Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৮ জুন, ২০১৬ ২৩:১৬
ধর্মতত্ত্ব
বিভিন্ন নবীর যুগের রোজা
মহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহ্মূদুল হাসান

হজরত আদম (আ.)-এর যুগে রোজা : পূর্বের শরীয়তসমূহে রোজা কোন ধরনের বা কত দিনের ছিল, কোন মাস অথবা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত ছিল কি না, এ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যন্ত মুশকিল। হজরত আল্লামা আলুসীর মতে, হজরত আদমের প্রতিও রোজার হুকুম ছিল, কিন্তু সেই রোজার বিস্তৃত বর্ণনা আমাদের জানা নেই। অন্যান্য তাফসির বিশারদও এই ধরনের মত পোষণ করেছেন। এ সম্পর্কে ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা আরিফ বিল্লাহ শাইখুল হিন্দ আল্লামা মাহমুদুল হাসান (রহ.) উপরোক্ত আয়াতের তাফসিরে বলেন : ‘রোজার হুকুম যথারীতি হজরত আদমের (আ.) যুগ হতে শুরু করে অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে।

হজরত নূহের যুগে রোজা : হজরত নূহ (আ.)-এর যুগে বিস্তৃত শরীয়ত অবতীর্ণ হয়। হজরত নূহের পূর্বেও শরীয়ত ছিল। কিন্তু পৃথিবীর তখন প্রথম যুগ, তাই সেই যুগে শরীয়তের বিষয়াদির অহি ছিল অত্যন্ত সীমিত। সেই যুগে বেশির ভাগই ছিল পৃথিবী গড়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলি সংক্রান্ত অহি। আর এই প্রশ্নে হজরত নূহের যুগ ছিল একেবারেই স্বতন্ত্র। এই যুগ থেকেই শুরু হয় খোদাদ্রোহিতা ও অহির আদেশের অমান্যতা। হজরত নূহকে লক্ষ্য করেই আল্লাহপাক ইরশাদ করেন : ‘যারা ইমান এনেছে, তারা ব্যতীত আর কেউই ইমান আনবে না।’ তখন হজরত নূহ (আ.) অতিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেছিলেন : ‘হে আমার রব! পৃথিবীর বুকে কোনো কাফেরের গৃহ যে অবশিষ্ট না থাকে।’ হাশরের ময়দানে শাফাআতের জন্য উম্মতগণ সর্বপ্রথম হজরত নূহের কাছে গমন করবে। হজরত নূহ (আ.)-কে পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম রসুল হিসেবে ঘোষণা করে বলা হয়েছে : ‘আপনি বিশ্ববাসীর মাঝে শরীয়ত বর্ণনাকারী প্রথম রসুল।’ আল্লামা ইবনে কাছীর স্বীয় প্রসিদ্ধ তাফসিরে লিখেছেন, হজরত নূহের যুগ থেকে প্রত্যেক মাসেই তিনটি রোজা পালন করার হুকুম ছিল এবং এ হুকুম বিশ্ব নবীর (সা.) যুগ পর্যন্ত বহাল ছিল। অতঃপর যখন রমজানে রোজা পালনের হুকুম হলো, তখন থেকে প্রতি মাসে তিনটি রোজা পালনের হুকুম রহিত হলো। এই বর্ণনার দ্বারা সুস্পষ্ট বোঝা যায় যে, হজরত নূহের যুগেও রোজার বিধান চালু ছিল। হজরত মূসার যুগে রোজা : যখন আল্লাহপাক হজরত মূসা (আ.)-কে তূর পর্বতে ডেকে তাওরাত প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেন, তখন আল্লাহপাক হজরত মূসাকে সেখানে ত্রিশ রাত অবস্থানের নির্দেশ দিলেন। বাইবেলেও রোজার কথা বলা হয়েছে।

লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ, ঢাকা।




up-arrow