Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৮
বাংলাদেশ সৌদি আরব সহযোগিতা
দুই ভ্রাতৃপ্রতিম জাতির কল্যাণ নিশ্চিত করবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফর এবং বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দান করেছে। বৈঠকে সৌদি বাদশাহ সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থা মোকাবিলায় ইসলামী জোটে বাংলাদেশের যোগদানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইসলামী জোট কনসেপ্টের দুটি অংশ রয়েছে— একটি সামরিক কেন্দ্রিক অপরটি রাজনৈতিক। বাংলাদেশ কোন অংশে যোগ দেবে তা তাদের ওপর নির্ভরশীল এবং এটি বাধ্যতামূলক নয় বরং স্বেচ্ছাভিত্তিক। সৌদি আরব বাংলাদেশের ইসলামী জোটে যোগদানের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, সৌদি আরব বরাবরই বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের একটি বিশেষ জায়গা দখল করে রয়েছে। সৌদি আরবের মক্কা এবং মদিনায় দুটি পবিত্র মসজিদের অবস্থান এবং এ দেশটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মভূমি। ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী উপলব্ধি এবং যাতে কেউ পবিত্র ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করে কোনোরকম ফায়দা লুটতে না পারে তা নিশ্চিত করতে তার সরকার সারা দেশে ৫৬০টি ইসলামিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ইসলামের শান্তির বাণী সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং সব ধর্মাবলম্বীর বসবাসের উপযোগী বাংলাদেশ গড়ে তোলাকে তার সরকার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সৌদি বাদশাহ সন্তোষ জানিয়ে এতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সৌদি শ্রমমন্ত্রী ড. মুফরেজ বিন সাদ আল হাকবানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশ থেকে আরও পাঁচ লাখ শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জেদ্দায় সৌদি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দেন এবং বলেন, বাংলাদেশ হতে পারে সৌদি ব্যবসায়ীদের সেকেন্ড হোম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জেদ্দা চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতারা বাংলাদেশে শিগগির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সৌদি বাদশাহ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দান করেছে। এ সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার মধ্যে রয়েছে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম জাতির কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ।




up-arrow