Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ জুন, ২০১৬ ২২:৪১
ধর্মতত্ত্ব
কাবা প্রাঙ্গণে রসুল (সা.)-এর একটি মূল্যবান ভাষণ
কাবা প্রাঙ্গণে রসুল (সা.)-এর একটি মূল্যবান ভাষণ

আল্লাহতায়ালার তসবিহ ও পবিত্রতা বর্ণনা করার পর। হে মানুষ! আমি তোমাদের রহম ও করমের নসিহত করছি এবং উত্তম কথা দিয়ে শুরু করছি। আমি যা বলছি তা মনোযোগসহকারে শোন। আমার রব বলেন, ‘আমি রহম ও করম পছন্দ করি। যে বেরহম সে আমার রহমত থেকে বঞ্চিত। ’ আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া কত বড় বিপদ তা কি তোমরা উপলব্ধি করেছ? হে আল্লাহর বান্দাগণ! আমি তোমাদের সতর্ক করছি, আল্লাহ তার ওপর রহম করেন না, যে অন্যের ওপর রহম করে না। অর্থাৎ তোমরা যদি আল্লাহর মাখলুকের ওপর দয়া না কর তাহলে আল্লাহও তোমাদের ওপর রহম করবেন না, যার রহম-করমের তোমরা সব সময় মুখাপেক্ষী। তাই তোমাদের কর্তব্য হলো অন্যের ওপর রহম করা, যাতে তোমাদের ওপরও রহম করা হয়। আমি এক বে-রহম ব্যক্তিকে দেখেছি। আমি একবার ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে সিরিয়ার পথে ছিলাম। এক জালিমকে গরিবদের ওপর জুলুম করতে দেখে ব্যথিত হয়েছি। সে তাদের রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে তাদের মাথায় তেল ঢালছিল। আমি এর কারণ জানতে চাইলে লোকেরা বলল : খিরাজ উশুল করার জন্য এ জুলুম করা হচ্ছে। এ দৃশ্যে আমি ব্যথিত হয়েছি। যে মহামহিম আল্লাহর হাতে আমার জীবন, তার শপথ করে বলছি : রহমশীল ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, হক তা’আলা তাদের আজাব দেবেন, যারা দুনিয়াতে মানুষকে কষ্ট দেয়। আমার রবের ফরমান : তোমরা যদি আমার রহমের প্রত্যাশী হও, তাহলে তোমরা আমার মখলুকের ওপর রহমশীল হও।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! মনে রাখ, মানুষের কল্যাণ সাধন রহম-করমের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বেরহম ও কঠিন-হৃদয় ব্যক্তি কারও উপকার করতে পারবেন না। তার থেকেই মঙ্গল পৌঁছতে পারে, যার দিলের মধ্যে রহম রয়েছে। অন্য কথায়, দয়াশীলতার উত্কৃষ্ট প্রকাশ মানুষের কল্যাণ সাধন। অতঃপর উদাহরণস্বরূপ কিছু কথা বলছি। এক বিকলাঙ্গ রোগীর প্রতি রহম করার অর্থ হচ্ছে তার চিকিৎসা ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা। এটার নাম রহম। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করাও রহম। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করাও রহম। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সে-ই দূর করবে, যার দিলের মধ্যে রহম রয়েছে। বেরহম ও জালিম ব্যক্তি এটা করতে পারে না। অতএব, তোমরা জালিমের অনুসরণ কর না। বরং রহম-দিল হও।

হে মানুষ ! যে বিধবা এবং মিসকিনের সাহায্যের জন্য কোশেশ করে এবং তাদের প্রতি রহম করে সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী ও রাত জেগে সালাত আদায়কারীর সমতুল্য।

আমি তোমাদের ইয়াতিমের প্রতি রহম করার হিদায়াত করছি। তোমাদের অধীনস্থদের সঙ্গে এরূপ ব্যবহার কর, যেরূপ তোমরা তোমাদের সন্তানদের সঙ্গে করে থাক। জেনে রাখ, যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইয়াতিমের মাথায় হাত বুলাবে, তার প্রতিটি চুলের হিসাবে তাকে কল্যাণ দান করা হবে। যে ঘরের মধ্যে ইয়াতিমের সম্মান করা হয়, সে ঘর হচ্ছে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

হে মানুষ! বাকহীন পশুর সঙ্গেও রহম কর। যখন তোমরা এদের সফরে নিয়ে যাও তখন তাদের ওপর সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দিও না তাদের সঙ্গে ইনসাফ কর এবং ইনসাফ করার অর্থ হচ্ছে, যে পরিমাণ বোঝা তারা বহন করতে পারবে তার চেয়ে বেশি চাপিয়ে তাদের কষ্ট দিও না। এক মনজিলের পরিবর্তে দুই মঞ্জিল চলতে বাধ্য কর না। তাদের দানা-পানির প্রতি খেয়াল রেখ। এমন কোনো স্থানে তাদের রেখো না, যেখানে ঘাস, পানি ইত্যাদি নেই। পিপাসার্ত হলে তাদের পানি দিও। প্রত্যেক পিপাসার্ত প্রাণীকে পানি পান করানো পুণ্যের কাজ। যেখানেই হোক, ছায়াদানকারী গাছ কাটবে না। কেননা তা সৃষ্ট জীবের উপকার সাধন করে। আমি মনে করি না যে, পুকুর ও নদীতে কারও মালিকানা রয়েছে। যে কোনো ব্যক্তি তা থেকে ফায়দা হাসিল করতে পারে এবং এ ব্যাপারে কেউ কাউকে বাধা দিতে পারে না। আমি তোমাদের বলছি : কোনো প্রাণীকে আগুনে পোড়াবে না। কাউকে নির্দয়ভাবে প্রহার করবে না। কারও হাত, পা, নাক, কান কাটবে না। অন্যের জন্তু-জানোয়ার যেসব ময়দানে বিচরণ করে, সেসব বরবাদ করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়। যে পুকুর বা কুয়ার পানি থেকে মানুষ উপকৃত হয় তা বন্ধ করে দেওয়া কোনোরূপ বৈধ নয়। যেসব কয়েদি তোমাদের অধীন, তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার কর না। তারা তোমাদের ভাই। তোমরা যা খাও তা তাদের খেতে দাও : যা তোমরা পরিধান কর তা তাদেরও পরতে দাও।

যখন তোমরা বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ কর তখন তাদের সন্তানদের ওপর রহম কর। বিকলাঙ্গ এবং অক্ষম মানুষকে সম্মান করবে এবং স্ত্রীলোকের ওপর হাত উঠাবে না, তাদের ইজ্জতের হিফাজত করবে। দুনিয়ার সব লোক আল্লাহর মখলুক। আল্লাহর মখলুকের সঙ্গে যে ভালো ব্যবহার করে সে আল্লাহর প্রিয়। সেই ব্যক্তি উত্তম, যার দ্বারা লোকের উপকার হয় এবং সেই ব্যক্তি অধম, যার দ্বারা লোকের উপকার সাধিত হয় না। আমি পুনরায় তোমাদের বলছি : তোমরা যদি আল্লাহর সৃষ্ট জীবের ওপর রহম না কর, আল্লাহও তোমাদের ওপর রহম করবেন না। অথচ প্রতিটি মুহূর্ত তোমরা আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। আমি তোমাদের আল্লাহর পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি।   যারা উপস্থিত রয়েছে তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে এ পয়গাম পৌঁছে দেয়।

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

গ্রন্থনা : মাওলানা মুহম্মাদ জিয়াউদ্দিন

এই পাতার আরো খবর
up-arrow