Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০৪
সামান্য ভুল
মাহবুব এ রহমান
সামান্য ভুল

‘যাক বাবা বাঁচা গেল! কতক্ষণ শান্তিতে টিভি দেখা যাবে তাহলে’। স্কুল থেকে বাসায় ফিরে আম্মুকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত দেখে খুশিতে এসব ভাবছে আবির।

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে সে। প্রতিদিন স্কুল থেকে আসা মাত্রই বকবক শুরু করেন আম্মু। ‘তাড়াতাড়ি ড্রেস চেঞ্জ কর। ফ্রেশ হয়ে নে, ভাত বাড়ছি। খেয়ে পড়তে বস, স্যার চলে আসবেন’ ইত্যাদি আম্মুর বকুনি শোনা যেন তার প্রতিদিনকার রুটিন। আজ বাসায় কেউ নেই। ওর আব্বু থাকেন প্রবাসে। আপ্পি আম্মুর সঙ্গে ডাক্তারে...। একা সে বাসায়। স্যারও আজ আসবেন না। আম্মু যাওয়ার সময় বলেছেন ভাত খেয়ে পড়তে বসতে। উনার ফিরতে ঘণ্টাতিনেক সময় লাগবে।

হসপিটালে উনার কিছু টেস্ট করাতে হবে আজ। কে শোনে কার কথা! আবির তো মহাখুশি। খাওয়া শেষ করেই রিমোট নিয়ে বসে পড়ল টিভি সেটের সামনে। চ্যানেল পাল্টাতে পাল্টাতে এসে থামল একটি কার্টুন চ্যানেলে। একমনে আরামে টিভি দেখছে আবির।

‘যদি প্রতিদিন এভাবে টিভি দেখে আর গেম খেলে কাটিয়ে দেওয়া যেত, ইশ! কতই না মজা হতো! পড়তে একদম আর ভালো লাগে না। এক মিনিটের জন্যও ও টিভির সামনে গেলে আম্মুকে দ্রুত ডাক দেয় আপ্পিটা। আর আম্মু কেমন খবরটা পেতেই চেঁচিয়ে চলে আসেন’ মনে মনে এসব ভাবছে আবির।

 হঠাৎ কলিং বেলের শব্দ! কে এলো আবার! ভয়ে কেঁপে উঠে ওর পুরো শরীর। দ্রুত টিভি অফ করে চলে আসে। সারাটা শরীর কাঁপছে থরথর। কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়ে যায় দরজার দিকে। দরজাটা খুলতেই অবাক হয় আবির। একি! স্যার দাঁড়ানো। মনটা খারাপ হয়ে যায় আবিরের।

সালাম দেয় স্যারকে। ভিতরে প্রবেশ করেন স্যার। ‘আজ তো স্যার আসার কথা না। কেন এলেন স্যার। ধুর এত সুন্দর একটা কার্টুন দেখতে ডিস্টার্ব দিলেন স্যার’ মনে মনে এসব ভেবে স্যারের প্রতি ক্ষোভ হচ্ছে আবিরের। কী আর করা। বাধ্য হয়েই টেবিলে বসে ও। একটুও পড়ার ইচ্ছা নেই। মুখ ভার করে বসে আছে।

‘আজ তো আসার কথা না। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে একটা প্রোগ্রাম ছিল। কিন্তু

হঠাৎ অনিবার্য কারণবশত তা বাতিল হয়ে যাওয়ায় ভাবলাম গতকাল কোনো হোমওয়ার্ক দেওয়া হয়নি, তাই চলে আসলাম’ কথাগুলো বলে থামলেন স্যার। ‘বাঃ বাঃ কত্ত বড় কবি-সাহিত্যিক’ মনে মনে স্যারকে বকছে আবির। ‘না স্যার ঠিক আছে। আসছেন ভালো হয়েছে’ বলে পড়ায় মন দেয় আবির।

মশার কারণে একটি কয়েল এনে জ্বালায়। কয়েলটি ভুলে স্ট্যান্ডে না রেখে পড়ার টেবিলের স্ট্যান্ডে রেখে দেয়। কতক্ষণ পড়িয়ে চলে গেলেন স্যার। মনের আনন্দে আবার দ্রুত টিভির সামনে চলে আসে আবির।

টিভি দেখতে দেখতে গা সোফায় এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এদিকে আবির যে কয়েল জ্বালিয়ে পড়ার টেবিলে বসেছিল, তা ভুলে নিভিয়ে আসেনি। তাই কয়েলটি জ্বলে শেষ হয়ে অতিরিক্ত অংশ আগুনের টুকরোটি পড়ে যায় মেঝেতে। মেঝের কার্পেটে ধরে যায় আগুন। রুমের বিছানার সঙ্গে ঠেস দিয়ে রাখা ছিল বিছানার প্লাস্টিকের ঝাড়ু। আগুন লাগে সেই ঝাড়ুতে। সেখান থেকে ঝাড়ু বেয়ে আগুন ধরে বিছানায়। পুরো বিছানা জ্বলে ছারখার হয়ে ধীরে ধীরে আগুন বিস্তৃত হয় পুরো বাসায়।

এখনো ঘুমিয়ে আবির।

হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া দেখে পাশের বিল্ডিংয়ের বদরুল আঙ্কেল দৌড়ে আসেন দ্রুত। দরজা বন্ধ। ভাবেন হয়তো ভিতরে কেউ নেই, অন্যথায় চিত্কার শোনা যেত। তাই তিনি চলে গিয়ে ফোন দিলেন আবিরের আম্মুর কাছে। আবিরের আম্মু জানান উনি হসপিটালে আর আবির বাসায় একা। উনি বিস্ময়ে জানান সারা বাসা আগুনে ছেয়ে গেছে। ভিতরে কারও সাড়া-শব্দ নেই।

খবর শোনে জ্ঞান হারানোর অবস্থা আবিরের আম্মুর। নিজেকে সামলিয়ে মেয়েকে নিয়ে পথ ধরেন বাসার। এদিকে বদরুল আঙ্কেল ফোন দেন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে।

খুব দ্রুত চলে আসেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ততক্ষণে আবিরের আম্মুও চলে এসেছেন। কিন্তু একি! দরজা ভিতর থেকে আটকানো। কোনো সাড়া-শব্দ নেই। এক অজানা আশঙ্কায় কান্নায় ভেঙে পড়েন আবিরের আম্মু। হঠাৎ শোনেন ভিতরে চিত্কার।

দরজা ভেঙে ভিতরে ডুকেন সবাই। দেখেন আবির যে সোফায় শুয়েছিল এর পায়ের দিকে আগুন লেগে পুড়ে গেছে আবিরের পায়ের কিছু অংশ। পায়ে আগুন লাগার আগ পর্যন্ত কিছুই বোঝেনি আবির। রুম থেকে আবিরকে বের করে দ্রুত আগুন নিভানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। আর অ্যাম্বুলেন্স এনে দ্রুত হসপিটালের দিকে পা বাড়ান আবিরের আম্মুসহ বাকি সবাই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow