Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৭
বুড়ো ভূত
মির্জা আদিপ
বুড়ো ভূত

তাবুলদের গাঁয়ে অনেক পুরনো দিনের একটা কুয়ো আছে। কয়েক বছর আগেও এ কুয়োর পানিই ছিল পুরো গাঁয়ের পানির প্রধান উৎস। সকাল থেকে শুরু করে বেশ রাত পর্যন্ত লোকেরা লাইন ধরে এ কুয়ো থেকে পানি তুলে নিয়ে যেত। কিন্তু একদিন অবাক করা কাণ্ড ঘটল। কেবল অবাক করা নয় কাণ্ডটা ছিল ভয়ঙ্কর। সেই দিনটা ভালোই যাচ্ছিল। সবাই ঠিকঠাকমত কুয়ো থেকে পানি তুলে যার যার বাড়ি ফিরে যাচ্ছিল। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থাটা একটু রাত হতেই অস্বাভাবিক হতে লাগল। একজন কুয়ো থেকে পানি তুলতে গিয়ে দেখে পানির পাত্রটা আর উপরে উঠে আসছে না। অনেক টানাটানির পর পানির পাত্রটা উঠল তবে তার মধ্যে একটা ভূতের ছানা দিব্যি বসে আছে। সবাই তখন পানি তোলা বাদ দিয়ে যার যার মতো ছুটে পালাল। ভূতের ছানা তাদের ভয় পাওয়া দেখে খুশি হলো। কারণ এতে সে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেয়ে গেল। তারপর থেকে লোকেরা কেবল দিনের বেলা সেই কুয়ো থেকে পানি আনত। তবে রাতের বেলা কেউ কুয়ো থেকে পানি তোলাতো দূরের কথা সেখান দিয়ে চলাফেরাও করত না। কেননা দিনের বেলা ভূতের সেই ছানাকে দেখা যেত না। তবে রাত হলে সেটার উৎপাতে আশেপাশে কেউ ভিড়তে পারত না। কারণ তার ছোড়া ঢিলে অনেক লোকের মাথা ফেটেছে। ভূতের ছানাটা সেখানে থেকে বড় হতে লাগল। আর তার অত্যাচারে সেখানকার লোকজন বাড়ি ছেড়ে দূরে সরে গেল। এতে করে সেই কুয়ো একসময় পরিত্যক্ত হয়ে গেল। কুয়ো থেকে পানি না তুলেও গ্রামবাসী স্বস্তিতে থাকতে পারল না। রাতের বেলা সেই ভূতের ছানা বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াত আর তাদের ঘরে থাকা মাছ নিয়ে যেত। শুধু তাই নয়, তাদের খোঁয়াড়ের হাঁস-মুরগি আর গোয়ালের গরু-মহিষ মেরে মেরে রক্ত শুষে খেয়ে নিত। খেয়ে খেয়ে সেই ভূতের ছানা খুব দ্রুত বড় হয়ে গেল। মাঝে মাঝে সে ২/১ জন মানুষও মেরে রক্ত শুষে নিল।

এমন অবস্থায় সেই গাঁয়ে আর বাস করা কারও পক্ষে সম্ভব হলো না। দলে দলে লোক গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে লাগল। শুধু তাবুলের দাদা থেকে গেল। কারণ সে অনেক তন্ত্রমন্ত্র জানা লোক ছিল। তাই ভূতটা তার বাড়ির আশেপাশে আসার সাহস পেত না। তবে সে মাঝে মাঝে সেই ভূতকে খাবার দিত। গাঁয়ের লোকজন চলে যাওয়ায় ভূতটার অনেক বিপদ হলো। এখন আর আগের মতো পর্যাপ্ত খাবার পায় না। যা পায় তা কেবল তাবুলের দাদার কাছে। কিন্তু তাতে ভূতটার কখনই পেট ভরে না। তাই সে বেশিদিন তরুণ থাকতে পারল না। অল্প সময়ে বুড়ো হয়ে গেল। এভাবেই ভূতটার দিন কোনোমতে কাটছিল। এর মধ্যেই তাবুলের জন্ম হওয়া, পরিণত বয়স হওয়া এসব ঘটে গেল। গাঁয়ে তাবুলের কোনো খেলার সাথী ছিল না। তাকে অন্য গাঁয়ে গিয়ে খেলাধুলা আর লেখাপড়া করতে হতো।

তাবুলের দাদা তখন অসুস্থ হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী। কিন্তু সে যখন সুস্থ ছিল তখনই তাবুলের ওপর তার ঝাড়ফুঁক আর তাবিজ করা ছিল। তাই তাবুল বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াত। সেই সাহসে একদিন তাবুল সন্ধ্যার একটু পর পরই পরিত্যক্ত কুয়োর পাশ দিয়ে বাড়ির পথে হাঁটছিল। বুড়ো ভূতটা তাবুলকে দেখেও যেন চিনতেই পারল না। তার ওপর করা তাবিজের কথাও ভুলে গেল। তাবুলকে মারার উদ্দেশ্যে খপ করে ধরে ফেলল।

যখনই ঘাড় মটকাতে যাবে তখনই ভূতের হাতটা গেল ভেঙে। এবার তার কান্না দেখে কে। হাতজোড় করে কেবলই তাবুলের কাছে মাফ চাইতে লাগল। তাবুল তখন ভেংচি কেটে সেখান থেকে চলে গেল। ভাঙা হাতের ব্যথায় ভূতটা কান্না করে চলল। সে প্রতিজ্ঞা করল আর কখনো মানুষের ক্ষতি করবে না। কারণ তার অত্যাচারে এই গাঁয়ের লোকেরা চলে গেছে। আর সেই কারণে আজ তার এই দুর্গতি। সে সিদ্ধান্ত নিল যারা গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে তাদের ফিরিয়ে আনবে। তখন সে একটা তোতা পাখির রূপ ধরে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়া লোকদের কাছে গিয়ে মাফ চাইল। তাদের আবার ফিরে আসার অনুরোধ করল। তার কথা শুনে সবাই আবার ফিরতে লাগল। এবার ভূতটা তাদের ঘরবাড়ি তৈরি করতে সাহায্য করল। আরও নানা কাজে সাহায্য করে ভূতটা সবার মন জয় করে নিল। তাই সবাই তাকে খাবার দিতে লাগল। এবার যেন ভূতটা শক্তি ফিরে পেল। সে সবার সঙ্গে মিলেমিশে বাস করতে লাগল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow