Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৩
পবিত্র রমজানে এতিম ও বিধবার প্রতি সহানুভূতি
মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

ইসলাম দান-অনুদানের প্রতি উৎসাহিত করেছে। বিশেষভাবে পবিত্র রমজান মাসে দান করার ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি।

আমাদের সমাজ ও সংসারে যারা এতিম ও বিধবা তাদের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য। রমজান মাসে এই মর্যাদাপূর্ণ কাজটি আমরা সহজেই করতে পারি। ব্যক্তিগত অনুদান, জাকাত ও ফিতরা দিয়ে বিভিন্নভাবে আমরা এতিম বিধবাদের পাশে দাঁড়াতে পারি। হাদিসের কিতাবগুলোতে এতিম ও বিধবাকে দান করার ব্যাপারে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবি হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, বিধবা ও অসহায়দের যারা অভিভাবক হবে এবং দায়-দায়িত্ব পালন করবে তাদের সম্পর্কে রসুল (সা.) বলেন, ‘বিধবা ও অসহায়দের তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জেহাদকারীর মতো’ (অর্থাৎ যারা অসহায় ও বিধবার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াবে তারা        আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার মতো সওয়াব পাবে)। হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন, আমার ধারণা আল্লাহর রসুল (সা.) এও বলেছেন যে, (বিধবা ও অসহায়দের তত্ত্বাবধানকারীর মর্যাদা) ওই ব্যক্তির মতো, যে অলসতা না করে সারা রাত জেগে ইবাদত করে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন রোজা রাখে। বুখারি ও মুসলিম। এই হাদিস দ্বারা বিধবা ও অসহায়দের দায়িত্ব বহনকারী ব্যক্তির ফজিলত ও মর্যাদা বোঝা গেল। প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন, আমি এবং এতিমের অভিভাবক জান্নাতে এভাবে থাকব। এই কথা বলে তিনি হাতের শাহাদাত ও মধ্যমা এই দুই আগুল দ্বারা ইশারা করলেন এবং উভয়ের মাঝে কিঞ্চিৎ ফাঁক রাখলেন। (অর্থাৎ হাতের দুই আঙ্গুল যেমন পাশাপাশি তেমনি রসুল (সা.) ও এতিমের অভিভাবক একসঙ্গে জান্নাতে থাকবে) বুখারি শরিফ। অপর হাদিসে এরশাদ হচ্ছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো এতিমের মাথায় হাত বুলাবে যেসব চুলের ওপর দিয়ে তার হাত অতিক্রম করবে এর প্রতিটির বিনিময়ে তার জন্য সওয়াব লেখা হবে। আর যে ব্যক্তি তার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত এতিম বালক-বালিকার সঙ্গে ভালো আচরণ করবে, আমি ও সেই ব্যক্তি বেহেশতে এই দুটির মতো একত্রে থাকব। এই কথা বলে তিনি নিজ হাতের আঙ্গুল দুটি মিলালেন। ’ মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি। এতিমদের লালন-পালন করা যে মহা সওয়াবের কাজ এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে এসেছে, যে ঘরে এতিম লালিত পালিত হয় সেই ঘর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ঘর। এই প্রসঙ্গে বিশ্ব মানবতার মুক্তির অগ্রদূত হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরও বলেন, ‘মুসলমানদের সেই ঘরটি সর্বোত্তম, যেখানে কোনো এতিম আছে এবং তার প্রতি ভালো ব্যবহার করা হয়। আর মুসলমানদের সেই ঘরটি সর্বাপেক্ষা মন্দ যাতে কোনো এতিম আছে অথচ তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। ’ ইবনে মাজাহ। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের পবিত্র রমজান মাসে এতিম ও বিধবার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানোর তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow