Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ জুন, ২০১৬ ২৩:১৫
বন্ধ হোক টার্গেট কিলিং
অপরাধী যেই হোক তাকে ধরতেই হবে

অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীরা একের পর এক টার্গেট কিলিং শুরু করেছে। অশুভ এই চক্রের হাতে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ঝিনাইদহে প্রাণ হারিয়েছেন গোপাল ঠাকুর (৭৫) নামের এক বর্ষীয়ান পুরোহিত।

এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে ইসলামী স্টেট (আইএস) নামের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন। এর আগে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ধর্মযাজক ও পুরোহিতরাও জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুরোহিত ধর্মযাজকসহ সাধারণ মানুষকেও তারা টার্গেট করছে। দেশে একের পর এক টার্গেট কিলিং হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো গভীর অন্ধকারে। অপরাধীদের শাস্তি বিধানের ব্যর্থতা দুর্বৃত্তদের যা ইচ্ছে তাই করার সাহস জোগাচ্ছে। মনে হচ্ছে দেশ ও জাতিকে এক গভীর ষড়যন্ত্রে ফেলার জন্য অশুভ এক মহল টার্গেট কিলিংয়ের আশ্রয় নিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আকাশছোঁয়া সুনামকে ভূলুণ্ঠিত করার চক্রান্ত চালাচ্ছে তারা। এ অপকর্মে যুদ্ধাপরাধীদের একটি দল জড়িত বলে সরকারি নেতারা প্রায়ই অভিযোগ করছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে পথ চলা এবং অগ্রগতিতে নাখোশ কোনো কোনো পশ্চিমা দেশের ষড়যন্ত্রে টার্গেট কিলিংয়ের আশঙ্কাও করা হচ্ছে কোনো কোনো মহলের পক্ষ থেকে। সর্বশেষ উঠেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নাম। বাংলাদেশের জঙ্গি তত্পরতা সম্পর্কে ইসরায়েলি মহলের অতিউৎসাহী ভূমিকার বিষয়টি বেশ পুরনো। দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ ওঠার পর উৎকণ্ঠার বিস্তারও ঘটেছে সমানতালে। টার্গেট কিলিংয়ে যারাই জড়িত থাকুক তা উদঘাটনের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর— বড় মাপে সরকারের। এ পর্যন্ত কোনো টার্গেট কিলিংয়ের হোতাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হওয়ায় তারা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। শুধু জননিরাপত্তা নয়, সরকারের জন্যও অশনি সংকেত সৃষ্টি করছে। নিজেদের স্বার্থেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা তাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধী যেই হোক তাকে ধরতে হবে। এর অন্যথা হওয়া উচিত নয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow