেলে মুখ ফুলিয়ে আছে।

বাবা : কি হয়েছে আব্বু, এই সাত সকালে কে বকল তোমাকে?

রকি : (চোখে পানি ছেড়ে দেয়) কাঁদো কাঁদো গলায় বলে, মা।

বাবা : কেন কি হয়েছে।

আর কথা বলে না। ছেলেকে কোলে নিয়ে কিচেনে যায় রকির বাবা। স্ত্রীর কাছে জানতে চায় কি হয়েছে। রকির মা জানান শুধু শুধু বিরক্ত করে। আজকাল বেশি বিরক্ত শুরু করেছে ছেলেটা। কথা বললে কথা শোনে না।

বাবা অফিসে যাওয়ার পর আবার বিরক্ত করছে মাকে। কোনো কাজ করতে দেবে না। বিরক্ত হয়ে মা কশে থাপ্পর মারে রকিরে। চিৎকার করে পুরো বাড়ি জাগিয়ে তুলে রকি। ভাগনের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় টিপুর। কি হয়েছে এই সাত সকালে রুম থেকে বেরিয়ে জিগ্যেস করে টিপু। ভাগনেকে কোলে নিয়ে এটা দেয় সেটা দেয় তার কান্না থামে না। বাচ্চাদের কান্না পছন্দ না টিপু।

তার কথা বাচ্চারা হাসবে খেলবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কাঁদবে কেন? অনেক কিছু দেওয়ার পরও ভাগনের কান্না না থামায় প্রচণ্ড বিরক্ত টিপু। বিরক্ত হয়ে বলে কিচ্ছু খাবি না তবে কি ঘোড়ার ডিম খাবি? এবার যেন কিছু একটা খুঁজে পেল রকি। হয়তো তার চাওয়াটা এমনই ছিল। রকি কান্না থামিয়ে বলে হ, মামা আমি ঘোড়ার ডিম খাব। এবার চক্ষু চড়ক গাছ টিপু এবং রকির মায়ের। একজন অন্যজনের দিকে তাকাচ্ছে। কি হবে তার উত্তর, তা জানা নেই রকির মা কিংবা মামার। কিছুক্ষণ নিঃশব্দ কেটে গেল এইখানটায়।

রকি : ও মামা, আমি ঘোড়ার ডিম খাব।

রকির মা : (হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায়) এইবার বোঝ ঠেলা। তুই কেন বললি এই কথা, এইবার তুই সামলা।

রকিকে কোল থেকে ফেলে দেওয়ার উপক্রম টিপুর।

তারপরও ভাবছে এবার কি করা যায়। বিভিন্ন খেলনা কিনে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। চিপস, জুস কিনে দেওয়ার লোভ দেখায়। কিন্তু কিছুতেই কোনো কাজ হয় না। কিচেনে নিয়ে গিয়ে র‌্যাক থেকে একটা ডিম নিয়ে বলে নে এটা ঘোড়ার ডিম।

রকি : আমাকে বোকা পাইছো না, এইটা মুরগির ডিম।

ফ্রিজ থেকে আর একটা বড় সাইজের ডিম বের করে দেয়। সেটাতেও সন্তুষ্ট নয় সে বলে এটা হাসের ডিম। এবার পড়ে মহা ফাপরে। কি করা যায় ভাবছে। এর মধ্যে আবার কান্না শুরু করে রকি। আর বলতে থাকে মামা আমি ঘোড়ার ডিম খাব। রকির মা বলে ঘোড়ার ডিম এবার কোত্থেকে আনবি এনে দে, আমার পোলারে কইছস কেন। তুই নিয়ে যা, যেখান থেকে পারিস ঘোড়ার ডিম খাওয়া। সাড়ে তিন বছরের ভাগনের কাছে নিরুপায় টিপু।

বুদ্ধি যেন কাজ করছে না, কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। হঠাৎ লাফিয়ে উঠে বলে চল বাবা তোকে ঘোড়ার ডিম দিচ্ছি। তার রুমে নিয়ে গিয়ে ব্যাগ থেকে লাল তুলনামূলক বড় আকৃতির পাহাড়ি একটা ফল বের করে বলে নে বাবা তোর জন্য পাহাড় থেকে এনেছি।

লাল ঘোড়ার ডিম। কান্না থামিয়ে রকি হেসে উঠে। প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, মামা এটা সত্যি সত্যি ঘোড়ার ডিমতো। জী বাবা এটা সত্যি সত্যি ঘোড়ার ডিম, জবাব দেয় টিপু।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow