Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৬ ২২:৪৭
ছেঁড়া-ফাটা নোটের বিনিময় মূল্য
তপন কুমার ঘোষ
ছেঁড়া-ফাটা নোটের বিনিময় মূল্য

ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলে দেওয়া সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক। জনসাধারণের কাছ থেকে মূল্যমান নির্বিশেষে সব ধরনের নোট গ্রহণ, বিধি মোতাবেক ছেঁড়া-ফাটা, খণ্ডিত ও ময়লা নোটের বিনিময়মূল্য প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্দেশনা জারি করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট এ বিষয়টি দেখভাল করে থাকে। ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময়মূল্য প্রদানের বিষয়টি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (নোট প্রত্যর্পণ) বিধিমালা ২০১২’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ২০১২ সালে এ বিধিমালা জারি করা হয়।  পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ১৫ নম্বর পরিপত্র জারি করে কোন ধরনের নোটের বিনিময়মূল্য তফসিলি ব্যাংকের কাউন্টারে পরিশোধযোগ্য এবং কোন ধরনের নোটের বিনিময় মূল্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরিশোধযোগ্য তা স্পষ্টীকরণ করা হয়েছে। নোট প্রত্যর্পণ বিধিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকও ছেঁড়া-ফাটা ও ত্রুটিপূর্ণ নোটের বিনিময়মূল্য পরিশোধ করে থাকে। জালনোটের ক্ষেত্রেও করণীয় বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা আছে।

জীর্ণ নোট : দুই খণ্ডে বিচ্ছিন্ন হয়নি কিন্তু নাড়াচাড়ায় বিচ্ছিন্ন হতে পারে এমন জীর্ণ নোটেরও একপিঠে যথাসম্ভব সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ লাগাতে হবে যাতে আসল নোট কিনা তা পরীক্ষা করে শনাক্তকরণে অসুবিধা না হয়। নোটের কোনো অংশ বিদ্যমান না থাকলে সেখানে কোনো কাগজ লাগানো যাবে না।

অর্ধাকৃতি নোট : একটি নোটের অর্ধাংশ যা খাড়াখাড়ি বা সমান্তরালভাবে মধ্যবর্তী স্থান বা তার কাছাকাছি দিয়ে বিভক্ত হয়েছে। একটি নোটের অর্ধাংশের সঙ্গে আরেকটি নোটের শনাক্ত করা যায় না এমন অর্ধাংশ জোড়া দিয়ে একটি নোট গঠন করা হলে একক নোট হিসেবে তা গৃহীত হবে না। কিন্তু দুটি পৃথক ‘অর্ধাকৃতি নোট’ হিসেবে পরিগণিত হবে। একটি অর্ধাকৃতি নোটের অর্ধেক মূল্য পরিশোধযোগ্য হবে যদি নোটের নম্বরটি অর্ধাকৃতি নোটে শনাক্ত করা যায়, অর্ধাকৃৎতি নোটটি বিভক্ত না হয়ে সম্পূর্ণ থাকে এবং অর্ধাকৃতি নোটটির সব অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে।

অমিল নোট : একটি নোটের অর্ধাংশের সঙ্গে অন্য একটি নোটের অর্ধাংশ জোড়া লাগিয়ে গঠিত নোট।

ক্ষতিগ্রস্ত নোট : এমন একটি নোট যার একটি অংশ বেপাত্তা অথবা এমন একটি নোট যা বিভিন্ন অংশ নিয়ে গঠিত এবং প্রতীয়মান হয় যে, উপস্থাপিত নোটটি আয়তনে একটি নোটের অর্ধাংশের বেশি এবং নোটের বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগিয়ে গঠিত নোটটির প্রত্যেকটি অংশ একই নোটের অংশ হিসেবে শনাক্তযোগ্য।

 

