Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৫
কোরআন তেলাওয়াত
ধর্মতত্ত্ব
মহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহ্মূদুল হাসান

কোরআন আল্লাহর পবিত্র কালাম। রমজানের মোবারক মাসে এটি অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব রমজান মাসের সঙ্গে রয়েছে কোরআনের নিবিড় সম্পর্ক। এই মাসে কোরআনের হক আদায় করা অত্যন্ত জরুরি। রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : ‘রোজা এবং কোরআন বান্দার শাফায়াত করবে। ’ বুখারি শরিফের একটি হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে অন্য মাসের তুলনায় বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতেন। এই মাসে কোরআন তেলাওয়াত বা শ্রবণ করলে তেলাওয়াতকারী ও শ্রবণকারীর ওপর বেশুমার নূর বর্ষিত হয়। হজরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.) (মৃ. ১৫০ হি.) রমজান মাসে দিনের বেলায় এক খতম রাতের বেলায় এক খতম ও সমস্ত রমজান মাসে আরেক খতম, মোট ৬১ খতম করতেন। ফিক্বাহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে লিখিত রয়েছে যে, তারাবির নামাজ পড়া যেমন সুন্নত, তেমনি তারাবিতে এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করা এবং শ্রবণ করাও সুন্নত। আরও অধিক খতম করতে পারলে নূরুন আলা নূর। কোরআনে কারিম যেনতেন প্রকারে তেলাওয়াত করে সমাপ্ত করা নয় তেলাওয়াতের সময় স্পষ্টভাবে শব্দ উচ্চারণের দিকে লক্ষ্য রাখা একান্ত বাঞ্ছনীয়। তেলাওয়াতে কোরআনের সময় নিম্নের আয়াতসমূহের প্রতি লক্ষ রাখা অত্যাবশ্যক।   ১. ওরাত্তিলিল কোরআনা তারতিলা। অর্থাৎ কোরআনকে ধীরে ধীরে আবৃত্তি করুন। ২. লিতাকরাআহু আলাননাসি আলা মুকসিন। অর্থাৎ আমি কোরআনকে আপনার ওপর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের সামনে থেমে থেমে পাঠ করেন। ৩. কিতাবুন আনজালনাহু ইলাইকা মোকারকুল লিয়াদাব্বারু আইয়াতিহি।

অর্থাৎ আপনার উপরে বরকতময় কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি প্রদর্শনকৃত রাস্তা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   অতএব, তারাবির নামাজ ও কোরআন মজিদের তেলাওয়াত উভয়ের পূর্ণ হক আদায় করা ও আদব রক্ষার প্রতি মনোনিবেশ করা একান্ত প্রয়োজন। নামাজের ফারায়েজ, ওয়াজেবাত, সুন্নাত, মুস্তাহাব্বাত— যথা, রুকু, সিজদা, তাসবিহ্-তাহলিল, আত্তাহিয়্যাতু, দোয়া-দরুদ প্রভৃতি আহকাম-আরকান ঠিকমতো আদায় করা, তেলাওয়াতের পূর্ণ হক আদায় করা, কোরআনকে শাহী কালাম মনে করে ধীরে-সুস্থে শ্রদ্ধা ও ভক্তিসহকারে পাঠ করা একান্ত বাঞ্ছনীয়। কতক মুসল্লিকে দেখা যায়, তারা নামাজ বাদ দিয়ে বসে সময় কাটাতে থাকে, আর যখনই ইমাম সাহেব রুকুর জন্য ‘আল্লাহ আকবর’ বলে ওঠেন, তখন হুড়মুড় করে রুকুতে শামিল হয়। এটা নেহায়েত বেআদবি আচরণ। এহেন আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে পরহেজ করা উচিত।

লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow