Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ২০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ জুন, ২০১৬ ০০:১৩
আত্মিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে রোজার গুরুত্ব অপরিসীম
মাওলানা মুহম্মাদ সাহেব আলী

সওম বা সিয়াম আরবি শব্দ যার অর্থ বিরত থাকা, দূরে থাকা, কঠোর সাধনা, অবিরাম চেষ্টা এবং আত্মসংযম। দুনিয়ার সব ধর্মে আত্মশুদ্ধির জন্য আত্মসংযমের মাধ্যমে সাধনা করার বিধান রয়েছে। রসুল (সা.) এর আগে অন্য নবীদের বিধানেও সিয়াম বা রোজার প্রচলন ছিল। ইসলামী পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তের সঙ্গে পানাহার ও সব ধরনের যৌন-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকাকে সওম বলা হয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের পর মদিনার ইহুদিদের মধ্যে আশুরার রোজা পালন করতে দেখে মুসলমানদের উক্ত দিনের রোজা পালন করতে নির্দেশ দেন। হিজরতের আঠারো মাস পর, ‘কিবলাহ্’ পরিবর্তনের পরে শাবান মাসে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার নির্দেশ সংবলিত আয়াত নাজিল হয়। তখন থেকে আশুরার রোজা পালনের অপরিহার্যতা নাকচ হয়ে যায়। প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নর-নারীর ওপর রমজানের রোজা ফরজ। সঙ্গত কারণে রোজা না রাখতে পারলে পরবর্তী সময় তা কাজা করা ফরজ। তাছাড়া কাফ্ফারা আদায়েরও বিধান রয়েছে। মানুষের আত্মিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে রোজা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। রসুল (সা.) এর আগেও রোজার বিধান যে ছিল তা স্পষ্ট করা হয়েছে পবিত্র কোরআনে। এরশাদ করা হয়েছে, হে ইমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। আশা করা যায় তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণ ও বৈশিষ্ট্য জাগ্রত হবে। (২ সূরা বাকারা : ১৮৩)

রোজার মাস রমজানের গুরুত্ব অপরিসীম এই জন্য যে এই মাসে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়কারী ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআন নাজিল করা হয়েছিল। পবিত্র কোরআনে এরশাদ করা হয়েছে, রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে আল কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য জীবন বিধান এবং সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ। আর হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাসটি পাবে সে যেন এ মাসের রোজা রাখে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ বা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না।

যাতে তোমরা এ সংখ্যা পূরণ করতে পার এবং তোমাদের হেদায়াত দানের জন্য আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে পার। (২ সূরা বাকারা : ১৮৫)। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিভাবে রোজা পালনের তাওফিক দান করুন।

     লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow