Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৯ জুন, ২০১৬ ২২:৫৬
রোজা কেন কখন এবং কীভাবে রাখবেন!
গোলাম মাওলা রনি
রোজা কেন কখন এবং কীভাবে রাখবেন!

রোজার বিস্ময়কর উপকারিতা সম্পর্কে আজ আমি এমন কিছু কথা বলার চেষ্টা করব যা সচরাচর উচ্চারিত হয় না। আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে তিনটি জিনিস প্রায় সব সময় পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করতে থাকে। আমাদের মস্তিষ্ক এবং বিবেক মন এবং শারীরিক চাহিদা প্রায় সর্বক্ষেত্রেই একে অপরের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঐকমত্য পোষণ করতে পারে না। ধরুন আপনার বুদ্ধি বলল, ডানে যাও।  বিবেক বলল, যাওয়া ঠিক হবে না, মন বলল, সখিনাদের বাড়িতে চল। শরীর বলল, একটু বিশ্রাম দরকার। পেট বলল, কলা খাব। চোখ বলল, টিয়া পাখি দেখব। অন্যদিকে কান বলল, আমি রবীন্দ্র সংগীত শুনব। এসব কথা শুনে জিহ্বা বলল আমিই বা বসে থাকব কেন— আমার চাই তরতাজা খাসির মাংসের রেজালা এবং মচমচে গরম গরম ঘিয়ে ভাজা পরোটা এবং ফরিদপুরের টসটসে রসগোল্লা। মানব মন-মস্তিষ্ক এবং শরীরের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের তীব্রতার কারণে আমাদের কোষগুলো অধিক হারে মরে যায়— চিন্তাশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আমরা একসময় বার্ধক্যের কবলে পড়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাই। আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, শরীর মন ও মস্তিষ্কের এ ত্রিমুখী লড়াইয়ের একটি বিরাট অংশ রোজাদারকে আক্রমণ করতে পারে না।

রোজা রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম। অন্যদিকে রমজান মাসে রোজা রাখা মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। বিভিন্ন কারণে রমজান মাসটিকে ইসলাম ধর্মে অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্রময় বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এ মাসের প্রকৃতি, পরিবেশ এবং সব ফরজ ও নফল ইবাদতের মানমর্যাদা বছরের অন্যান্য মাস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। পবিত্র আল কোরআনের তাফসিরকারকরা এবং বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিসরা পবিত্র মাহে রমজানের বহুমুখী বরকত, রহমত এবং গুনাহ মুক্তি অর্থাৎ মাগফিরাতের হাজারও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এ পবিত্র মাসে জান্নাতের দরজা খোলা থাকে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে, বান্দার গুনাহ মুক্তি এবং পুণ্য কর্মের মহাসুযোগ সৃষ্টি দুনিয়া ও আখেরাতের মহাসাফল্য ইত্যাদি বিষয়ে অসংখ্য ওয়াজ নসিহত গত চৌদ্দশ বছর ধরে চলে আসছে বিধায় মুসলমানরা কমবেশি সবাই তা জানেন। কাজেই আমি ওসব প্রসঙ্গে না গিয়ে ভিন্নতর উপায়ে রোজার ফজিলত বর্ণনার চেষ্টা করব।

শিরোনামের প্রথমেই বলা হয়েছে— রোজা কেন রাখবেন। তারপর বলা হয়েছে কখন এবং কীভাবে রাখবেন। ইসলামের বিধানমতে সুবেহ সাদিকের আগে পানাহার শেষ করে সারাটা দিন অভুক্ত থেকে সূর্যাস্তের ঠিক পরক্ষণেই ইফতারের অসিলায় খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের মাধ্যমে একজন মুমিন তার রোজার প্রাথমিক শর্তটি পূর্ণ করেন। পানাহারমুক্ত অভুক্ত জীবনযাপনের বাইরে একজন রোজাদারকে আরও অনেক শর্ত পালন করতে হয়। কম কথা বলা, অন্যের অনিষ্ট চিন্তা না করা, ভালো ভালো কর্ম এবং সুচিন্তার অনুশীলন রোজার অন্যতম শর্ত। যুদ্ধ-বিগ্রহ, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, মিথ্যাচার, অনাচার, ব্যভিচারসহ যাবতীয় কুকর্ম থেকে নিজেকে যদি রোজাদার নিবৃত রাখতে না পারেন তাহলে তার রোজা কবুল হবে না। রোজাদার পুরুষ এবং মহিলারা রোজা অবস্থায় শরিয়তের কিছু হালাল ও বৈধ কর্মও করতে পারবেন না। এর বাইরে রাগ না হওয়া, উত্তেজিত না হওয়া, মন্দ সংসর্গ ত্যাগ করা, অধিক পরিশ্রম, অধিক নিদ্রা, অধিক বিশ্রাম ইত্যাদি নানাবিধ কারণ রয়েছে যার ফলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে। আজকের নিবন্ধে আমি এসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনায় যাব না।

নিবন্ধের শুরুতে বলেছিলাম রোজার বিস্ময়কর উপকারিতা সম্পর্কে। আপনি যদি একজন সুস্থ ও সবল মানুষ হন তবে জেনে নিন রোজার ফলে আপনার শরীর, মন, মস্তিষ্ক এবং আত্মার কী কী উপকার সাধিত হতে পারে। প্রথমে শরীর সম্পর্কে বলি। আপনারা অনেকেই জানেন যে, দিনের মধ্যে আপনার পুরো শরীর প্রাকৃতিক নিয়মে বেশ কয়েকবার একটু মোটাসোটা এবং ভারী হয়ে যায়। আবার কিছুক্ষণ বাদে শরীরটা যেমন চিকন হয়ে পড়ে তেমনি কিছুটা ওজনও হারায়। শরীরের এ প্রসারণ-সংকোচন প্রক্রিয়াটি যত সুন্দর ও সুচারুরূপে হবে ততই তা আপনার জন্য মঙ্গলজনক। আপনার শরীরের প্রতিটি কোষ প্রকৃতি থেকে জলীয়বাষ্প গ্রহণ করে একবার মোটাতাজা হয় এবং পরবর্তীতে তা নিঃসরণ করে চিকন হয়ে যায়। যে কোষটি যতবেশি মোটা এবং যতবেশি চিকন হওয়ার সামর্থ্য রাখে সেটি আপনার শরীরের জন্য ততবেশি উপকারী বস্তু হিসেবে বেঁচে থাকে এবং আপনাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। কোনো কোষ যদি মোটা ও চিকন হওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলে তবে সেটি মরে যায় এবং আপনাকেও মৃত্যুর দিকে টানতে আরম্ভ করে। রোজাদার অবস্থায় একজন মানুষের শরীরের কোষগুলো যেমন সর্বোচ্চ পর্যায়ে শরীরের পনিসমূহ নিঃসরণ করে নিজেকে চিকন বানিয়ে ফেলে ঠিক তেমনি ইফতারের পর কোষগুলো সর্বাধিক স্ফিত আকার ধারণ করে।

আপনার অজান্তে শরীরের একেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আপনার মস্তিষ্কের কাছে নিজেদের অভাব অভিযোগ এবং প্রয়োজনের চাহিদাপত্র পাঠায়। আপনার মস্তিষ্ক পরিবেশ প্রতিবেশ অনুযায়ী সেসব চাহিদাপত্র নিষ্পত্তি করে। এগুলোকে বলা হয় ‘অটো সাজেশন’। আপনার শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে যত বেশি অটো সাজেশনের লেনদেন হবে আপনি ততই সুন্দর, সুস্থ সবল দেহ ও মনের অধিকারী হয়ে পড়বেন। রোজাদার ব্যক্তির শরীরে এত বেশি অটো সাজেশনের লেনদেন শুরু হয়ে যায়, যা আধুনিক বিজ্ঞানকে পর্যন্ত চমকিত করে দিয়েছে। রোজাদারের শরীর তার মস্তিষ্কের কাছে কাজ করার জন্য শক্তি চেয়ে আবেদন করে। মস্তিষ্ক তখন শরীরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা চর্বিকে পুড়িয়ে শক্তি উত্পন্ন করার পরামর্শ দেয়। বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে— মস্তিষ্কের পরামর্শে শরীরের প্রয়োজনে প্রতি ঘণ্টায় যে পরিমাণ চর্বি ঝরানো সম্ভব তা যদি ব্যায়াম অথবা কায়িক পরিশ্রম করে ঝরাতে হতো তবে সময় লাগত কমপক্ষে পঁচিশ গুণ বেশি। তাছাড়া রোজার ফলে শরীরের এমন সব দুর্ভেদ্য এবং স্পর্শকাতর স্থানের চর্বি ঝরে পড়ে যা কিনা ব্যায়াম বা পরিশ্রম দ্বারা সম্ভব নয়। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে অপারেশনের মাধ্যমেও সেসব চর্বি অপসারণ সম্ভব নয়। রোজার ফলে আপনার শরীরের পরিপাকতন্ত্র সবল ও সতেজ হয়ে অধিকতর কার্যক্ষম হয়ে ওঠে। কারও যদি হজমে গণ্ডগোল থাকে এবং মলত্যাগে সমস্যা হয় তবে রোজার চেয়ে উত্তম চিকিৎসা আর কিছুই হতে পারে না। রোজাদারের পাকস্থলি সারাটা দিন বিশ্রামে থাকার সুযোগ পায়, অন্যদিকে রেচনতন্ত্রে এমন কতগুলো রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া শুরু হয় যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং প্যানক্রিয়াসের জমে থাকা ময়লা আবর্জনাসমূহ নিঃসরণ করে দেয়। ফলে শরীর তুলনামূলকভাবে শীতল হয়, ত্বক মসৃণ এবং উজ্জ্বল হয়ে পড়ে এবং মনমানসিকতায় এক ধরনের প্রশান্তি চলে আসে।

রোজার ফলে শরীরের ওজন কমে যায়। শরীরের জমে থাকা চর্বির স্তরকে রোজাদারের শরীর শর্করার পরিবর্তে প্রাথমিক শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে। এটি একটি নিখুঁত এবং সুষম মহাজাগতিক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া যা মানুষের আবিষ্কৃত বিজ্ঞান দ্বারা সম্ভব নয়। ফলে আধুনিককালের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদরা নিজেদের শরীরকে মেদমুক্ত রাখার জন্য নিয়মিত উপবাসব্রত করেন। রোজার কারণে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। শরীরের ইনসুলিনের ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় সমতা আনয়ন করে। রোজাদারের শরীর চিনিসহ অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাদ্য (কার্বহাইড্রেড) এমনভাবে গ্রহণ করে যেমনটি অরোজাদারের শরীর পারে না। নিয়মিত রোজা রাখার ফলে শরীরে এমন অটো সাজেশনের সৃষ্টি হয় যখন কোষগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ত থেকে প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ টেনে নিয়ে যায়। ফলে রোজাদারের ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

রোজা মানুষকে দীর্ঘজীবী করে। আপনি বিশ্বাস করুন অথবা না-ই করুন বিজ্ঞান কিন্তু ঠিকই প্রমাণ করে ছেড়েছে যে, মানুষের জীবন খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। আপনি যত কম খাবেন আপনার পরিপাকতন্ত্র ততই সুস্থ থাকবে। আর সুস্থ পরিপাকতন্ত্র আপনার খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় প্রাণরস নিখুঁতভাবে আলাদাকরণ এবং পরবর্তীতে তা সংরক্ষণ এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বিতরণের মাধ্যমে আপনাকে ধরাধামে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেবে। এ কারণেই আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্লোগান হলো আপনি যত কম খাবেন ততই দীর্ঘজীবী হবেন।

রোজা আপনার ক্ষুধার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ক্ষুধার গুণগত মানও রোজার কারণে সৃষ্টি হয়ে যায়। আমাদের অতি ভোজনের মূল কারণ অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা যাকে আমরা গ্রামবাংলায় ঠাট্টা করে চোখের ক্ষুধা বলে থাকি। দৈনিক বহুবার খাদ্যগ্রহণ অথবা তিন/চার ঘণ্টা অন্তর খাদ্যগ্রহণের ফলে একদিকে যেমন ক্ষুধা সৃষ্টি হয় না ক্ষুধাহীন অবস্থায় কোনো খাদ্যের স্বাদ পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। রোজার সময় মানুষের শরীর থেকে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয় যা তাকে সত্যিকার অর্থে ক্ষুধার্ত করে তোলে এবং শরীর মনকে ক্ষুধার মর্ম অনুধাবন করতে বাধ্য করে। ক্ষুধার্তের শরীর যে কোনো খাদ্য সহজে গ্রহণ করতে পারে এবং ক্ষুধা নিবৃত্তির পর শরীর ও মনে এক ধরনের অনাবিল প্রশান্তি সৃষ্টি হয়ে যায়। যাদের ক্ষুধা মন্দার রোগ আছে অথবা খাদ্যে অরুচি রয়েছে তাদের জন্য রোজা হলো এক মহাবিস্ময়কর মহৌষধ।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে রোজা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। রোজাদারের মস্তিষ্কে এক ধরনের প্রোটিন সৃষ্টি হয় যার নাম বিডিএনএফ (ইউঘঋ-নত্ধরহ-ফবত্রাবফ হবংত্ড়ঃত্ড়ঢ়যরপ ভধপঃড়ৎ) মস্তিষ্ককে সচল এবং অধিক মাত্রায় সচেতন ও সক্ষম করে তোলে। মানুষের মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনার একেকটির নাম নিউরন। বিডিএনএফ নতুন নতুন নিউরন সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্য উত্পন্ন করে যা কিনা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মানুষ মস্তিষ্কসংক্রান্ত দুটি মারাত্মক রোগ যথা— আলঝেইমার এবং পারকিনসন থেকে নিজেদের হেফাজত করতে পারে। রোজা মানুষের শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। রোজাদারের শরীরে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে না। শরীরের অভ্যন্তরে যে ক্ষতসমূহ সৃষ্টি হয় তা রোজাকালীন সেরে ওঠে। প্রকৃতির দিকে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই যে, কোনো পশু বা পাখি রোগাক্রান্ত হলে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে অধিক হারে বিশ্রাম গ্রহণ করে। এভাবে তারা শরীরকে এমনভাবে রিলাক্স মুডে নিয়ে যায় যার ফলশ্রুতিতে শরীর তার অভ্যন্তরস্থ রোগবালাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা পেয়ে যায়।

রোজা মানুষের আত্ম উন্নয়ন, অন্যের দুঃখ-যাতনা বুঝতে পারার ক্ষমতা সৃষ্টি, কোনো কিছুর একাগ্রচিত্তে মনোনিবেশ করা, নিজেকে চেনা এবং মানবিক মূল্যবোধকে হৃদয়ে ধারণ করার সুযোগ করে দেয়। ইফতারের সময় মানুষ যে অপার্থিব আনন্দ এবং প্রশান্তি লাভ করে তা কেবল রোজাদাররাই অনুধাবন করতে পারেন। রোজাদারদের গায়ের রং দিনকে দিন উজ্জ্বল হতে থাকে। তাদের মুখমণ্ডলের কালো দাগ, ব্রণ, ফোসকা জাতীয় ক্ষতসহ অন্যান্য চর্মরোগ দূরীভূত হয়। শরীরের অভ্যন্তরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা বের হয়ে যায়। লিভার, কিডনিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ রোজাকালীন অধিকতর কার্যক্ষমতা লাভ করে। এ অবস্থায় কেউ যদি প্রশ্ন করেন— কেন রোজা রাখবেন তাহলে আজকের নিবন্ধের পাঠকবৃন্দ নিশ্চয়ই সুন্দর একটি জবাব দিতে ভুল করবেন না। এখন শিরোনামের দ্বিতীয় অংশ নিয়ে আলোচনা করা যাক। কখন এবং কীভাবে রোজা রাখবেন। সব সুস্থ এবং সবল মানুষকে অবশ্যই পবিত্র মাহে রমজানের পুরোটা সময় রোজা রাখতে হবে। দীনদার মুমিন ও মুত্তাকীরা রমজানের পূর্ববর্তী শাবান মাসে একাধিক নফল রোজা রাখেন এবং রমজান পরবর্তী শাওয়াল মাসেও ছয়টি রোজা রাখেন।  এ ছাড়া মহররম জিলহজ এবং রজব মাসেও অনেকে নফল রোজা রাখেন। আল্লাহর রসুল (সা.) সপ্তাহে দুই দিন রোজা রাখতেন বলে অনেক মুহাদ্দিস উল্লেখ করেছেন। অলি আল্লাহ গাউস কুতুবদের অনেকে নিজের জন্মদিন এবং রসুল (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে সপ্তাহে দুই দিন রোজা রেখে দুনিয়া এবং আখেরাতের কামিয়াবি হাসিল করেছেন বলে ইসলামী বইপুস্তকে উল্লেখ রয়েছে।

একটি বিষয় এখানে পুনরায় উল্লেখ করা প্রয়োজন আর তা হলো— রোজা সুস্থ ও সবল মানুষের জন্য ফরজ। রোজার রুহানি ফজিলত, রহমত এবং বরকত প্রাপ্তির জন্য ধর্মীয় বিধিবিধান পালন অত্যাবশ্যক। অসুস্থ কিংবা রোগাক্রান্ত মানুষের উচিত ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক রোজা রাখা। নিজের জীবন ও শরীরকে বিপন্ন করে রোজার ফরজ আদায় এক ধরনের বাড়াবাড়ি যা কোনোভাবেই ইসলাম সমর্থন করে না।  পরিশেষে মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহ, শুদ্ধভাবে রোজা পালন এবং মাহে রমজানের অশেষ রহমত ও বরকত হাসিল করার তৌফিক এনায়েত করুন এই প্রার্থনা করে আজকের প্রসঙ্গের ইতি টানছি।  আমিন।

     লেখক : কলামিস্ট।




up-arrow