Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৯
সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলা
জড়িতদের আইনের আওতায় আনুন

দেশে একই দিনে একই ধরনের তিনটি হত্যাকাণ্ড এবং এর সঙ্গে জঙ্গিবাদের সংশ্লিষ্টতা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রাম নগরীতে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এক পুলিশ সুপারের স্ত্রীকে। নাটোরে একজন বৃদ্ধ খ্রিস্টান দোকানিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসের বরপুত্ররা। রাজধানীর উত্তরায় একজন কর্নেলের মাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে নির্মমভাবে। খুনিরা বাসগৃহের আলমারি ভাঙলেও সেখান থেকে কোনো জিনিসই খোয়া যায়নি। এমনকি নগদ দুই লাখ টাকায় তারা হাত দেয়নি। একই দিনে দেশের তিন প্রান্তের তিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গিবাদের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে নানা কারণে। চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে প্রকাশ্যে রাজপথে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে মোটরসাইকেলে আগত ঘাতকরা। জঙ্গি দমনে বাবুল আক্তারের বিশেষ ভূমিকার কারণে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর আঘাত হানা হয়েছে, এমন সন্দেহই দানা বেঁধে উঠেছে বোদ্ধাজনদের মধ্যে। সন্দেহ সত্যি হলে এটি হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পারিবারিক সদস্যদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার প্রথম ঘটনা। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ বিষিয়ে তোলাও সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অন্যতম টার্গেট বলে মনে করা হয়। নাটোরে একজন নিরীহ খ্রিস্টান দোকানিকে হত্যা সে অপচেষ্টার অংশ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। উত্তরায় একজন কর্নেলের মাকে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমেও অশুভ চক্রের জিঘাংসার প্রকাশ ঘটেছে। বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাস্তিবিধানের প্রক্রিয়ার পর হঠাৎ করে জঙ্গি তত্পরতা বৃদ্ধির পেছনে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ দলের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলাতে চায় সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদী অশুভশক্তি। তাদের ইন্ধনেও জঙ্গিবাদ উত্থানের নাটক অভিনীত হচ্ছে কিনা, সে সংশয়ও প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার। যে কারণেই হোক এক দিনে একই ধরনের তিন হত্যাকাণ্ড জননিরাপত্তার জন্য বিসংবাদ সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় আনা সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে কোনো হেলাফেলা কাম্য নয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow