Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:৫৩
জান্নাত-জাহান্নামের বিশ্বাস অন্তরে থাকতে হবে
মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহ্মূদুল হাসান

জান্নাত-জাহান্নামের বিশ্বাস যার অন্তরে নেই সে মুসলমান নয়। ইসলামের সব হুকুম-আহকাম পাঁচ ভাগে বিভক্ত যথা— (১) ইমানিয়াত : অর্থাৎ বিশ্বাসগত বিষয়। যেমন : আল্লাহ এক। জীবনে ভালো-মন্দ যা কিছু হয় সব তাকদিরের ফয়সালা অনুযায়ী হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহপাক দুনিয়াতে বহু আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন, তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো চারটি। আবার এই চারটির মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো সর্বশেষ নবীর কাছে নাজিলকৃত সর্বশেষ আসমানি কিতাব কোরআনুল কারিম। এ ছাড়াও মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, পুলসিরাত, হাশর ইত্যাদি বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা।

বিশ্বাস সংক্রান্ত বস্তুর মাঝে আমরা শুধু কোরআন শরিফকেই দেখেছি অন্য কিছু দেখিনি। ইমানের বিষয়সমূহ থেকে কোনো মানুষ যদি একটি বিষয়কেও অস্বীকার করে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। ইমানের বিষয়সমূহের মধ্যে এটি অন্যতম একটি প্রধান বিষয় যে, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সর্বশেষ নবী, তার পরে কেয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবী নবুওয়াতি দায়িত্ব নিয়ে দুনিয়াতে আগমন করবেন না।

(২) ইসলামী আহকামের দ্বিতীয় প্রকার হলো ইবাদত : অর্থাৎ নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি বিষয় সঠিকভাবে পালন করা। (৩) মুয়ামালাত : এ বিষয়টি সম্পর্কে মানুষের সম্যক জ্ঞান নেই। অর্থাৎ ইসলামে যে লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধান বর্ণিত আছে তা অনেক জেনারেল শিক্ষিতরা অবগত নয়। তারা ধারণা করে যে, এসব দুনিয়াবি বিষয় ইসলামে আলোচ্য কোনো বিষয় নয়। বস্তুত, যারা এমন ধারণা পোষণ করে তাদের জানা থাকা প্রয়োজন যে, এ বিষয়গুলো ছাড়া ইসলাম পরিপূর্ণ হতে পারে না। নামাজ, জাকাত, হজ, রোজার কথা যেমন বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, তদ্রূপ অর্থনীতির বিষয়টিও বিশদভাবে ইসলামী শরিয়তে আলোচিত হয়েছে। অন্য কোনো ধর্মে এভাবে আলোচিত হয়নি। অর্থনীতিবিদরা যখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের কোনো দিকনির্দেশনা দেয় তখন তারা বলে যে, মানুষের আয়ের উৎস বৃদ্ধি করতে হবে এবং ব্যয়ের খাত কমাতে হবে, তাহলেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী হবে। আজ দেখা যায় মানুষের অর্থের সংকট বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে; তার কারণ হলো, মানুষ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করে। যে ব্যক্তি আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করবে তার জীবনে কোনো দিনও আর্থিক সচ্ছলতা আসবে না, তার সংসারে অভাব লেগেই থাকবে।  মোটকথা নিজের ও পরিবারের, সমাজ ও দেশের আর্থিক অবস্থা উন্নত করতে হলে ব্যয়ের খাত কমাতে হবে।

লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow