Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ০০:১৬
মুমিনদের সর্বাবস্থায় বিনয়ী হতে হবে
মাওলানা আবদুর রশিদ

আল্লাহকে সর্বাবস্থায় সম্মান করা, তার কাছে নিজেকে তুচ্ছ মনে করা এবং তার সামনে নিজেকে কাতরভাবে প্রকাশ করার নাম হলো বিনয়। হজরত হুজায়ফা (রা.) বলেন, তোমরা মুনাফেকি বিনয় থেকে বেঁচে থাক। তাকে প্রশ্ন করা হলো মুনাফেকি বিনয় কিরূপ? তিনি বললেন, শরীর বিনীত, অথচ অন্তরে বিনয় ও নিষ্ঠা নেই। তিনি আরও বলেন, ধর্মের সর্বপ্রথম যে জিনিসটা তোমাদের কাছ থেকে বিলুপ্ত হবে তা হচ্ছে বিনয়। যেসব ইবাদতে বিনয়ী হতে নির্দেশ এসেছে, তাতে যতটুকু বিনয় ও ভক্তি থাকবে, ততটুকু সওয়াব পাওয়া যাবে। যেমন নামাজ। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসল্লি সম্পর্কে বলেছেন, একজন মানুষ নামাজ পড়ে ফিরে যায়, অথচ তার নামাজের মাত্র এক দশমাংশের বেশি সওয়াব লেখা হয় না। কখনো নবমাংশ, কখনো অষ্টমাংশ, কখনো সপ্তমাংশ, কখনো ষষ্ঠাংশ, কখনো পঞ্চমাংশ, কখনো চতুর্থাংশ, কখনো তৃতীয়াংশ এবং কখনো অর্ধেক নামাজ কবুল হয়। (আবু দাউদ, নাসাঈ) বরং হয়তো নামাজে বিনয় ও ভক্তি সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত থাকার কারণে পুরো নামাজের সওয়াব থেকেই বঞ্চিত হয়।

মুমিনদের শুধু বিনয়ী হলে চলবে না, আল্লাহর করুণার মুখাপেক্ষী হতে হবে। সবকিছুতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। তাকে আশা-আকাঙ্ক্ষার উৎস ভাবতে হবে। ভয়ভীতি সহকারে আমল করার চাইতে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমল করার মর্যাদা উচ্চে। কেননা এতে আল্লাহর প্রতি সু-ধারণা সৃষ্টি হয়। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রতি যেরূপ ধারণা পোষণ করে, আমি সেভাবেই তার সঙ্গে আচরণ করি।’ (মুসলিম)। আশা-আকাঙ্ক্ষার স্তর দুটি উচ্চস্তর নেক কাজ সম্পাদন করে আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা করা। আয়েশা (রা.) বলেন, যে আল্লাহর রসুল! আল্লাহ বলেন, আর যারা প্রদত্ত রিজিক থেকে খরচ করে; অথচ তাদের অন্তর ভয়ে ভীত থাকে। (মুমিনুন : ৬০) সে কি ওই ব্যক্তি, যে চুক্তি করে, ব্যভিচার করে, মদ্যপান করে তারপর আল্লাহকে ভয় করে? তিনি বললেন, না হে সিদ্দিকের কন্যা। ওরা হচ্ছে, তারাই যারা নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, সাদকা করে অতঃপর ভয় করে যে, তাদের আমল হয়তো কবুল হবে না।

ওরা কল্যাণের কাজে দ্রুতগতি হয়। (মু’মিনুন : ৬১) (তিরমিজি), নিম্নস্তর অপরাধী তাওবা করার পর আল্লাহর ক্ষমার আশা করে। কিন্তু অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকার পর তাওবা না করেও আল্লাহর রহমতের আশা করাকে, ‘আশা-আকাঙ্ক্ষা’ বলে না তাকে বলা হয় দুরাশা।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow