Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১১ জুন, ২০১৬ ২২:৪৫
মাদক সমস্যা সমাধানের বিকল্প পথ খুঁজুন
তুষার কণা খোন্দকার
মাদক সমস্যা সমাধানের বিকল্প পথ খুঁজুন

আশির দশকের কথা। দৈনিক সংবাদে তখন সবে সাংবাদিকতার অ আ ক খ শিখতে শুরু করেছি। সে সময় একদিন পত্রিকায় পড়লাম, বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া মানুষের অকালমৃত্যুর বড় কারণগুলোর একটি। স্রেফ বিড়ি-সিগারেট খেয়ে পৃথিবীতে বহু মানুষ প্রতিদিন অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। ধূমপানের কুফল বিষয়ে এমন ভয়ঙ্কর তথ্য পাওয়ার পর দৈনিক সংবাদের সম্পাদক বজলু ভাইয়ের রুমে গিয়ে বললাম, ‘বজলু ভাই! আপনি কি একটি ভয়ঙ্কর খবর পড়েছেন? স্রেফ বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার কারণে পৃথিবীতে কত মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে, ভেবে দেখেছেন? কিছু মানুষ নিজে বিড়ি ফুঁকে মরছে আর সেই সঙ্গে পাশের মানুষকেও ধোঁয়া গিলিয়ে মারছে। দেখুন পত্রিকায় লিখেছে, যারা সরাসরি বিড়ি-সিগারেট টানছে তারা যতখানি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে তার চেয়ে বেশি বিপদে আছে প্যাসিভ ধূমপায়ীরা। ধূমপায়ীর ছাড়া ধোঁয়া অধূমপায়ীর নিঃশ্বাসে মিশে তার শরীরে ঢুকছে। এতে অধূমপায়ী ভালো মানুষটা ধূমপায়ীর চেয়ে ৩০% বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে।’ বজলু ভাই হেসে বললেন, ‘তুমি খবরটা সন্তোষদাকে দাও। সিগারেট খাওয়ার কারণে মৃত্যু হলে সন্তোষদার হবে। উনার পাশের টেবিলে বসে কাজ করার কারণে তুমি তার চেয়ে ৩০% বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছ সেটাও উনাকে বুঝিয়ে বল। ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সাবধানবাণী উনার জানা জরুরি। আমাকে শুনাচ্ছ কেন?’ আমি আমার মনের কথা উনাকে ভেঙে বললাম। বললাম, ‘বিড়ি-সিগারেট নিয়ে ভদ্র-মার্জিত সামাজিক আন্দোলন করে কোনো লাভ নেই। এতে বিড়িখোরগুলো কিছুতেই সিধে হবে না। আসলে বিড়ি-সিগারেট রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। জেনেশুনে রাষ্ট্র কেন তার নাগরিককে বিষ খেতে দেবে? আমি আজই এর ওপর একটা লেখা রেডি করে ফেলি।’ বজলু ভাই হেসে বললেন, ‘বিড়ি-সিগারেট নিষিদ্ধ করলে মানুষ এর চেয়ে কঠিন নেশার সন্ধান করবে। তারা গাঁজা কিংবা মারিজুয়ানার দিকে ঝুঁকবে। সরকার সেটা ফেরাবে কীভাবে?’ আমি বিরস মুখে বজলু ভাইয়ের রুম থেকে বেরিয়ে এলাম। নবীন বয়সে আবেগী নীতিবোধের বাড়াবাড়ি থেকে আমি বাস্তবতা মানতে চাইনি বলে মনের মধ্যে বিদ্রোহ মাথা তুলতে চাইছিল। আসলে আমি জানতাম না, দুনিয়াটা ‘ভালোমন্দ মিলিয়ে সকলি’। নেশাজাতীয় জিনিসগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে ভালো। কিন্তু কিছু মানুষ হালকা অথবা কঠিন কিছু না কিছু নেশা করবে এটি সরল বাস্তবতা।

বিড়ি-সিগারেট সহজলভ্য হলেও আগের দিনেও কিছু মানুষ তামাকের চেয়ে কঠিন নেশার সন্ধানে ফিরত। পাবনায় মানুষের মুখে মুখে একটা গল্প চালু আছে। গল্পের ঘটনা সত্য নাকি মিথ্যা, জানি না। তবে নেশাসংক্রান্ত এ গল্পটা বেশ রসাল। পাকিস্তান কিংবা ব্রিটিশ আমলের কথা। পাবনার এক মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জেলার আনাচে-কানাচে অভিযান চালিয়ে অনেক গাঁজা জব্দ করে গুদাম ভরে তুললেন। একদিন তিনি গুদামের সব গাঁজা ধ্বংস করার জন্য আঙিনায় জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিলেন। মাদকের অফিসে আগুন দেখে আশপাশের বাসিন্দারা এসে জড়ো হয়ে গেল। আকাশে ধোঁয়া দেখে দূরদূরান্ত থেকেও লোক এলো। তিনি ভাবলেন মাদক অফিসে আগুন লেগেছে ভেবে সাহায্য করার জন্য এত মানুষ এখানে জড়ো হয়েছে। মাদক কর্মকর্তা আগুনের কারণ তাদের খোলাসা করে বুঝিয়ে বলবেন নিয়ত করে এগিয়ে গিয়ে দেখলেন, আঙিনায় জড়ো হওয়া মানুষগুলোর মধ্যে আগুন নিয়ে কোনো কৌতূহল নেই। তারা প্রাণপণে ধোঁয়ার পেছনে ছুটছে। বাতাস দিক বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়াও দিক বদলাচ্ছে। সেই সঙ্গে মানুষগুলো দৌড়ে ঝাঁপিয়ে জায়গা বদল করে ধোঁয়ার দিকে নাক তাক করে কষে দম নিচ্ছে। কৌতূহলী মাদক কর্মকর্তা লোকজনের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তারা বলল, ‘স্যার! আপনার অত্যাচারে পাবনায় এখন গাঁজার বাজার বেশ চড়া। সেই আপনি আজ নিজ হাতে গাঁজার গাদায় আগুন দিয়েছেন। দেখুন, তাতে কী চমৎকার ধোঁয়ার বাহার। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ স্যার। আপনার দৌলতে আমরা আজ পরান ভরে ধোঁয়া টানার মওকা পেলাম।’

আজকের দিনে আফিম কিংবা গাঁজা বোধহয় মাজারের আস্তানায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দেশে এখন হেরোইন কিংবা ইয়াবার জমানা। হেরোইন কিংবা ইয়াবা ভয়ঙ্কর নেশা। এসব মাদকে আসক্তদের সামনে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো দুয়ার খোলা থাকে না। অথচ দেশে এখন এই সর্বনাশা মাদকের ছড়াছড়ি। দেশের মধ্যে মাদকের ছড়াছড়ি দেখে মনে হয় মাদক সমস্যা সমাধান করা তো দূরের কথা চোখ তুলে তা দেখারও কেউ নেই। অনেক বছর ধরে মাদক সমস্যা ফণা তুলে আমাদের ধাওয়া করে ফিরছে। মাদক সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারগুলো কার্যকর কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আমরা জানতে পারিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু ‘ছড়া’ আবিষ্কার করে সেগুলো ঢাকা শহরের কয়েকটি দেয়ালে লিখে রেখেছে। তাদের মাদকবিরোধী কাব্যচর্চার সুফল জনগণ কিছু পেয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে আমার মনে হয়, মাদকের মতো ভয়ঙ্কর একটি বিষয় নিয়ে দেয়ালে কবিতা লিখে সময় অপচয় করার কোনো অর্থ হয় না। মাদকের হাত থেকে বাঁচার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কত জরুরি তা প্রশাসনকে বুঝতে হবে। প্রশাসনকে বুঝতে হবে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট অর্থাৎ বিশাল সংখ্যার কর্মক্ষম যুবশক্তিকে পুঁজি করে আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। মাদকের অবাধ বিস্তার দেশের যুবশক্তিকে কর্মহীন করে দিলে আমাদের উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন মাঠে মারা যাবে।

টেলিভিশন খুললে দেখি, টেকনাফ কিংবা অন্য কোনো জায়গা থেকে অত লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার। পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ নাকি সাগরে গোষ্পদ। সমাজের আনাচে-কানাচে যে বিপুল ইয়াবা নেশাখোরের হাতে ছড়িয়ে পড়ছে তার সামান্যই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। দুর্মুখেরা বলে, পুলিশ ইয়াবা উদ্ধার করে না, জনগণকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য পুলিশ ইয়াবা উদ্ধারের ফটোসেশন করে। ১৪ মে’র পত্রপত্রিকায় পড়লাম, টেকনাফের মাদক ব্যবসায়ীরা চারজন সাংবাদিককে ধরে পিটুনি দিয়েছে। ওই সাংবাদিকরা মাদক ব্যবসার খবর পত্রিকায় ফাঁস করে দেওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে বলে তারা সাংবাদিকদের ধরে মেরেছে। সাংবাদিকদের মারার অপরাধে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা অবশ্য আমরা জানতে পারিনি। তবে মাদক ব্যবসায়ীরা যে দিন দিন মেক্সিকোর মাদকসম্রাটদের মতো পরাক্রমশালী হয়ে উঠছে, তার আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। জুনের প্রথম সপ্তায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে কে কেন হত্যা করল পুলিশ তা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে সম্ভাব্য হত্যাকারীদের তালিকায় মাদক ব্যবসায়ীদের কথাও পুলিশের বর্ণনায় উঠে এসেছে। পুলিশের সন্দেহ সত্য হলে বুঝতে হবে মাদক ব্যবসায়ীরা এরই মধ্যে অপ্রতিরোধ্য হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে বর্ডার গার্ড-প্রধান সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ করে বললেন, ‘আমরা কষ্ট করে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করি। মাস না ঘুরতে তারা কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে হাসতে হাসতে ফিরে আসে।’ তার অভিযোগ সত্য হলে বুঝতে হবে মাদক আইনে গুরুতর ফাঁক আছে, যার সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা এত সহজে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। অথবা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের মধ্যে এমন ত্রুটি রেখে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তাদের জামিন বাগিয়ে নিতে বেগ পেতে হচ্ছে না। মাদক ব্যবসা কিংবা মাদক সেবনের ব্যাপকতা দেখে মনে হচ্ছে, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাদক নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বাংলাদেশে মাদক সমস্যার ওপর ইন্টারনেটে অনেক গবেষণাপত্র চোখে পড়ল। সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত দেখে মনে হলো, অল্প বয়সে কৌতূহল এবং কুসঙ্গের কারণে অবুঝ ছেলেমেয়েগুলো মাদকের জালে আটকে যায়, যে জাল কেটে তারা আর কোনো দিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে না। বেশির ভাগ মাদকসেবীর মাদক নেওয়ার সূচনার বয়স ২০ বছরের নিচে। অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় কিংবা কৌতূহলের কারণে পরিণাম না ভেবে ইয়াবা কিংবা হেরোইনের মতো ভয়ঙ্কর মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তির পরিণাম নিয়ে অনেক সাবধানবাণী উচ্চারিত হয়েছে কিংবা হচ্ছে। কিন্তু এতে যে কাজ হচ্ছে না তার বড় প্রমাণ মাদকের বর্তমান ভয়াবহতা। এ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের কৌতূহল কিংবা অ্যাডভেঞ্চারের খোরাক হিসেবে বিকল্প কিছু কি ভাবা যেতে পারে না? এমন কোনো উপকরণ খোলাবাজারে সহজলভ্য করা যেতে পারে, যা মানুষকে মরণঘাতী নেশার জালে আটকাতে পারে না। আবার কম বয়সীদের কৌতূহল কিংবা অ্যাডভেঞ্চারের ক্ষুধা মেটাতে পারে। বয়সের ধর্ম আমরা রাতারাতি বদলে দিতে পারব না, তবে বয়সের সঙ্গে মিল রেখে কম ক্ষতিকর কোনো উপাদান সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে।

আমাদের দেশের কয়েকটি কোম্পানি মদ কিংবা বিয়ার উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা হাতের কাছে ইয়াবা পেলেও বিয়ার কিংবা ওয়াইনের দেখা তারা পায় না। অথচ হেরোইন কিংবা ইয়াবার সঙ্গে তুলনা করলে বিয়ার কিংবা ওয়াইন অনেক বেশি সহনীয়। কাঁচা বয়সের কৌতূহল থেকে ওয়াইন কিংবা বিয়ার খেলে ছেলেমেয়েগুলোর ভয়ানক কোনো ক্ষতি হবে না। বড় কথা, বিয়ার কিংবা ওয়াইনের নেশা সহজে সর্বনাশা রূপ নেয় না। কয়েকবার খাওয়ার পরে স্বাভাবিক নিয়মে অনেকের কৌতূহল মিটে যাবে। যাদের কৌতূহল মিটে যাবে তারা ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের নেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বিয়ার কিংবা ওয়াইনের বৈধ উৎপাদন এবং খোলাবাজারে তা বেচাকেনার ব্যাপারে যারা ‘গেল গেল’ রব তোলেন তারা আসলে অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করেন। আমাদের দেশে কোনো কোনো এলাকায় মাঝেমধ্যে বাংলা মদে বিষক্রিয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে চলে আসে। নরসিংদী কিংবা গাইবান্ধায় মদে বিষক্রিয়ায় এক রাতে শত শত মানুষের প্রাণহানির নজির আছে। এক রাতে এতসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি দেখে মনে হয়, এ দেশে বৈধভাবে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মদ উৎপাদন কিংবা বাজারজাত না হলেও বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে বাংলা মদ তৈরি হচ্ছে এবং অনেক মানুষ তা পান করছে। গাইবান্ধা ও নরসিংদীতে মদে বিষক্রিয়ায় অনেক মানুষের প্রাণহানি হওয়ার পরে জানা গিয়েছিল, মৃতের যে তালিকা সংবাদমাধ্যমে এসেছে তা আসলে সঠিক ছিল না। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আসলে আরও অনেক বেশি। যেসব মান্যগণ্য মানুষ বিষাক্ত বাংলা মদ খেয়ে সে সময় মারা গিয়েছিলেন তাদের পরিবার সামাজিক মর্যাদার হানি হবে ভেবে মৃত্যুর কারণ জানাজানি হতে দেয়নি। একইভাবে মহিলাদের মৃত্যুর কারণও চেপে যাওয়া হয়েছিল বলে শুনেছি। অর্থাৎ, অবৈধ পথে মদ উৎপাদন এবং তার বেচাকেনা থেমে নেই। তবুও বৈধভাবে মদ উৎপাদনের কথা শুনলে আমরা গেল গেল রব তুলে সমস্যা জিইয়ে রাখার পথ তৈরি করি। প্রশাসন অবৈধ পথে ইয়াবা কিংবা হেরোইন আসার পথ রুখতে পারছে না। এদিকে দেশের ভিতরে মাদকের অবাধ বিস্তারের ফলে আমাদের যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। মাদকাসক্তরা নিজেরা মরছে, মাদকের খরচ পরিবার থেকে নিংড়ে নেওয়ার জন্য পরিবারকেও মারছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ওরা সমাজে পেটি ক্রাইম থেকে শুরু করে খুন, রাহাজানিও করছে। মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজে প্রবল শক্তিধর। কারও কারও গায়ে রাজনীতির তকমা জ্বলজ্বল করছে। শক্তির গর্বে তারা রাষ্ট্রযন্ত্রের গায়ে বিষাক্ত ছোবল বসাতে শুরু করেছে। অথচ আমরা এখনো দেয়ালের গায়ে ছড়া লিখে মাদক সমস্যার সমাধান করব বলে স্বপ্ন দেখছি। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা মেক্সিকোর পরিণাম ভোগ করব, যা কোনো সভ্য মানুষের কাম্য হতে পারে না। দেশে মাদকের বিস্তার রোধ করার জন্য প্রচলিত সব কৌশল ব্যর্থ হয়েছে, এতে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। মাদক সমস্যার যুগোপযোগী সমাধান এখন সময়ের দাবি। এটি যদি তারা অনুধাবন করে থাকেন তাহলে তাদের উচিত অবিলম্বে সমস্যার ইতিবাচক সমাধান খোঁজা এবং তা বাস্তবায়ন করা। আমি আশা করি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই তারা তা করবেন।

লেখক : কথাসাহিত্যিক




up-arrow