Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ জুন, ২০১৬ ২৩:২৫
জঙ্গিবিরোধী অভিযান
জনসচেতনতা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিন

পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ বেশ কয়েকটি টার্গেট কিলিংয়ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। টার্গেট কিলিংয়ের সঙ্গে জড়িত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপের সদস্যদের ধরতে চালানো হচ্ছে অভিযান।

যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে জড়িত একটি রাজনৈতিক দলের সন্দেহভাজন সদস্যদের ওপরও তীক্ষ নজর রাখা হচ্ছে। নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। এ ব্যাপারে তারা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বভাবতই অজ্ঞাত পরিচয় জঙ্গিরা যখন টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় হয়ে ওঠারই কথা। তবে অভিযান চালানোর নামে সংশ্লিষ্টদের কেউ যাতে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে হয়রানি করা কিংবা সত্যিকারের অপরাধীদের বদলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও গ্রেফতারবাণিজ্যে মেতে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সন্দেহ নেই জঙ্গিবাদ এখন একটি বিশ্বজনীন সমস্যা। পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ কোনো প্রান্তের দেশই এ হুমকির বাইরে নয়। বাংলাদেশের জন্যও তা হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। হতাশার মাঝে আশার দিক হলো বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহ্যভাবে চরমপন্থার বিরুদ্ধে। এ দেশে ইসলাম প্রচারিত হয়েছে সুফি-সাধকদের মাধ্যমে। তারা মানুষকে ভালোবেসে তাদের হৃদয় রাজ্যে ঠাঁই পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি সম্প্রীতির আবহ ছড়িয়ে দিয়েছেন তারা। পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে অশুভ মহল উগ্রবাদের বিষবৃক্ষ বপনের চেষ্টা করলেও এ দেশের মানুষ তাতে সায় দেয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাস্তিদানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করে জঙ্গি তত্পরতার উদ্ভব প্রমাণ করেছে, এ দুই ঘটনার মধ্যে কোথাও না কোথাও যোগসূত্র রয়েছে। আমরা আশা করব, জননিরাপত্তার স্বার্থে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি জঙ্গিবাদের সাধকরা যে শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামের কেউ নয়, সে সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow