Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ জুন, ২০১৬ ২৩:২৫
ভারতে ইলিশ রপ্তানি
পদ্মার পানির হিস্যাও নিশ্চিত হোক

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাণিজ্যবিষয়ক যুগ্ম ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে ইলিশ রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা যেন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ।

ইলিশের কদর শুধু বাংলাদেশিদের কাছে নয়, এপার ও ওপার বাংলার সব বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে ইলিশের স্থান সবার উপরে। বাংলাদেশের নদীতে যেমন ইলিশ ধরা পড়ে তেমনি ধরা পড়ে পশ্চিম বাংলার নদীতেও। সমুদ্রপ্রান্ত থেকেও আহরিত হয় ইলিশ। তবে ওপারের বাঙালিদের লক্ষ্য পদ্মার ইলিশ। দুনিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ইলিশ পাওয়া গেলেও বাংলাদেশের নদ-নদীর ইলিশ কিছুটা যেন আলাদা। আর পদ্মার ইলিশ তো অনন্য। যার কোনো তুলনাই চলে না। দুই দেশের বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও পদ্মার ইলিশ বিশিষ্ট ভূমিকা রাখছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তো পদ্মার ইলিশের মহাভক্ত। বাংলাদেশের জামাই প্রণব বাবুর জন্য প্রতি বছরই ইলিশের মৌসুমে উপহার হিসেবে ইলিশ যায় ঢাকা থেকে। বাদ পড়েন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপহার হিসেবে না পেলেও পশ্চিমবঙ্গ বা ত্রিপুরার অধিবাসীদের কাছে এক সময় পদ্মার ইলিশ ছিল অনেকটাই সহজলভ্য। বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হতো ইলিশ। যার মধ্যে থাকত পদ্মার ইলিশও। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের উত্পাদন বাড়লেও একইভাবে বেড়েছে চাহিদা। আর যে পদ্মার ইলিশ দুনিয়ার মত্স্যকুলের মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু, তা এখন অস্তিত্বের সংকটের মুখে। উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে পদ্মা নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পড়েছে। রাজশাহী অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা প্রায় অস্তিত্ব হারায়। অন্যসব প্রান্তের অবস্থাও সুখকর নয়। বলা হয়, বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী। বাংলাদেশের মানুষও চায় ইলিশ রপ্তানি বাবদ দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করুক। তবে এখন যে ইলিশ উত্পাদন হচ্ছে তা নিজেদের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ভারতে ইলিশ রপ্তানির আগে ইলিশের নদী পদ্মায় পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। পদ্মাসহ অভিন্ন নদীগুলো পানির ন্যায্য হিস্যা পেলে ইলিশ উত্পাদন বহুগুণ বাড়বে। নিজেদের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow