Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০৯
দুষ্টদের চড়ুইভাতি
ইউনুস আহমেদ
দুষ্টদের চড়ুইভাতি

স্কুল বন্ধ। গরমের ছুটি। দুষ্টদের হাতে কোনো কাজ নেই। দুষ্টরা মানে হলো রিয়ানা, মিহাদ, শানু, অরিন আর রনক। মিহাদ ছাড়া বাকি সবাই পড়ে ক্লাস ফোরে। মিহাদ ক্লাস থ্রি-তে। অবসরে ওরা খেলাধুলাও করে একসঙ্গে। এখন স্কুল নেই। কী করা যায় ওরা সবই ভাবতে বসল। রিয়ানা হঠাৎ লাফিয়ে ওঠল, হুররে, পেয়েছি, পেয়েছি। সবাই একযোগে বলে ওঠল, কী পেয়েছ? আমরা সবাই মিলে চড়ুইভাতি করব। শানু বলল, কিন্তু বড়রা কি করতে দেবে? রিয়ানা বলল, কেন আমরা সবাই মিলে ভালো করে বুঝাব। এছাড়া আমাদের আফিয়া আন্টিতো আছেই। রিয়ানা বলল, চল তাহলে কাজ শুরু করা যাক। সবাই যার যার বাড়ি চলে গেল। অরিন ছাড়া সবাই রাজি করাতে পারল। অরিনদের বাসায় আফিয়া আন্টির যেতে হলো। আফিয়া আন্টিকে দেখে অরিনের মা চড়ু্ইভাতিতে যেতে দিতে রাজি হলেন।

 ওদের মহল্লা নতুন এলাকায়। সবেমাত্র দু’একটি পাকা দালান ওঠতে শুরু করেছে। আশপাশে বেশ খোলামেলা জায়গা। একটু দূরে লিচু বাগান। ঠিক হলো লিচু বাগানেই হবে ওদের চড়ুইভাতি। রিয়ানার এক কাকা আছে, নাম লেবু কাকা। তিনি নাকি ভালো রান্না করতে জানেন। বন্ধু মহলে অনেকের অনুরোধে রান্নাও করেন। ওরা কয়েকজন গিয়ে লেবু কাকাকে রাজি করালেন। লেবু কাকা বেশ খুশি হয়েই রাজি হলেন। যার যার বাসা থেকে চাল, ডাল, তেল, নুন, মসলাসহ রান্নার বিভিন্ন জিনিসপত্র চলে এলো। লিচু বাগানে সবাই হাজির। বেশ বড় বড় লিচু গাছ। মাঝখানে বড় খালি জায়গা। এখানেই রান্নার জন্য চুলা তৈরি করলেন লেবু কাকা আর আফিয়া আন্টি। আফিয়া আন্টি ঘোষণা করলেন তোমাদের খেলার জন্য দুঘণ্টা সময় দেওয়া হলো। সবাই হৈ হৈ রৈ রৈ করে লাফাতে লাফাতে বাগানের অন্যদিকে চলে গেল। সবাই একটা বড় লিচু গাছের নিচে এসে দাঁড়াল। অরিন বলল, কানামাছি খেলব। শানু বলল, না, লিচু বাগানে লুকোচুরি খেললে ভালো হবে। সবাই বলল, হ্যাঁ, এটাই খেলা যায়। সবাই মিলে লুকোচুরি খেলা শুরু করল। রিয়ানা হলো চোর। এক থেকে একশ গুনতে গুনতে সবাই লুকিয়ে পড়ল। রিয়ানা ওদের খুঁজতে বের হলো। এভাবে বেশকিছুক্ষণ খেলা চলল। প্রায় একঘণ্টা খেলার পর সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়ল। হঠাৎ করে মিহাদ গিয়ে গাছে উঠল। দেখাদেখি রনকও গাছে উঠল। মিহাদ বলল, গাছে অনেক পাকা লিচু। নিচে থেকে রিয়ানা বলল, খবরদার, কেউ লিচু পাড়বে না। অনুমতি না নিয়ে কারও গাছের লিচু পাড়তে হয় না। ওরা যখন কথা বলছিল তখন এক বয়স্ক লোক নিঃশব্দে ওদের পিছনে এসে দাঁড়াল। মাথায় পাকা চুল। বেশ ফর্সা। বলল, ঠিক আছে, লিচু পাড়। আমি অনুমতি দিচ্ছি। মিহাদ আর রনক মিলে বেশ অনেকগুলো পাকা লিচু পাড়ল। পরে সবাই মিলে যেখানে রান্না হচ্ছিল সেখানে এলো। লেবু কাকা বয়স্ক লোকটিকে দেখে উঠে দাঁড়াল। আরে চাচা, আপনি এখানে? বয়স্ক লোকটি বলল, তোমাদের চড়ুইভাতি দেখে ছুটে এলাম। ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে গেল। ছেলেবেলায় কত চড়ুইভাতি করেছি। কিন্তু আজকাল কোথাও এসব দেখা যায় না। আজ অনেকদিন পর কত যে আনন্দ পেলাম! লেবু কাকা বলল, উনি হলেন এই লিচু বাগানের মালিক। তাই নাকি! আফিয়া আন্টি বললেন। তাহলে, চাচা, আপনি আজ আমাদের সঙ্গে খাবেন।

বয়স্ক লোকটি মাথা নাড়তেই হাততালি দিয়ে উঠল সবাই। এদিকে তখন দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গিয়েছিল। সবাই গোল হয়ে বসল। লেবু কাকা আর আফিয়া আন্টি সবাইকে খাবার দিতে লাগল। গ্লাস, প্লেটসহ প্রয়োজনীয় জিনিস বাসা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। অনেকদিন পর মনে হলো সবাই বেশ মজা করে খেল। খাওয়া শেষে বাগানের মালিক ঘোষণা দিলেন, এখন এই লিচু বাগান তোমাদের জন্য সবসময় খোলা, তোমরা যখন খুশি তখন এসে খেলবে। দুপুর গড়িয়ে বিকাল। পাখিরা সব যার যার নীড়ে ফিরছে। দুষ্টরা সব বাড়ির দিকে পা বাড়াল। লিচু বাগানের চড়ুইভাতি ওদের মনে একটি ছবি হয়ে গেঁথে রইল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow