Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৯
কিয়ামতে রোজা রোজাদারদের জন্য সুপারিশ করবে
মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

কষ্ট করে দুনিয়াতে যারা রোজা রাখবে তাদের জন্য কেয়ামতের দিন রোজা সুপারিশ করবে। পবিত্র কোরআন সুপারিশ করবে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলে পাক (সা.) বলেছেন, রোজা এবং কোরআন (কেয়ামতের দিন) আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে (রমজানের) দিনে পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং আমার সুপারিশ তার ব্যাপারে কবুল করুন। অতএব, উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে (এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে)। বায়হাকি। অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজান মাসে মানুষ অন্যায় কাজে কম জড়িত হয় এবং ভালো কাজে বেশি মনোযোগী হয়। কারণ, হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুলে আরাবি (সা.) বলেছেন, যখন রমজানের প্রথম রাত আসে শয়তান ও অবাধ্য জিনসমূহকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। দোজখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতঃপর এর কোনো দরজাই খোলা হয় না। বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। অতঃপর এর কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না। এ মাসে এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে ভালোর অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! থাম। আলাহতায়ালা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে দোজখ থেকে মুক্তি দেন। আর এটা প্রতি রাতেই হয়ে থাকে। তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ। রমজান মাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে মানুষের প্রতি দয়া করা। দান করা। এ বিষয়ে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যখন রমজান মাস উপস্থিত হতো রসুল (সা.) সব কয়েদিকে মুক্তি দিতেন এবং প্রত্যেক যাঞ্চাকারীকে দান করতেন। বায়হাকি। আরেকটি হাদিসে এসেছে এ মাসে রসুল (সা.)-এর দান এতই বৃদ্ধি পেত যে, তা যেন প্রবল ঝড়োবায়ুর মতো মনে হয়। অর্থাৎ এ মাসে যে কোনো ব্যক্তি রসুল (সা.)-এর কাছে আসত তাকে তিনি দান করতেন। তাই আমাদের এ মাসে মানুষের ওপর দয়া করতে হবে। অভাবি মানুষকে দান করতে হবে।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।




up-arrow