Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২০ জুন, ২০১৬ ২২:০৮
দুই নগরীর জলাবদ্ধতা
সমস্যার আশু সমাধান কাম্য

দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা দেশের দুই বৃহত্তম নগরী রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিবাসীদের জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনছে। বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এমনিতেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম যানজটের নগরী হিসেবে পরিচিত। বৃষ্টি হলে জলজট আর যানজটে নগর জীবন নাকাল হয়ে পড়ে। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন মেয়র জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর এক বছর কেটে গেলেও সে প্রতিশ্রুতির কিছুই পূরণ হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকার রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি হয়। রাস্তায় নামা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। গণপরিবহনের স্বল্পতা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে। ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় বৃষ্টির পর পানি নিষ্কাশনে সময় লাগে। জলাবদ্ধতার কারণে গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন আটকে থাকে। মালিবাগ-শান্তিনগর, ইস্কাটন, আরামবাগ, মতিঝিল, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী মোড়, বাড্ডা, নাখালপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় ভারী এমনকি মাঝারি বৃষ্টি হলেই পানি জমে। পূর্ব রামপুরার কিছু গলিতে হাঁটুপানি হয় সামান্য বৃষ্টিতেই। চট্টগ্রামে বৃষ্টি হলেই নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির সময় জোয়ারের পানি প্রবেশ করলে এলাকাবাসীর জন্য তা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে বিবেচিত হয়। ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থী, পথচারীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। গত সপ্তাহে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পানি জমে যায় বেশ কিছু সড়ক, উপসড়ক, বাই লেনে। নগরীর বৃহত্তর বাকলিয়ার বিভিন্ন এলাকা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, ষোলশহর ২ নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর, বাদুড়তলা, চান্দগাঁওয়ের বিভিন্ন ব্লক, চকবাজার, শুলকবহর, আগ্রাবাদ, বৃহত্তর হালিশহরসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার হতশ্রী অবস্থা দেশের দুই বৃহত্তম নগরীর দুই কোটিরও বেশি মানুষের জন্য যে দুর্ভোগ বয়ে আনছে, তা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।




up-arrow