Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:৫১
বায়তুল মোকাররমের খুতবা
কোরআন হাদিসের আলোকে রমজানের ফজিলত ও করণীয়
মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম
পেশ ইমাম
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ।

বছরের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ মাস হলো রমজান। প্রত্যেক মুসলিমের জীবনে রমজানের গুরুত্ব অপরিসীম। রমজান হলো পুণ্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মৌসুম। দীর্ঘ এক মাসের রোজা, তারাবি, তাহাজ্জুদ, কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করে এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে বিরত থেকে অর্জন করে হৃদয় ও আত্মার পরিশুদ্ধি। এ লক্ষ্যেই রমজানকে সামনে রেখে কোরআন হাদিস ও আছারের আলোকে রমজানের কিছু ফাজাইল ও করণীয় সম্পর্কে নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

রোজা একমাত্র আল্লাহর জন্য। শুধু আল্লাহর ভয়েই বান্দা পানাহার থেকে বিরত থাকে। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনি আদমের প্রতিটি আমলের প্রতিদান বহু গুণে বৃদ্ধি হতে থাকে, ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ, এমনকি আল্লাহ চাইলে তার চেয়েও বেশি দেন। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, তবে রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা, রোজা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি স্বয়ং এর প্রতিদান দিব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকে। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ : এক. ইফতারের মুহূর্তে দুই. রবের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তে। আর রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম। সহিহ মুসলিম হাদিস : ১১৫১।

অপর হাদিসে এসেছে, হজরত সাহ্হল ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি দরজা আছে। এই দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররা প্রবেশ করবে। ঘোষণা করা হবে, রোজাদার কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। যখন তারা প্রবেশ করবে তখন ওই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না। —সহিহ বুখারি হাদিস : ১৮৯৬।

অন্য রেওয়াতে আছে, জান্নাতে একটি দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। শুধু রোজাদারগণ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। আর যে তাতে প্রবেশ করবে সে কখনো পিপাসার্ত হবে না। —জামে তিরমিজি ৭৬; ইবনে মাজাহ : ১৬৪০

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রোজা এবং কোরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা মেটানো থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন দুজনের সুপারিশই গ্রহণ করা হবে। — মুসনাদে আহমদ হাদিস : ৬৫৮৯; তাবরানি, মাজমায়ু যাওয়াইদ ৩/৪১৯

রোজাদারের করণীয় : রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোজা হচ্ছে ঢাল।  যখন তোমাদের কেউ রোজা থাকে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং মূর্খের ন্যায় কাজ না করে। কেউ যদি গালি দেয় বা ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় তাহলে সে যেন বলে, আমি রোজাদার, আমি রোজাদার। সহিহ বুখারি হাদিস : ১৯০৪; সহিহ মুসলিম হাদিস : ১১৫১

অন্য হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ বর্জন করল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। সহিহ বুখারি হাদিস : ১৯০৩

নিয়মিত তারাবি পড়ুন : এ মাসের বিশেষ আমলের মধ্যে তারাবি নামাজ অন্যতম।  এ নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়। হাদিস শরিফে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে দণ্ডায়মান হয় তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সহিহ বুখারি হাদিস : ২০০৯




up-arrow