Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১০ জুন, ২০১৬ ২৩:২৫
আমলের মৌসুম মাহে রমজান
মুহাম্মাদ আরিফুর রহমান জসিম

রমজান মুসলিম সভ্যতার ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বিকশিত মানুষ গঠনে রমজানের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ রমজান হলো ইবাদতের মৌসুম। কেননা এ মাস আমলের মাস। ইবাদতের মাস। তাই এ মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল বলা হয়। পবিত্র এ মাসের প্রতিটি সময় যেন আমাদের আমলের মাধ্যমেই অতিবাহিত হয়, তার প্রচেষ্টা করা উচিত। ইবাদতের সুবিধার্থে রমজানের উল্লেখযোগ্য কতিপয় আমলের বর্ণনা করা হলো।

তাহাজ্জুদের সালাত আদায় : রমজানে কিয়ামুল লাইল করার কথা আছে। কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের নামাজ। তারাবির সালাত যেমন কিয়ামুল লাইলের মধ্যে পড়ে, তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

কোরআন তেলাওয়াত : রমজানে যেহেতু ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই এ মাসে যথাসাধ্য বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক। মহানবী (সা.) বলেছেন : ‘রোজা ও কোরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে...।’ (আহমাদ, হাদিস : ৬৬২৬)।

সদকা করা : বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন : ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরও বেড়ে যেত।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩২০৮)।

ইতেকাফ : হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭১)।

ওমরাহ হজ করা : রমজানে একটি ওমরা হজ আদায় করলে অন্য মাসে ৭০টি ওমরাহ হজ করার সওয়াব হয়। তাই এ মাসে ওমরাহ হজ আদায় করাও অনেক বড় সওয়াবের কাজ। এ ব্যাপারে এক বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ হজ আদায় আমার সঙ্গে হজ আদায়ের সমতুল্য।’ (মাজমাউল কাবির, হাদিস : ৭২২, জামেউল আহাদিস, হাদিস : ১৪৩৭৯)।

রোজাদারকে ইফতার করান : রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের মতো রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। এতে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কম করা হবে না।’ (আহমদ, হাদিস : ২২৩০২)।

ইস্তিগফার করা : সব সময় তওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে রমজান মাসে তো বটেই। এ মাসে তওবার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস : ১৪১০)।

রমজান মাসে অধিক পরিমাণে নেক আমল করতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য আবশ্য কর্তব্য।




up-arrow