Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৭
শীতের ভ্রমণ
মো. পাপুল ইসলাম
শীতের ভ্রমণ

শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠা অনেকটা যুদ্ধের মতো, কিন্তু সেদিন সকালে কোনো কিছু মনে হলো না। কেননা- আমি, বাবু, আশিক, মেহেদী, আলাদিন আর মারুফ যাব কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘুরতে।

এসএসসি পরীক্ষার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু বাড়িতে অনুমতি নেওয়ার বিষয় আলাদিনের মা-বাবা অমত দেখা দেয়, যাহোক পরে অনুমতি নিয়ে আমরা বেড়িয়ে পরলাম গত মাসের ৮ তারিখে। প্রথমে ট্রেনে করে ঢাকা পরে বাসে করে কক্সবাজার যাব সরাসরি। তাই সবাই মিলে একে একে ট্রেন স্টেশনে এসে উপস্থিত হলো। আমি দেখতে পেলাম স্টেশনের কাছে এক বৃদ্ধ মহিলা ভাপা পিঠা বিক্রি করছে। আমরা সবাই পিঠা খেতে লাগলাম। হঠাৎ ট্রেন ছেড়ে দিল। আমরা সবাই ট্রেনে উঠে পড়লাম কিন্তু পিঠার দাম দেওয়ার কথা ভুলে গেলাম। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল, পিঠার দাম দিতে না পাড়ায়। কিন্তু হঠাতেই মনটা ভালো হয়ে গেল। আমি দেখতে পেলাম ট্রেনটা খুব দ্রুত চলছে আর ট্রেনের দু-ধারে কাঁশ ফুল গুলো দুলছে। দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙলো আশিকের ডাকে, বললো ওঠ ঢাকা এসে গেছে। তখন প্রায় দুপুর ৪টা বাজে। দুপুরের খাবার খেয়ে বাসে ওঠবো এমন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটল। আমি দেখতে পেলাম একটা বাস একজন পথিককে ধাক্কা দিল। লোকটা রাস্তায় পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আর রাস্তা ভিজে যায় রক্তে। আমরা সেখানে গেলাম আর সেই ঘটনার সাক্ষী হলাম। মারুফ বলে ওঠল লোকটাকে এখনি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সবাই ধরাধরি করে তাকে নিয়ে গেলাম পাশের একটা হাসপাতালে। তাড়াতাড়ি অপারেশন করতে হবে। ডাক্তার বলল টাকা লাগবে ৫০ হাজার আর রক্ত লাগবে ও’পজেটিভ। বাবুর রক্তের সাথে তার রক্তের গ্রুপ মিলে গেল আর কক্সবাজার যাওয়ার সব টাকা বন্ধুরা দিয়ে দিল। সবমিলে হয়েও গেল। তখন প্রায় রাত ১২টা বাজে। কোথায় গেল কক্সবাজার আর কোথায় গেল সমুদ্র সৈকত। আমরা পড়ে রইলাম ঢাকা শহরের নাম না জানা এক হাসপাতালে। পরের দিন সকালে লোকটির জ্ঞান ফিরল। পরিচয় জানতে চাইলে আমি বুঝতে পারলাম ট্রেন স্টেশনের ভাপা পিঠা বিক্রি করা বৃদ্ধ মহিলার ছেলে সে। ঢাকায় এসেছিল কাজের খোঁজে। অবশেষে তাকে নিয়ে স্টেশনে ফিরে এলাম, বৃদ্ধ মহিলা সব শুনে আমাকে জড়িয়ে ধরল। তখন আমার চোখে শুধু পানি। কক্সবাজার যাওয়া হয়নি কিন্তু আমি আমার জীবনে এমন ভ্রমণ কোনোদিন করিনি। বাড়িতে গিয়ে মা-বাবা জিজ্ঞাসা করলে সবটা খুলে বললাম। মাতো আমাকে জড়িয়ে ধরলেন আর বাবা বলল এইনা হলো আমার ছেলে। আবার একদিন বন্ধুরা ও মা-বাবা মিলে চা খেতে খেতে গল্পের মাঝে সিদ্ধান্ত নিলাম আগামী শীতে আবার কক্সবাজার যাব। এবার অনুমতির প্রয়োজন নেই। কারণ সবার বাবা-মা যাবে আমাদের সাথে। তাই এখন অপেক্ষা আগামী শীতটা যেন তাড়াতাড়ি আসে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow