Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৩
ঘাস ফড়িং ফার্ম
রাহান তাপস
ঘাস ফড়িং ফার্ম

প্রতিদিন নিয়ম করে ঘাস ফড়িং ধরার প্রতিযোগিতায় নেমেছে ওরা তিন বোন। উপমা, সুপমা আর নুহা।

স্কুল থেকে এসেই শুরু করে দেয় ঘাস ফড়িং ধরা প্রতিযোগিতা। কে কত বেশি ফড়িং ধরতে পারে! ওদের বাসার সামনেই বড় রাস্তা। আর সেই বড় রাস্তার এক পাশে একটা নালা। এর এক পাশে লাইট পোস্ট। সেখানে গিয়ে ওরা তিন বোন মিলে, যে যার মতো ফড়িং ধরে। অনেক ঘাস ফড়িং সেখানে উড়ে বেড়ায়। সেগুলো ধরে খেলা করে আর সংগ্রহে রাখার চেষ্টা করে। আবার মাঝে মাঝে বলে ফড়িং পালে। মানে ফড়িংয়ের পোলট্রি ফার্ম। আসলেই কি ঘাস ফড়িং পোষ মানানো যায়? বা লালন পালন করা যায়? ওরা অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু ঘাস ফড়িং কোনো খাবার খায় না। এমনকি পানি পর্যন্ত স্পর্শ করে না। প্রতিদিন তারা ১০ থেকে ১৫টি ফড়িং ধরে। ফড়িংগুলো কখনো এক দিন সর্বোচ্চ দুই দিনের বেশি বাঁচে না। ওরা তবুও চেষ্টা করেই যায়। কিন্তু কোনো ফড়িংই বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। উপমা আর সুপমার ফড়িং ধরে কাছের বয়ামে রাখে। ওদের নিজস্ব কাচের বয়াম আছে। কাচের বয়ামে লেবেলও লাগিয়েছে। উপমার কাচের বয়ামের লেবেলে লিখেছে, উপমা ফড়িং ফার্ম। সুষমা কাচের বয়ামের লেবেলে লেখা সুপমা এন্ড কোং। কিন্তু নুহার কোনো বয়াম নেই। তাই সে সুতো দিয়ে ফড়িংয়ের লেজে বেঁধে রাখে লাইট পোস্টের খাম্বায়। এক দিন তারা আপন মনে ফড়িং ধরছে। হঠাৎ লাইট পোস্ট থেকে বিকট একটা শব্দ হলো। তিন বোন ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে দেখে অনেক কাক জড় হয়েছে, সেই লাইট পোস্টের তারে। সব কাককেই কেমন যেন হিংস্র এবং প্রতিবাদী মনে হচ্ছে।

অনবরত কা-কা করে চিৎকার করছে। প্রতিটি কাকই গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে কা-কা করছে। একটু পরেই একটা মরা কাক এসে পড়ল ঠিক নুহার পায়ের কাছে। আর অমনি সব কাক নুহাকে আক্রমণ করে বসল। উপমা আর সুপমা দৌড়ে এসে নুহাকে রক্ষা করল। কিন্তু ততক্ষণে নুহার মাথায় কাক একটা ঠোকর দিয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি বাসায় এসে ওষুধ দিল। ওদের মা রাগ হয়ে বলল, ‘ঠিক হয়েছে! তোরা আর ফড়িং মারতে যাবি! দেখবি এক দিন সব ফড়িংও দল বেঁধে তোদের কামড়াবে। ’

রাতে তারা তিন বোন এক বিছানায় ঘুমায় গল্প করতে করতে।

আসলেও তো একটা কাক মারা গিয়েছে বলে সব কাক এসেছে আর প্রতিবাদ করছে। কাকরা ভেবেছিল নুহা ওদের সঙ্গীকে মেরেছে। তাই নুহাকে আক্রমণ করেছে। ফড়িংরাও যদি একই কাণ্ড করে বসে! মায়ের কথাগুলো তিন বোনকেই ভাবিয়ে তুলল। এসব ভাবতে ভাবতে তিন বোনই ঘুমিয়ে পড়ল।

রাতে ঘুমের মধ্যে উপমা স্বপ্ন দেখল, ‘বিভিন্ন রকমের খুব ভয়ঙ্কর বড় বড় দাঁতওয়ালা ঘাস ফড়িং। এরা এক সঙ্গে দল বেঁধে, তাদের তিন বোনকে কামড়াতে আসছে।

আর সেই ভয়ে এদিক সেদিক দৌড়াচ্ছে আর দৌড়াচ্ছে ওরা। কোথাও গিয়ে রক্ষা পাচ্ছে না। তার পরই হঠাৎ উপমার ঘুম ভেঙে গেল এবং দেখল সকাল হয়ে গেছে। ’

সকালে নাস্তার টেবিলে উপমা নুহা ও সুপমাকে রাতের সেই স্বপ্নটার কথা বলল। সবাই তাদের ভুল বুঝতে পারল। সেদিন থেকে ওরা সবাই ঠিক করল ওরা আর ফড়িং ধরতে যাবে না। শুধু শুধু প্রাণীগুলোকে কষ্ট দেওয়ার কী কোনো মানে হয়?

এই পাতার আরো খবর
up-arrow