ছেঁড়া নোটের কোনো অংশ যদি বিদ্যমান না থাকে এবং বিদ্যমান অংশ যদি ৯০ শতাংশের বেশি হয় তবে সে নোটের সম্পূর্ণ বিনিময়মূল্য সরাসরি ব্যাংক কাউন্টারের মাধ্যমে প্রদানযোগ্য। কোনো নোট যদি একাধিক খণ্ডে (দুই খণ্ডের বেশি) খণ্ডিত না হয় এবং নোটের সম্পূর্ণ অংশ যদি বিদ্যমান থাকে তবে সে নোটের সম্পূর্ণ বিনিময়মূল্য ব্যাংক কাউন্টারের মাধ্যমে প্রদানযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিনিময়মূল্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরিশোধযোগ্য নোট : অধিক ছেঁড়া-ফাটা, অত্যধিক জীর্ণ আগুনে পোড়া/ ঝলসানো/ড্যাম্প অথবা ৯০ শতাংশ বা এর চেয়ে কম বিদ্যমান রয়েছে এমন নোটের বিনিময় মূল্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রদেয় হবে।

বিনিময় মূল্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নোট প্রেরণ : নোটের মূল্যমান, সিরিজ, নম্বর, জমাদানকারীর নাম ও পূর্ণ ঠিকানাসংবলিত আবেদনপত্রের সঙ্গে ব্যাংক শাখা নোটটি গ্রহণ করবে। জমাদানকারীর আবেদনপত্রসহ গৃহীত নোট শাখার ফরওয়ার্ডিং পত্রের মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকটতম কার্যালয়ে বাহকের মাধ্যমে অথবা প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপসহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে অথবা কুরিয়ারযোগে প্রেরণ করতে হবে। মূল্য সংগ্রহের জন্য এসব নোট বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণের ডাক বা কুরিয়ার মাসুল নোট জমাদানকারীর কাছ থেকে আদায়যোগ্য হবে। প্রাপ্তির আট সপ্তাহের মধ্যে নোটটির মূল্য প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত জানাবে।

যে ক্ষেত্রে দাবি গ্রহণযোগ্য নয় : হারানো, চুরি হয়ে যাওয়া কিংবা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত নোট সম্পর্কিত কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

মিথ্যা দাবি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বা অন্য কোনোভাবে ব্যাংক কিংবা জনসাধারণকে ধোঁকা বা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নোট কাটা, ছেঁড়া, বিকৃত করা, পরিবর্তন করা বা অন্য কোনো কিছু করা হলে সে দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

কোনো নোটে অনাবশ্যক কোনো শব্দ থাকলে বা যদি এমন দৃশ্যমান বিবৃতি থাকে যা কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বার্তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বা সে উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য বা এ বিবৃতি যদি কোনো ব্যক্তি বা স্বত্বার স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহূত হয় তবে এ ক্ষেত্রে দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কার্যালয় কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে কিংবা দাবিটি ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হলে এ ধরনের নোট সম্পর্কিত দাবি নাকচ হয়ে যাবে।

মুছে যাওয়া, অমিল অথবা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত নোটের দাবি প্রত্যাখ্যাত হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত নোটের ক্ষেত্রে উপস্থাপিত নোটের একক বৃহদাংশ ৫০ শতাংশের অধিক না হলে ক্ষতিগ্রস্ত নোট সম্পর্কিত কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না। একক বৃহদাংশ ৫০ শতাংশের অধিক হলে ডিনোমিনেশন মূল্যের আনুপাতিক হারে বিনিময়মূল্য পরিশোধ করা হবে যা ক্ষেত্রমতে ৫০ অথবা ৭৫ অথবা ১০০ শতাংশ হতে পারে।

আসল নোট হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক চিহ্নিত না হলে এ ধরনের নোট সম্পর্কিত দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

পোড়া নোট : বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় কর্তৃক মনোনীত কমিটি পোড়া নোটের দাবি নিষ্পত্তি করবে। পোড়া নোট সম্পর্কিত কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না যদি নোটটির অক্ষত অংশ ৫০ শতাংশ বা এর কম হয়। এর অর্থ, পোড়া নোটের অক্ষত অংশ ৫০ শতাংশের বেশি হলে দাবি গ্রহণযোগ্য হবে।

জালনোট : জালনোট উপস্থাপনকারীকে এবং একাধিক নোটের বিভিন্ন অংশ সংযোজন বা একত্র করে প্রস্তুতকৃত নোট উপস্থাপনকারীকে আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের হাতে সোপর্দ করতে হবে। ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোটের বিনিময় মূল্য প্রদান সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিমালা জানা থাকলে ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।  ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ক উন্নত হবে।

            লেখক : সাবেক ডিএমডি, জনতা ব্যাংক লিমিটেড।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow