Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুন, ২০১৬ ২৩:২১
রাসায়নিক মিশ্রিত বীজ দেশের পাখি সম্পদ ধ্বংস করছে
রাসায়নিক মিশ্রিত বীজ দেশের পাখি সম্পদ ধ্বংস করছে

চীনা নেতা মাওসেতুং দেশের চড়ুই পাখি নিধন করেছিলেন ফসল নষ্ট করে এই অজুহাতে। শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও বিপর্যয় এড়াতে বিদেশ থেকে চড়ুই পাখি আমদানি করতে হয়েছিল। বাংলাদেশে পাখি নিধনে মাওসেতুংয়ের মতো ভূমিকা পালন করছে বীজ কোম্পানি।

বীজ কোম্পানিগুলো কীটনাশক মিশিয়ে বীজ সংরক্ষণ করায় তা পাখির জন্য বিপদ ডেকে আনছে। নির্বিচারে মারা যাচ্ছে কবুতর, ঘুঘু, ফিঙে, শালিকসহ বিভিন্ন পাখি। প্রকৃতিতে পাখির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় পরিবেশের জন্য বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠছে। কৃষকরা বীজ বুনলে তার একাংশ পাখিরা খেয়ে ফেলায় গড়ে প্রতিবিঘা জমিতে এক কেজি বীজ বেশি লাগে। বীজে বিষাক্ত কীটনাশকের মিশ্রণের পরিণতিতে পাখি মারা গেলে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ছত্রাকনাশক ও বাতাসবাহী রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে বীজে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। এগুলোর পরিমাণে বেশি হলে পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী বীজ খেয়ে মারা যেতে পারে। বীজ শোধনের জন্য পয়েন্ট এক শতাংশ থেকে পয়েন্ট দুই প্রোভক্স মিশ্রিত পানি, বেটান, পারসলস জাতীয় ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও পটাশিয়াম ক্লোরাইড, জিঙ্ক সালফেট, ম্যাঙ্গানিজ ক্লোরাইড, ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড বীজ সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সেগুলোর পরিমাণ বেশি হলেও বীজ খেয়ে পাখি মারা যেতে পারে। অবৈধপথে ভারত থেকে যে কীটনাশক ও বালাইনাশক আসে, সেগুলো বীজ শোধনে ব্যবহার করা হলে বীজের বিষে পাখির মতো প্রাণী মারা যেতে পারে। রং করতে বিভিন্ন বীজে যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেগুলো পাখির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যে কারণেই বীজ খেয়ে পাখির মৃত্যু হোক না কেন তার প্রকৃতির জন্য বিপদ ডেকে আনছে। পাখি কীটপতঙ্গ খেয়ে কৃষকের উপকার করে। পাখির সংখ্যা হ্রাস পেলে কিংবা বিলুপ্ত হয়ে গেলে কীটপতঙ্গ ও নিত্যনতুন রোগবালাইয়ে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হ্রাস পাবে উৎপাদন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। যা নিশ্চিত করতে বীজে যাতে পাখির জীবন বিপন্নকারী কোনো কীটনাশক বা রসায়নের মিশ্রণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এমনটিই কাম্য। পাখি দেশের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজেদের স্বার্থেই পাখির অস্তিত্ব রক্ষায় যত্নবান হতে হবে। 

     মোহাম্মদ আবির খান

এই পাতার আরো খবর
up-arrow