Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৫ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৮
কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলী
সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা ও সেরা ক্রীড়াবিদ

সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী আর নেই। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সের একটি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সর্বকালের এই বিশ্বসেরা ক্রীড়াবিদ। মুষ্টিযুদ্ধের এ মহানায়কের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির লুয়াভিলে, ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি। বাবা-মায়ের দেওয়া নাম ছিল ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে। ১৯৬৪ সালে তিনি ইসলাম ধর্মের দীক্ষা নেন। নিজের নামও বদল করেন মোহাম্মদ আলী হিসেবে। মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৯৫৪ সালে সাইকেল চুরির প্রতিশোধ নিতে মোহাম্মদ আলী নিষ্ঠুরতার খেলা মুষ্টিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন জেদের বশে। ছয় বছরের মধ্যে অভাবনীয় সাফল্যও অর্জন করেন। ১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রোম অলিম্পিকে অংশ নিয়ে লাইটওয়েট ক্যাটাগরিতে সোনাও পান তিনি। দেশে ফিরে পেশাদারি বক্সিংয়ে নাম লেখান মোহাম্মদ আলী। ১৯৬৪ সালে সনি লিস্টনকে নকআউট করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবির্ভূত হন। মোহাম্মদ আলী মুষ্টিযুদ্ধকে অনন্য সুন্দর নান্দনিক রূপ দিয়েছেন। বক্সিংয়ের রিংয়ে তার মৌমাছির মতো নৃত্য এবং শৈল্পিক কায়দায় প্রতিপক্ষের ওপর আঘাত দর্শকদের কাছে মোহনীয় আকর্ষণ সৃষ্টি করে। মুষ্টিযুদ্ধের ইতিহাসে মোহাম্মদ আলী যে অমরতার তকমা ধারণ করেছেন তা কখনো কেউ স্পর্শ করতে পারবে কিনা সন্দেহ। অসামান্য নীতিবোধ ও মানবতাবাদী মনোভাব তাকে দুনিয়ার সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধাই শুধু নয়, ক্রীড়াবিদের মর্যাদাও দিয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করে তিনি দুনিয়াজুড়ে সাড়া জাগান। এ জন্য তার শিরোপার খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়, তিন বছর পেশাদারি মুষ্টিযুদ্ধে নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের বিবেচনায় মোহাম্মদ আলী আদর্শবাদকে বিসর্জন দেননি। ইসলাম গ্রহণের পর পেশাগত জীবন হুমকির মুখে পড়লেও তিনি পরোয়া করেননি। দেশের কৃষ্ণাঙ্গসহ সব মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মোহাম্মদ আলী ছিলেন আপসহীন। ১৯৭৮ সালে সপরিবারে বাংলাদেশ সফর করেন এই মহান মুষ্টিযোদ্ধা এবং তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। তার হৃদয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল অটুট। বাংলাদেশপ্রেমী সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীকে আমাদের শেষ অভিবাদন।




up-arrow