Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ জুন, ২০১৬ ২২:২২
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই
দুদক চেয়ারম্যানের অঙ্গীকার আশাজাগানিয়া

সরকারি ব্যাংক থেকে যারা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে সেসব লুটেরার কাউকে না ছাড়ার প্রত্যয়ী মনোভাব ব্যক্ত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। স্পষ্টভাবে তিনি বলেছেন, সরকারি কাজের গাফিলতির জন্যই দুর্নীতি হয়। কাজের পদ্ধতি উন্নত হলে দুর্নীতি কমে যাবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্য একদিকে যেমন আশাজাগানিয়া অন্যদিকে তাত্পর্যের দাবিদার। দুর্নীতি দমনের প্রত্যয় নিয়ে গঠিত হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। কিন্তু এযাবৎ দুর্নীতি রোধে তাদের সাফল্য প্রায় শূন্য। এ ব্যর্থতার নেপথ্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিন মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া দুদক চেয়ারম্যান। বলেছেন, সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটিতে আইন মানা হতো না। আইন অনুযায়ী প্রতিটি অনুসন্ধান ৩০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তাতে তিন বছরও লেগে যেত। ফলে যিনি অভিযুক্ত তিনি ভাবতেন দুদকে তার কিছুই হবে না। আর যিনি অভিযোগকারী তিনিও প্রতিকার পাওয়ার ব্যাপারে সংশয়ে ভুগতেন। দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, তদন্ত বিলম্বের জন্য যারা দায়ী তাদের শোকজ করা হচ্ছে। জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে একই অপরাধ আবার হলে শাস্তি দেওয়া হবে। দিনের পর দিন যাতে ফাইল ফেলে রাখা না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি স্পষ্ট করে দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, বেসিক ব্যাংক দুর্নীতির ৫৬টি মামলার তদন্ত চলছে। সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়েও তদন্ত হবে। ব্যাংক থেকে যারা জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার যে অঙ্গীকার দুদক চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন তা জনমনে আশার আলো জাগিয়েছে। দুর্নীতি জাতির সব সুকীর্তি, সব অর্জন গিলে খাচ্ছে। দুর্নীতি না হলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেত। ব্যবসা-বাণিজ্যে সৃষ্টি হতো গতি। সেবা খাতগুলো থেকে সাধারণ মানুষ প্রাপ্য সেবা পেত। দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি শ্লথ হয়ে পড়ছে। সৎ মানুষ ক্রমাগতভাবে ঠকছে। লাভবান হচ্ছে অসৎ মানুষ। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু কড়া হওয়া নয়, যেখানে দুর্নীতি সেখানেই আঘাত হানার প্রত্যয়ী হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবেও

প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow