Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৯
বাড়ছে সাইবার অপরাধ
আইন প্রয়োগকারীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে

সাইবার অপরাধীদের দৌরাত্ম্য সীমা অতিক্রম করতে চলেছে। অপরাধ দমনে দেশে দৃশ্যত কড়া আইন থাকলেও দক্ষ জনশক্তির অভাবে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে সহজ-সরল সাধারণ মানুষের সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়ার পরও সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না পুলিশ প্রশাসন। সাইবার অপরাধীদের কবল থেকে বাদ যাচ্ছেন না ভিআইপি, ভিভিআইপি কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সাইবার অপরাধ ঠেকাতে সরকার ২০১৫ সালে ডিজিটাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রণয়ন করলেও তা বাস্তবে খুব একটা কাজে আসছে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল ও সচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকায় সাইবার অপরাধীরা যা ইচ্ছা তাই করার সুযোগ পাচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনে আইনের সংস্কার, এমনকি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়িয়ে অপরাধীদের দমনে উদ্যোগ নিতে হবে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যুগোপযোগী না হওয়ায় হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রযুক্তি এবং সক্ষমতার দিক থেকে আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে থাকায় অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। নানা কারণে বিদেশি অপরাধীরা বাংলাদেশে তত্পর। সাইবার অপরাধীদের কবল থেকে সিনিয়র মন্ত্রীরাও রক্ষা পাচ্ছেন না। ফেসবুকে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি কোনো আইডি পরিচালনা না করলেও তার নামে পাঁচটি আইডির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। মন্ত্রী এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগও করেছেন। গত মাসের প্রথম দিকে দেশের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ১৯ হাজার ১০০ ডলার হাতিয়ে নেয় দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্র। এ অপরাধের গিনি বিসাউয়ের একজন নাগরিক ও এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার এবং তাদের কাছ থেকে চার লাখ টাকা উদ্ধারও করা হয়েছে। এ প্রতারকসহ আরও কয়েকজন বিদেশি সদস্যকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সাইবার অপরাধ নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow