Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০
মুমিনের ভরসা আল্লাহ
ফিরোজ আহমাদ

যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য আল্লাহতায়ালাই যথেষ্ট। (সূরা তালাক, আয়াত : ৩)।

আপনি (হে নবী) কোনো সংকল্প করলে আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন। (সূরা আল ইমরান, আয়াত : ১৫৯)। যারা আপনার বিরুদ্ধে সলাপরামর্শ করে আপনি তাদের উপেক্ষা করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। (সূরা আন নিসা, আয়াত : ৮১)। আপনি ভরসা করুন তাঁর ওপর যিনি চিরঞ্জীব, যাঁর মৃত্যু নেই। (সূরা ফুরকান, আয়াত : ৫৮)। আর তোমরা আল্লাহর ওপর ভরসা কর যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। (সূরা মায়েদা, আয়াত : ২৩)। আর ইমানদারদের আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত। (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত : ২১)। আর যদি তোমরা মুসলিম হও এবং আল্লাহর ওপর ইমান এনে থাক, তবে তাঁর ওপর ভরসা কর। (সূরা ইউনূস, আয়াত : ৮৪)। আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট; নির্ভরকারীরা তারই ওপর নির্ভর করে। (সূরা জুমার, আয়াত : ৩৮)। আপনি আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। কার্য নির্বাহীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা আহযাব, আয়াত : ৩)। পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণিত এসব আয়াতের ফজিলত, গুরুত্ব ও আয়াতের প্রেক্ষাপট আমাদের জানা অত্যন্ত জরুরি।

হজরত ইবরাহিম (আ.)। একজন নবী। ধৈর্য ধারণকারী। হজরত ইবরাহিম (আ.) সব বিষয়ে ফায়সালার জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করতেন। নমরুদ কর্তৃক অগ্নিকাণ্ডে নিক্ষিপ্ত হলে সৃষ্টি জগতের বহু মাখলুক হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। হজরত ইবরাহিম (আ.) সাহায্যকারী দলের সবাইকে বলেছেন, ‘তোমাদের কারও সাহায্য আমার প্রয়োজন নেই। ’ সাহায্যকারীদের মধ্যে হজরত জিবরাইল (আ.) এসে বললেন, আমি ফেরেশতা। আপনি আমার সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন। আমি সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত আছি। আগুন নিভিয়ে দেওয়ার জন্য আমাকে হুকুম করেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) পাল্টা প্রশ্ন করে হজরত জিবরাইল (আ.)-কে বললেন,  আমি যে অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে পড়ে আছি আল্লাহ কি এসব বিষয়ে অবগত আছেন? হজরত জিবরাইল (আ.) উত্তরে বলেন, আল্লাহ আপনার সব বিষয় এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত আছেন। সঙ্গে সঙ্গে হজরত ইবরাহিম (আ.) বললেন, হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিয়ামাল ওয়াকিল, নেয়ামাল মাওলা নেয়ামান নাসির। অর্থাৎ আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ আমার জন্য উত্তম কর্মবিধায়ক। হজরত ইবরাহিম (আ.) এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ আগুনকে নির্দেশ প্রদান করলেন, হে আগুন! তুমি ইবরাহিমের ওপর শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও। আগুন শীতল হয়ে গেল। একাধারে ৪০ দিন হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনের মাঝখানে ফেলে নমরুদ আগুন জ্বালিয়েছিল। আল্লাহর আশ্চর্য কুদরতি ক্ষমতা! হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর একটি পশমও নমরুদের আগুনে পোড়েনি। আল্লাহ সুবহানুতায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেন, যে পরিপূর্ণভাবে আমার ওপর নির্ভর করল। সে আমার কুদরতের ছায়ার নিচে আশ্রয় নিল। নমরুদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েও হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহকে ভুলে যাননি। কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা মুমিন হও। তবে আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। ’ হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর রহমতের প্রতি নিরাশ হননি। দুনিয়াতে বসবাস করতে গেলে বিপদ আসবে। ঝড়ঝাপ্টা আসবে। পেরেশানি বাড়বে-কমবে। আবার কল্যাণও আসবে। মঙ্গল আসবে। সুসংবাদ আসবে। পুনরায় আবার বিপদ আসবে। এগুলো ইমান দৃঢ় করার জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। যার মর্যাদা যত বড়। তার জন্য ইমানের পরীক্ষা তত বড়। বিপদ আপদ মাখলুকের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ। বিপদ আত্মার উন্নতির জন্য একটি সোপান। বলতে পারেন, কামালিয়াত অর্জনের একটি সিঁড়ি। আল্লাহ কালামুল্লাহ শরিফে বলেন, বিভিন্ন দুঃখ-দুর্দশা দিয়ে আমি বান্দার তাওয়াক্কুলের পরীক্ষা নিব। আল্লাহ দেখতে চান বান্দাদের মধ্যে কে বা কারা সব ক্ষেত্রে তাঁর সাহায্যের ওপর নির্ভর করে। সব অভাব-অভিযোগগুলো বান্দাগণ কোথায় পেশ করেন? কোরআনে সূরা ইউসুফের মধ্যে হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর তাওয়াক্কুলের কথা ইরশাদ হয়েছে।   বর্ণিত হয়েছে, হজরত ইউসুফ (আ.)-কে কুয়ার মধ্যে ফেলে দিয়ে তার ১০ ভাই একটি রক্তমাখা জামা নিয়ে এসে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর পিতা হজরত ইয়াকুব (আ.) কাছে হাজির হয়েছিলেন এবং বলছিলেন, হে আমাদের পিতা! আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না। যদিও আমরা সত্যিবাদী। আমরা যখন মাঠে খেলাধুলা করছিলাম। একটি নেকড়ে বাঘ এসে ইউসুফকে খেয়ে ফেলেছিল। হজরত ইউসুফ (আ.)-এর ১০ ভাইয়ের কথা শুনে হজরত ইয়াকুব (আ.) বললেন, আমার মন বলছে তোমরা এগুলো সাজিয়ে বলছ। আমি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করলাম। অবশেষে ৪০ বছর পর হজরত ইয়াকুব (আ.) তার আদরের পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সন্ধান পেয়েছিলেন।   হজরত ইয়াকুব (আ.) ৪০ বছর ধৈর্য ধারণ করেছেন। এক মুহূর্ত পর্যন্ত তাওয়াক্কুল থেকে পিছপা হয়নি।

লেখক : ধর্ম ও সূফিতাত্ত্বিক গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow