Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ০০:১৫
চিনি ও ছোলার বাজারে অস্থিরতা
মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের সামাল দিন

মাহে রমজানের প্রাক্কালে বাজারে চিনি ও ছোলায় দামে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যে ছোলা দুই সপ্তাহ আগেও ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে তার দাম এখন ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

চিনির দাম প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে পৌঁছেছে ৬৫ টাকা। বাজারে পণ্য সরবরাহে ঘাটতি থাকলে দাম বেড়ে যায় এটি এক প্রতিষ্ঠিত সত্য। কিন্তু চাহিদার চেয়ে মজুদ বেশি থাকার পরও মাহে রমজানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত দুটি পণ্যের দাম গড়ে ৩০ ভাগ বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের অশুভ সিন্ডিকেট যে দায়ী তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। সাধারণ ব্যবসায়ীদের মতে, এবার রমজানের আগেই চিনি ও ছোলার পর্যাপ্ত আমদানি করেছে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্যবসায়ীরা। এ বছর এ দুটি পণ্য আমদানিকারকের সংখ্যা অন্যবারের তুলনায় ছিল কম। আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করায় ক্রেতাদের অসহায় পড়তে হচ্ছে। তবে ভোজ্য তেল ও ডালসহ রমজানের বাকি পণ্যের দর এবার অনেকটাই স্থিতিশীল। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের গত ১০ মাসে আমদানি করা মোট চিনির ৮১ শতাংশই শীর্ষ তিন শিল্প গ্রুপের। অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে তারা দেশে নিজেদের কারখানায় পরিশোধন করে। এই তিন প্রতিষ্ঠানের পরিশোধন কারখানা গত দুই মাসে কখনো না কখনো বন্ধ ছিল। ফলে বাজারে চিনি সরবরাহে কিছুটা সংকট দেখা দেয়। একই সঙ্গে চিনি সংকটের গুজব ডালপালা বিস্তার করায় চিনির দাম বেড়ে যায়। চলতি অর্থবছরে ছোলা আমদানি করেছে ৫৫টি প্রতিষ্ঠান, গত অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৯৮টি। গত বছর ছোলার বাজারে ধস নামায় এবার আমদানিকারকের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আমদানির সঙ্গে যুক্ত ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান ৫০ শতাংশের বেশি ছোলার আমদানিকারক। ছোলার মূল্য নিয়ন্ত্রণে তিন শীর্ষ আমদানিকারকের কারসাজি জড়িত বলে মনে করা হয়। রোজার দুই-তিন সপ্তাহ আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন এ বছর ছোলা, চিনি, তেল, ডাল ইত্যাদি পণ্যের মজুদ চাহিদার চেয়ে বেশি। রোজায় দাম বাড়ার বদলে কমবে এমন আভাসই তারা দিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রোজাদারদের পকেট কাটার যে চক্রান্ত চালাচ্ছে তা রুখতে সরকারকে এখনই শক্ত হতে হবে। মুনাফাখোরদের জিহ্বাকে সামাল দিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow