Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০
রমজানে মিথ্যাচার ও মোনাফেকি বর্জনের শপথ নিতে হবে
মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব আলী

মাহে রমজানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশ্বের সমস্ত মুমিন মুসলমানরা। নিজেদের সত্যিকারের মুমিন হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে এই পবিত্র মাস। সব ধরনের গুনাহ থেকে দূরে থাকার তাগিদ দেয় এই পবিত্র মাস। মাহে রমজানে মিথ্যাচার ও মোনাফেকির কবিরা গুনাহ যাতে আমাদের স্পর্শ না করতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মোনাফেকি ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বারবার হুঁশিয়ার করেছেন। পবিত্র কোরআনে এবং রসুল (সা.)-এর হাদিসে মিথ্যাচার এবং মোনাফেকির পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এ জন্য অতীতে বিভিন্ন জাতিকে কী পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে তা বিভিন্ন আসমানি কিতাবেও উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে— ‘অসত্যভাষীদের’ ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত।’ সূরা আয-যারিয়াতের ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে ‘অনুমানকারীরা (মিত্যাবাদীরা) ধ্বংস হোক।’ সূরা মুমিনের ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাকের ঘোষণা— নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যাচারীকে পথ প্রদর্শন করেন না।

সহিহ বোখারি ও মুসলিম শরিফে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, রসুল (সা.) বলেন : ‘সত্যবাদিতা সততার পথ প্রদর্শন করে, আর সততা পৌঁছে দেয় জান্নাতে। যে লোক ক্রমাগত সত্য কথা বলে এবং সত্যের ওপর একনিষ্ঠ থাকে, আল্লাহর দফতরে তাকে সিদ্দিক বা পরম সত্যনিষ্ঠ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। আর মিথ্যা মানুষকে অসৎ কাজের দিকে টেনে নেয়, আর অসৎ কাজ মানুষকে জাহান্নামে পৌঁছে দেয়। যে লোক ক্রমাগত অসত্য বলে এবং অসত্য ভাষণে সদা সচেষ্ট, আল্লাহর দফতরে তাকে কাযযাব— চরম মিথ্যুক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। বোখারি ও মুসলিমের হাদিসে রসুল (সা.) বলেন : ‘মোনাফেকের আলামত তিনটি : সে যতই নামাজ-রোজা পালন করে মুসলমান হিসেবে নিজের পরিচয় দিক না কেন, কথা বলায় সে অসত্য বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে, তার কাছে কিছু গচ্ছিত রাখলে তা আত্মসাৎ করে।’ অপর এক হাদিসে রসুল (সা.) বলেন : ‘যার ভিতর চারটি দোষ পাওয়া যাবে, সে পুরোপুরি মোনাফিক (হয়ে পড়েছে)। আর যার ভিতর কোনো একটি পাওয়া যাবে, সে তা বর্জন না করা পর্যন্ত মোনাফেকির একটি অভ্যাসে অভ্যস্ত থাকে। সেই চারটি দোষ হচ্ছে— কিছু গচ্ছিত রাখলে তা আত্মসাৎ করা, কথা বললে মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করা, বিরোধের সময় গালিগালাজ করা।’ আল্লাহ আমাদের সবাইকে মিথ্যাচার এবং সব ধরনের মোনাফেকি থেকে দূরে থাকার তওফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।




up-arrow