Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২১ জুন, ২০১৬ ২৩:৫২
টিকিট যেন সোনার হরিণ
হয়রানির শিকার ঘরমুখো যাত্রীরা

ঈদের অগ্রিম বাস টিকিট ছাড়ার প্রথম দিনেই গত মঙ্গলবার রাজধানীর সব বাস কাউন্টার থেকে টিকিট উধাও হয়ে গেছে। বলা হচ্ছে সব টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে কাউন্টার থেকে। বাসের টিকিট যেন সোনার হরিণ। গতকাল প্রথম দিন সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল, কল্যাণপুর এবং মিরপুর মাজার রোডের কাউন্টারগুলোয় দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের টিকিটপ্রত্যাশীদের ছিল দীর্ঘলাইন। কাউন্টারে ভিড় করা যাত্রীদের অধিকাংশই টিকিট পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বাস কাউন্টারে টিকিট না পাওয়া গেলেও কালোবাজারে অভাব নেই। ৫০০ টাকার বদলে ৮০০ টাকা দিলেই টিকিট চলে আসছে ক্রেতার হাতে। বাস কাউন্টারে টিকিট না থাকায় যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ছোটাছুটি করছেন। টিকিটের জন্য অনেককে হাহুতাশও করতে দেখা গেছে। চলতি বছর অনলাইনেও বাসের টিকিট কিনেছেন অনেকে। তবে সে ক্ষেত্রেও অভিযোগ রয়েছে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বিক্রি হয়ে গেছে নির্ধারিত টিকিট। রাজধানীর অন্য সব বাস টার্মিনালে বাসের টিকিটের জন্য হাহাকার লক্ষ্য করা গেলেও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে নেই আগাম টিকিট সংগ্রহের ভিড়। সাধারণত সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রয়োজন হয় না। পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে পর্যাপ্ত গাড়ি থাকায় সেখানকার কাউন্টারে সব সময়ই টিকিট পাওয়া যায়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা আমাদের দেশের প্রচলিত রীতি। এ জন্য যত কষ্ট হোক, যত বাড়তি অর্থ হোক তার বিনিময়েও পরিবহন টিকিট পেতে উন্মুখ থাকে ঘরমুখো যাত্রীরা। ঈদ উপলক্ষে দূরপাল্লার পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সে তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই অবস্থার সৃষ্টি হয়। চলতি বছর টিকিট বিক্রির ব্যবস্থাপনায় বৈচিত্র্য এলেও কীভাবে কালোবাজারিদের কাছে টিকিট চলে যাচ্ছে সে সদুত্তর কারও কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। টিকিট কালোবাজারি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো যথার্থ ভূমিকা রাখলে কালোবাজারি অনেকাংশে বন্ধ করা যাবে। কালোবাজারি বন্ধে দূরপাল্লার বাসের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবা যেতে পারে।




up-arrow